শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

লেবাননে বিস্ফোরণ: বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২১ সদস্য আহত

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২১ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। আহত ২১ সদস্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বিএনএস বিজয়ে অবস্থান করছিলেন। বিস্ফোরণে জাহাজটিও সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

আইএসপিআর এর সহকারী তথ্য অফিসার (নৌবাহিনী ডেস্ক) এস এম শামীম আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৯ জন সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে, একজনের অবস্থা গুরুতর।

নৌবাহিনী জানিয়েছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে মেরিটাইম টাস্কফোর্সের অধীনে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ ‘বিজয়’–এ ছিলেন তাঁরা। আহত অন্যদের ইউনিফিলের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হেলিকপ্টার বা অ্যাম্বুলেন্সে করে হামুদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা শঙ্কামুক্ত। শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আহত নৌসদস্যদের চিকিৎসা চলছে।

নৌবাহিনী জানিয়েছে, এ দুর্ঘটনায় নৌবাহিনীর জাহাজ বিজয়ের বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নৌবাহিনীর জাহাজ, ইউনিফিল সদর দপ্তর ও বৈরুতে বাংলাদেশি দূতাবাসের সঙ্গে নৌবাহিনী সদর দপ্তরের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইউনিফিল হেড অব মিশন এবং ফোর্স কমান্ডার ও মেরিটাইম টাস্কফোর্স কমান্ডার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

বিস্ফোরণের অব্যবহিত পরই বৈরুতে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আল মোস্তাহিদুর রহমান সরেজমিনে বানৌজা বিজয় পরিদর্শন করেন এবং আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে স্থানান্তর ও যথাযথ চিকিৎসা প্রদানে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করেন।

লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেড অব চ্যান্সারি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, বিস্ফোরণে সাধারণ কোনো বাংলাদেশি নিহত বা আহত হননি। তবে কয়েকজন সামরিক বাহিনীর সদস্য কিছুটা আহত হয়েছেন।

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বৈরুতে অবস্থান করা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজে মোট ১১০ সদস্য ছিল। কিন্তু ঘটনাটি সন্ধ্যার আগ দিয়ে হওয়ায় ওই সময় অনেকেই জাহাজে ছিলেন না।

বাংলাদেশ দূতাবাসের হেড অফ চ্যান্সারি জানান, আহতের সংখ্যা অনন্ত ১০ জন। এদের মধ্যে দুইজন গুরুতর জখম হয়েছেন, বাকিরা কানে ও মাথায় ব্যথা পেয়েছেন। খবর পেয়েই রাষ্ট্রদূতসহ আমরা বন্দর এলাকায় পৌঁছে যাই এবং আহত বাংলাদেশিদের হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়।

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জোড়া বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১০০ জন নিহত এবং প্রায় চার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।

লেবাননের রাষ্ট্র-পরিচালিত ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জোড়া বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা বৈরুত শহর। বিস্ফোরণ অনুভূত হয়েছে দেড়শো কিলোমিটার দূর পর্যন্ত। প্রথম দিকে বিষয়টিকে ভূমিকম্প ভেবেছিল সেন্ট্রাল বৈরুতের বাসিন্দারা।

লেবাননের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আল জাজিরাকে বলেছেন, বন্দরে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুদ করা ছিল। তা থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব এই বিস্ফোরণকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছেন।

এদিকে, বিস্ফোরণে হতাহতদের প্রতি শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে দেশটিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া দেশটিতে চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে কাতার, ইরাক ও কুয়েত।

লেবাননের সংবাদমাধ্যম ‘দ্যা৯৬১’ এর এক প্রতিবেদনে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের বিষয়টি জানানো হয়। বৈরুত বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে লেবানন- এমন শিরোনামে তারা সংবাদ প্রকাশ করেছে।

লেবাননের সংবাদ সংস্থা এনএনএ নিউজ এজেন্সি বলছে, বুধবার বৈরুতে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট দুটি ফিল্ড হাসপাতাল পাঠাবে কাতার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভয়াবহ এই সঙ্কটে সহায়তা করতে একটি ফিল্ড হাসপাতাল এবং তেল পাঠাবে ইরাক।

কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল ওনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। লেবাননের পাশে থাকার এবং মেডিকেল সহায়তা দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তাছাড়া কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ নাওয়াফ আল-আহমাদ আল জাবের আল-সাবাহ লেবাননে জরুরি মেডিকেল সহায়তা পাঠাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত