শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

সাময়িক বরখাস্ত হচ্ছেন স্বাস্থ্যর (হাসপাতাল) পরিচালক আমিনুল ইসলাম

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের পদত্যাগের ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই অধিদফতরের পরিচালক, উপ-পরিচালক পদমর্যাদার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বদলি ও সাময়িক বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল) আমিনুল ইসলামকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।

বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে এই তথ্য জানান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি (আমিনুল হাসান) আর এই পদে থাকছেন না, এটি নিশ্চিত। আজকের মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে।’

রিজেন্ট হাসপাতাল এবং জেকেজির হেলথ কেয়ারের হাসপাতাল পরিচালনা ও নমুনা সংগ্রহের অনুমতি প্রদানের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আজকালের মধ্যেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে আদেশ জারি হতে পারে। বুধবার (২২ জুলাই) মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রিজেন্ট হাসপাতাল এবং জেকেজি হেলথ কেয়ারের কেলেঙ্কারির ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরে ব্যাপক সংস্কারের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কমপক্ষে এক ডজনেরও বেশি কর্মকর্তার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ক্রমান্বয়ে তাদের বদলি কিংবা বরখাস্ত করা হবে বলে সূত্র জানায়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিতর্কের মুখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ গতকাল মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন। চুক্তিতে থাকা আবুল কালাম আজাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আজ সকালে জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন প্রথম আলোকে এই তথ্য জানান।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আবুল কালাম আজাদের চলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই ছিল। অপসারিত হওয়ার চেয়ে পদত্যাগ সম্মানজনক। আবুল কালাম আজাদ পদত্যাগের সুযোগ নিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ সব সময় ছিল। করোনা মহামারির সময় এসব অভিযোগ আরও বড় আকারে দেখা দেয়। স্পষ্ট হয়ে ওঠে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের অদক্ষতা, ব্যর্থতা। জেকেজি ও রিজেন্টের দুর্নীতিতে মানুষ হতবাক হয়। কিছু মানুষ মনে করে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জড়িত না থাকলে এই মাত্রার দুর্নীতি করা সম্ভব না। কিছু মানুষ মনে করে, দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত না থাকলেও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দায় এড়াতে পারেন না।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত