সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

দুর্নীতির বীজ এখন মহীরুহ হয়ে গেছে, যতই কাটেন আবার গজিয়ে ওঠবে: প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দীর্ঘদিন মিলিটারি ডিক্টেটরশিপ দেশের মানুষের চরিত্র হনন করেছে। বছরের পর বছর তারা দুর্নীতির বীজ বপন করেছে। এটি এখন মহীরুহ হয়ে গেছে, আপনি যতই কাটেন আবার কোথা থেকে গজিয়ে ওঠবে। যতই চেষ্টা করুন এটি মূলোৎপাটন করা যথেষ্ট কঠিন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে একাদশ সংসদের ৮ম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সংসদ নেতা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের চরিত্র নষ্ট করে দিয়ে গেছে ১৯৭৫-এর পর যারা রাতের আঁধারে অস্ত্র হাতে নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তারাই। হ্যাঁ, কারণ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সেই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য এরা মানুষকে দুর্নীতি শিখিয়েছে, কালো টাকা শিখিয়েছে, ঋণখেলাপি শিখিয়েছে।
দেশে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ডাক্তার-নার্সদের সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে যথেষ্ট বেড এবং সব রকম সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডাক্তার-নার্স যারা কাজ করছেন এবং টেকনিশিয়ানদের পরিবার থেকে আলাদা রাখার জন্য হোটেল ভাড়া করে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে খরচ তো হবেই।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর কে কোন দলের সেটি গুরুত্ব দেয়া হয়নি। কে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, আমরা যাকেই পাচ্ছি, যেখানেই পাচ্ছি– ধরছি। আবার ধরছি বলে নিজেই চোর হয়ে যাচ্ছি। আমরাই ধরি আবার আমাদেরই দোষারোপ করা হয়। এটিই হচ্ছে দুর্ভাগ্য। এর আগে তো দুর্নীতিটাই নীতি ছিল। অনিয়মটাই নিয়ম ছিল, অনিয়মটাই নিয়ম ছিল সেভাবেই রাষ্ট্র চলেছে।

সংসদ নেতা আরও বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আগেই বলেছি– আমরা এই অনিয়মগুলো নিশ্চয়ই মানব না। যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং নেব এটা অব্যাহত থাকবে।’

নতুন করে পাটকলগুলো চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এটাকে নতুনভাবে করব, এখানে যারা আগ্রহী তাদেরকে আমরা আবার ট্রেনিং দেব। ট্রেনিং দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন করে তাদেরকে তৈরি করব। পাটকল চালু হলে অভিজ্ঞতা যাদের আছে, তারাই নতুন করে চাকরি পাবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পরিবেশ রক্ষার জন্য যেহেতু সিনথেটিক থেকে সকলেই এখন মুক্তি চায় সেখানে পাট হচ্ছে একটা বিকল্প। সেখানে আমাদের একটা বিশাল সম্ভাবনা বিশ্বব্যপী রয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে সময়োপযোগী করতে হবে, আধুনিক করতে হবে, নতুন করতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত যেসব পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, বিশ্বব্যাপী পাটের বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সেগুলোকে সময়োপযোগী, আধুনিক করে গড়ে তোলার কথা জাতীয় সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, নতুন আঙ্গিকে পাটকলগুলো চালু হলে অভিজ্ঞকর্মীদেরই সেখানে চাকরি হবে, এজন্য তাদেরকে আধুনিক প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণও দেয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা ২৬টি পাটকল সম্প্রতি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য এসব পাটকলের প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিককে তাদের শতভাগ মিটিয়ে দেয়া হবে। ,ইতিমধ্যে শ্রমিকদের জুন মাসের বেতনভাতা পরিশোধ করতে ৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। পরবর্তীতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে পাটকলগুলো ফের চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

সেজন্য আমরা আমাদের পাটের যারা শ্রমিক, তাদের যে মজুরির টাকা পাওনা ছিল, সব মিটিয়ে… আমরা একবারে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা তাদের জন্য…সেখানে সব টাকা তাদের হাতে দেব না। কারণ নগদ টাকা দিয়ে দিলে তখন দেখা যাবে মেয়ের জামাই, ভাই, ভাতিজা, আত্মীয়-স্বজন সব এসে হুমড়ি খেয়ে পড়বে এবং ভাগ চাইবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলেছি অর্ধেকটা সঞ্চয়পত্র করে দেব। পারিবারিক সঞ্চয়পত্র, যেখানে তারা ১১ শতাংশের মতো পাবে। সেখানে ভালো টাকা প্রতি তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক পাবে, যা প্রতিদিন সে কাজ করে মাসে মজুরি পেত, তার চেয়ে বেশি টাকাই পাবে। সেটা আমরা হিসেব করছি, যা পাওনা ছিল সেটা আমরা সব শোধ করে দেব।’

বাংলাদেশ পাটের জন্মরহস্য উন্মোচন, গবেষণার মাধ্যমে বিভিন্ন পাটজাত পণ্য আবিষ্কারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেগুলো আমাদের উৎপাদন করতে হবে। সেগুলো আমাদের দেশের কাজে লাগবে, বিদেশে রফতানি হবে।’

বিশ্বে বাংলাদেশের পাট ও পাটপণ্যের বাজার ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘নিজেরা চেষ্টায় জোগাড় করতে পারে না। এইভাবে তো একটা ইন্ডাস্ট্রি চলতে পারে না। আর এই ইন্ডাস্ট্রিগুলো হচ্ছে সব থেকে পুরনো। সেই ষাটের দশকে, পঞ্চশের দশকে করা। এই ইন্ডাস্ট্রি দিয়ে আসলে লাভ করা সম্ভবও না। সেজন্য আমরা চাচ্ছি এটাকে আবার নতুনভাবে তৈরি করতে। কারণ পাটের একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। পাট আমাদের অর্থকরী ফসল। পাট একদিকে যেমন কৃষিপণ্য অপরদিকে ইন্ডাস্ট্রি, দুটোই।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত