বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

মায়ের সঙ্গেই থাকবেন এন্ড্রু কিশোর, সমাহিত হবে ১৫ জুলাই

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

এন্ড্রু কিশোর মৃত্যুর আগে বলে গিয়েছিলেন মায়ের কবরের পাশেই যেন তাকে কবর দেয়া হয়। তার সেই ইচ্ছানুযায়ী প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে মায়ের পাশেই তাকে সমাহিত করার। তবে তার দুই সন্তান বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন। তারা দেশে ফিরলেই কবর দেয়া হবে তাকে। বর্তমানে শিল্পীর মরদেহ রাজশাহীর একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

শিল্পীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৫ জুলাই তাকে সমাহিত করা হবে বলে প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি কারণে তার দুই সন্তান সপ্তক ও সংজ্ঞার অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরতে সময় লাগছে। তাদের দেশে না ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। এদিকে শিল্পীর মরদেহের গোসল সম্পন্ন করাসহ সবরকম প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বর্তমানে তার মরদেহ রাখা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের হিমাঘরে। সেখানেই ১৫ জুলাই পর্যন্ত থাকবে এন্ড্রু কিশোরের মরদেহ।

সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় বড় বোনের ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের অসংখ্য কালজয়ী গানের রূপকার এন্ড্রু কিশোর। মরণব্যধি ক্যানসারের ‘লাস্ট স্টেজে’র সঙ্গে লড়াই করে আর টিকে থাকতে পারলেন না তিনি। নন্দিত এই গায়কের মৃত্যুতে দেশের সংগীত অঙ্গনসহ সকল ক্ষেত্রেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আট বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী এই কণ্ঠশিল্পী ৯ মাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১১ জুন রাতে একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরে আসেন। এরপর তিনি তার ঢাকার বাসায় কিছুদিন অবস্থান করেই চলে যান গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে। সেখানে কোর্ট এলাকায় তার বোনের ক্লিনিকেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

ব্যক্তি জীবনে এন্ড্রু কিশোর ছিলেন এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তারা দু’জনেই অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। মেয়ে মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞা সিডনিতে গ্রাফিক ডিজাইন ও ছেলে জে এন্ড্রু সপ্তক মেলবোর্নে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে পড়াশোনা করছেন।

১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন এন্ড্রু কিশোর। তার বাবার নাম খিতিশ চন্দ্র বাড়ই। মা মিনু বাড়ই। রাজশাহীতেই কেটেছে এন্ড্রু কিশোরের শৈশব ও কৈশোর। গানের টানে মুক্তিযুদ্ধের পরপর তিনি রাজধানী ঢাকায় নিয়মিতভাবে বসবাস শুরু করেন।

ক্যান্সার পিছু ছাড়বে না জেনেই গত ১১ জুন সিঙ্গাপুর থেকে চলে আসেন এন্ড্রু কিশোর। এরপর রাজশাহীতে অনেকটা নিভৃতেই ছিলেন বোনের বাড়িতে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত