শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

স্থায়ী কমিটির চার শূন্য পদ পূরণ হবে কবে বিএনপির ?

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ১৯ সদস্যের জাতীয় স্থায়ী কমিটির ১৭ ও ১৮ নম্বর পদ দু’টি শূন্য রেখে ২০১৬ সালের ৬ আগস্ট ১৭ সদস্যের নাম ঘোষণা করে বিএনপি। ২০১৯ সালের ২০ জুন ওই দুই শূন্য পদে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে মৃত্যু এবং রাজনীতি থেকে অবসরজনিত কারণে স্থায়ী কমিটির ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর পদ এখন শূন্য। কবে নাগাদ এই চার শূন্য পদ পূরণ করা হবে— সেদিকেই তাকিয়ে আছেন এসব পদের জন্য আগ্রহী নেতারা।
২০১৬ সালের ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সাড়ে চার মাস পর ঘোষিত স্থায়ী কমিটিতে ক্রমানুসারে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরুউদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, আ স ম হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহ উদ্দিন আহমেদ।
ক্রমানুসারে সালাহ উদ্দিন আহমেদ স্থায়ী কমিটির ১৯ নম্বর সদস্য। তার আগের ১৭ ও ১৮ নম্বর পদ দু’টি শূন্য রাখা হয়। ওই দুই শূন্য পদেই সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় বছরখানেক আগে।
কিন্তু এরই মধ্যে তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও এম কে আনোয়ারের মৃত্যুতে স্থায়ী কমিটির ৬, ৮ ও ৯ নম্বর পদ এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ায় স্থায়ী কমিটির সাত নম্বর পদটি শূন্য হয়েছে। অবশ্য মৃত্যুজনিত কারণে শূন্য হওয়া পদ তিনটিকেই ফাঁকা হিসেবে বিবেচনা করে বিএনপি। অবসরজনিত কারণে শূন্য হওয়া পদটিকে পূর্ণই মনে করে তারা।
তবে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। আর কত? এখন আমার বয়স ৮০ বছর। একটু নিরিবিলি থাকতে চাই, স্রষ্টাকে ডাকতে চাই।’
এদিকে ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির ১৫টি পদে লোক থাকলেও এদের মধ্যে অন্তত চার জন সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারছেন না বৈঠকে। স্থায়ী কমিটির এক নম্বর সদস্য বেগম খালেদা জিয়া গত আড়াই বছর ধরে রাজনীতি থেকে দূরে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সাময়িক মুক্তি পেলেও দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারছেন না।
স্থায়ী কমিটির দুই নম্বর সদস্য তারেক রহমান গত ১২ বছর ধরে লন্ডনে রয়েছেন। স্কাইপের মাধ্যমে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যুক্ত হন তিনি। তার সভাপতিত্বেই অনুষ্ঠিত হয় বৈঠক। স্থায়ী কমিটির ১০ নম্বর সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সঙ্গত কারণেই দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি যুক্ত হতে পারছেন না।
স্থায়ী কমিটির ১৯ নম্বর সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ গত পাঁচ বছর ধরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে আছেন। ২০১৫ সালে বিএনপির অনির্দিষ্টকালের অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি চলাকালে তিনি নিখোঁজ হন। বেশ কয়েক মাস পর শিলংয়ে তার হদিস মিললেও অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীকালে মামলায় জিতলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় শিলংয়েই থাকতে হচ্ছে তাকে।
অর্থাৎ স্থায়ী কমিটির ১৫ সদস্যের মধ্যে সক্রিয় আছেন মাত্র ১১ জন। ফলে মাঝে-মধ্যেই স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কোরাম সংকট দেখা দেয়। এমন বাস্তবতায় শূন্য পদ পূরণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। মাঝে-মধ্যে দলীয় পরিমণ্ডলে এ নিয়ে আলোচনাও হয়।
দলীয় সূত্রমতে, শূন্য চারটি পদের জন্য অন্তত ডজন খানেক নেতা অপেক্ষায় রয়েছেন। এরা সবাই জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এদের মধ্যে বর্ষীয়ন রাজনীতিক সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহমেদ, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, ডা. এ জে এম জাহিদ হোসেন এগিয়ে রয়েছেন। স্থায়ী কমিটির শূন্য চারটি পদ পূরণ করা হলে এদের ভেতর থেকেই চার জনকে বেছে নেবে বিএনপির হাইকমান্ড।
তবে কবে নাগাদ শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে, সেটি কেউ বলতে পারছেন না। করোনা সংকটের কারণে স্থায়ী কমিটির শূন্য পদে লোক অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারপরও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অথবা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চাইলে যেকোনো সময় স্থায়ী কমিটির শূন্য পদে পূরণ হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘করোনার কারণে আমাদের সাংগঠনিক কাজ, বিশেষ করে কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়টি স্থগিত আছে। সে কারণে স্থায়ী কমিটির শূন্য পদে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা নেই।’
উল্লেখ, ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে গঠনতন্ত্র সংশোধন ১৩ সদস্য থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৯-এ উন্নীত করা হয়। ষষ্ঠ কাউন্সিলের প্রায় সাড়ে চার বছর পার হয়ে গেলেও চারটি পদ এখনো শূন্য।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত