শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

মুজিববর্ষে আমাদের লক্ষ্য একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না দেশে: প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা জাতির পিতার সেই স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাচ্ছি। আর সেই লক্ষ্য আমাদের অর্জন করতে হবে। এভাবে আমাদের সমস্ত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। কাজেই জাতির পিতার এই জন্মশতবর্ষে আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। প্রত্যেক মানুষকে যেভাবে পারি, একটা চালাও করে দিতে পারলে সেটা আমরা করে দেবো।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ৬০০ জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ‘ড্রিম প্রজেক্ট’ খ্যাত বিশেষ এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপকারভোগী ফ্ল্যাটের মালিকানা তারা বুঝে পেলেন নামমাত্র ১ হাজার এক টাকায়।

গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আহমেদ কায়কাউস তিনি একটি সংক্ষিপ্ত পটভূমি তুলে ধরেন এরপর একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, কক্সবাজার আমাদের পর্যটক এলাকা। কক্সবাজার সৈকতে বিশাল ঝাউবন এটা জাতির পিতার নির্দেশেই করা হয়েছিল যেন প্রাকৃতিক জলোচ্ছাস থেকে কক্সবাজার শহরটা রক্ষা করা যায়। জাতির পিতার সেই স্বপ্ন কক্সবাজারটাকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাই পর্যটন শহর হিসেবে।

তিনি বলেন, আমাদের সমুদ্র সৈকতটা সারাবিশ্বের মধ্যে সব থেকে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। এত সুন্দর, এত দীর্ঘ এবং যেখানে বালু আছে, বালুময় সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর আর কোনো দেশে নেই। এত চমৎকার একটা জিনিস সেটা দেশের মানুষ এবং বিশ্বব্যাপী সবাই যেন উপভোগ করতে পারেন সে লক্ষ্য নিয়ে এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নিই। বিমানবন্দরটাকে এমনভাবে উন্নত করতে চাই যেখানে হয়তো সারাবিশ্ব থেকে অনেকে আসতে পারবে, যত বড় বিশাল বিমান হোক নামতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দর নির্মাণ করতে গিয়ে দেখলাম জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবং ঘূর্ণিঝড় জলচ্ছাসের কারণে অনেকে ঘরবাড়ি, ভিটামাটি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে আছেন। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম তাদের পুনঃবাসন করব। সেই চিন্তা থেকেই এই প্রকল্প। এখানে নতুন শহরের মধ্যে মানুষ বসবাস করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন ২০টি ভবন করা হয়েছে, ভবিষতে বাকি ভবন করা হবে। এখানে সব কিছু থাকবে, সেখানে ১৪টা খেলার মাঠ, সবুজ এলাকা থাকবে, মসজিদ, মন্দির থাকবে অন্য ধর্মালম্বী যদি থাকে তাদের প্রার্থনার জায়গাও থাকবে। স্কুল থাকবে, প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্কুল করে দেব। সেখানে পুকুর খনন করা হয়েছে সেখান থেকে সুপেয় পানি খেতে পারবেন। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ফাঁড়ি করা হবে, ফায়ার স্টেশন থাকবে। দুটো জেটি করা হবে যেখানে জাহাজ ভাঙতে পারবে। তাছাড়া মাছ ধরতে যায়, তারা মাছ ধরে যেন শুটকি শুকাতে পারে সেজন্য শুটকি শুকানোর জায়গা করে দেবো, সুন্দর বাজার করে দেবো। সুন্দর শুটকির হাট করে দেবো, সেটা একটা দৃষ্টি নন্দন করব। আধুনিকভাবে করে দেব যেন সেখানে মানুষ দেখতে যান।

তিনি বলেন, এছাড়া স্যোলার প্যানেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যুৎতের জন্য সাব স্টেশন করা হবে। বর্জ্য ব্যবস্থা করতে হবে। তাছাড়া বাকখালী নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে গেছে, একটা প্লেস নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে চারটি সাইক্লোন সেন্টার করা হবে। যে ভবন করা হয়েছে সেগুলোর নিচ তলা সম্পূর্ণ ফাঁকা অর্থাৎ জলোচ্ছাস হলে পানি যেন এদিক থেকে ওদিকে চলে যেতে পারে।

তিনি বলেন, কক্সবাজারে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। শুধু এখানে নয় দেশের কোথায় গৃহহীন, ভূমিহীন মানুষ আছে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা এতদিন যেভাবে ছিলেন কষ্টের মধ্যে। আমি নিজে গিয়েছি, দেখেছি। কাজেই এখন আপনারা সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারবেন। আপনাদের ছেলেমেয়েরা মানুষ হবে, বড় হবে। সেটাই আমরা চাই। সেদিকে লক্ষ্যে রেখেই ব্যবস্থা নিয়েছি। শুধু এখানে বলেই না, সারাদেশেই আমরা কোথায় গৃহহীণ ভূমিহীন মানুষ আছে। তাদেরকে আমরা পুর্নবাসনের ব্যবস্থা নিচ্ছি।

আমরা আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর করে দিচ্ছি। পাশাপাশি যাদের জমি আছে তাদেরও ঘর করে দেওয়ার জন্য গৃহায়ণ তহবিল নামে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটা তহবিল করা আছে। সেখান থেকে যেকোন প্রতিষ্ঠান টাকা নিয়ে ঘর করতে পারে।

অর্থাৎ আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা জাতির পিতার সেই স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাচ্ছি। আর সেই লক্ষ্য আমাদের অর্জন করতে হবে। এভাবে আমাদের সমস্ত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কাজেই জাতির পিতার এই জন্মশতবর্ষে আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। প্রত্যেক মানুষকে আমি যেভাবেই পারি, একটা চালাও করে দিলেও সেটা আমরা করে দিব। এটাই আমাদের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। কক্সবাজার প্রান্তে প্রকল্প এলাকায় ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিরা। উদ্বোধন শেষে কয়েকজন উপকারভোগীর হাতে ফ্লাটের চাবি হস্তান্তর প্রক্রিয়া করা হয়। এরপর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় তিনজন উপকারভোগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তিনটি বৃক্ষ রোপন করেন।

এরপর গণভবন প্রান্ত থেকে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্প এলাকায় জেলা প্রশাসক কামাল হোসনে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। সেখানে তিনজন উপকারভোগীর কথা শুনে কথা শোনা হয়। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের একজন স্থানীয় নারীর কণ্ঠে গান উপভোগ করেন।

সবশেষে প্রকল্পের নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর দশম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং এরিয়া কমান্ডার মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। গণভবনে প্রান্তে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকল্প এলাকার একটি স্মারক প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত