রবিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

ঈদের আগে-পরে ১৪ দিন সড়কে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

জনস্বার্থে ঈদের আগের সাত দিন ও পরের সাত দিন ফ্লাইওভার-আন্ডারপাসসহ চলমান কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে সড়ক মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আজকের এ সভায় উপস্থিত প্রধান প্রকৌশলী, বিভিন্ন জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালকদের অবিরাম বৃষ্টি উপেক্ষা করে সংযুক্ত হওয়ার জন্য জানাচ্ছি আন্তরিক ধন্যবাদ। বিশেষ করে নবনির্মিত সড়ক ভবনে আজ প্রথম ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটি আমাদের অনেক প্রত্যাশার ভবন। আমি ভবন নির্মাণের সাথে যুক্ত সকলকে জানাচ্ছি অভিনন্দন।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন ১ আগস্ট উদযাপিত হতে যাচ্ছে ঈদুল আজহা। কঠিন এক বাস্তবতায় আমরা এবার ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছি। একদিকে বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি। অন্যদিকে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়া বন্যা। সরকার নানা দিক বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থে গণপরিবহন চলাচল অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই করোনার পাশাপাশি শ্রাবণের অবিরাম বৃষ্টি সড়ক-মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষা এবং তাৎক্ষণিক মেরামতে অতীতের মতো সড়ক ও জনপথ বিভাগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের ঈদযাত্রা করতে হবে নির্বিঘ্ন।’

এ সময় সড়ক-মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে মন্ত্রী জানতে চান বৃষ্টি ও বন্যায় সড়ক-মহাসড়কে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে কি না। পাশাপাশি সড়কের গর্ত মেরামতে মোবাইল ট্রাক প্রস্তুত আছে কি না।

সড়ক মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, একেক জোনের বাস্তবতা একেক রকম। গাড়ির চাপ মহাসড়ক ভেদে ভিন্ন। তাই আমি চাই, আপনারা জোনভিত্তিক ও আন্তঃজোন সমন্বয় করে পরিকল্পনা গ্রহণ করুন।

তিনি বলেন, মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হতে পারবে না। বৃষ্টি যেন অজুহাত হিসেবে না আসে। গর্ত হওয়ার সাথে সাথে মেরামত করুন। না হয় জনভোগান্তি বাড়াবে। কথায় বলে, সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা জোনের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি বলে মনে করি। এক্সিট পয়েন্ট, বিশেষ করে ভুলতা, নবীনগর, চন্দ্রা, গাজীপুরের পুরো করিডোর, নবীনগর-চন্দ্রা করিডোর, টঙ্গী, কালিয়াকৈর-চন্দ্রা করিডোর ব্যবস্থাপনায় নজর দিতে হবে। পুলিশের সহযোগিতা নিতে হবে। এসব এলাকায় গাড়ি থামতে দেয়া যাবে না। প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক বা কমিউনিটি পুলিশের সাপোর্ট নিতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত সড়ক-মহাসড়কের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং যেকোনো মূল্যে সড়ক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ঈদের আগের সাত দিন ও পরের সাত দিন ফ্লাইওভার-আন্ডারপাসসহ চলমান কাজ বন্ধ রাখুন জনস্বার্থে। আপনারা জানেন, সরকার ইতোমধ্যে ঈদে কর্মস্থল ত্যাগ না করার জন্য নির্দেশনা জারি করেছে। তাই, আপনারা নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন।

তিনি বলেন, প্রত্যেক জোন, সার্কেল ও বিভাগকে সক্রিয় থাকতে হবে, যাতে সড়ক-মহাসড়কের ওপর বা পাশে পশুরহাট না বসে। এ বিষয়ে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে আগেই সমন্বয় করবেন।

মন্ত্রী বলেন, গ্রামমুখী মানুষকে সতর্ক করে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াত ও গ্রামে অবস্থান করতে সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণা চালানো যেতে পারে। বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতু থাকতে পারে। বৃষ্টি, বন্যাজনিত পানির প্রবাহ সেতুর ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই নজরদারিতে রাখতে হবে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু এবং বিকল্প ঠিক করে রাখতে হবে আগেই।

তিনি বলেন, নবীনগর, বাইপাইল, ইপিজেড, চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর, ভুলতা, কাঁচপুর এলাকায় অসংখ্য গার্মেন্টস। এসব গার্মেন্টস যেদিন ছুটি দেবে সেদিন ঘরমুখো মানুষের প্রচণ্ড চাপ তৈরি হবে। চাপ সঠিকভাবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ম্যানেজ করতে আগেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিজিএমইএর সাথে সমন্বয় করুন। প্রয়োজনে বিআরটিসির বাস এসকল পয়েন্টে আগে থেকে স্ট্যান্ডবাই রাখুন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি টঙ্গী- গাজীপুর সড়ক নিয়ে উদ্বেগে আছি। এ মহাসড়কে বিআরটির প্রকল্পের কাজ চলমান। প্রয়োজনে গাজীপুরের মেয়র, পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে। এবার বিশেষ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। এমন পরিস্থিতি আমাদের জাতীয় জীবনে আগে আসেনি। তাই নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, এ কথা ঠিক যে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সড়ক-মহাসড়কে এখন গুড সেপ আছে। তবে এক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়িয়েছে অবিরাম বৃষ্টি। তাই স্বস্তিতে থাকার সুযোগ নেই। চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অতীতের মতো আবারও আপনারা সচেষ্ট থাকবেন। ত্যাগ স্বীকার করবেন, এ প্রত্যাশা রাখছি। সকলের সম্মিলিত প্রয়াস, সমন্বয় এবং প্লানিংয়ের মাধ্যমে আমরা করোনার চোখ রাঙানোর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানুষকে একটি স্বস্তিকর ঈদযাত্রা ও ফেরত যাত্রা উপহার দিতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত