শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

জাল জালিয়াতির মাধ্যমে নতুন করে বালামে দলিল, এন্ট্রির প্রমান পেয়েছে গাজীপুরের সদর মহাফেজ থানা ও সদর সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাল জালিয়াতির মাধ্যমে নতুন করে বালামে দলিল এন্ট্রির প্রমান পেয়েছে গাজীপুরের সদর মহাফেজ থানা ও সদর সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়। জাবেদা নকল সরবরাহ প্রসঙ্গে নারায়নগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সি. আর নং ৩২/২০২০ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আদালত সিআইডি নারায়নগঞ্জ জেলাকে কালীগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ২৯-০৭-১৯৭৬ ইং রেজিস্ট্রিকতৃ ৪৯১০ নং দলিল তদন্ত করার দায়িত্ব প্রদান করে। তদন্তে জালিয়াতির মাধ্যমে এই মামলার ৪৯১০ নং দলিলের কিছু রিপোর্ট সিআইডিকে গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার প্রদান করে।

জাবেদা আবেদন করলে সরবরাহ করা নকলে এই জালিয়াতির বিয়য়টি উঠে আসে। নকলের কপি গত ১১ জুন ২০২০ নারায়ণগঞ্জ জেলা সিআইডি কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। যার স্মারক রেকর্ড নং ১৯৩ (২)। সিআইডি জেলা স্মারক নং ৪২৬, তারিখ ১০-০৩-২০২০। গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার স্মারক নং ৫০০, তারিখ ১৫-০৩-২০২০। জায়েদাকে সরবরাহ করা নকলের কপি প্রতিবেদকের কাছেও রয়েছে।

নকলে উল্লেখ করা হয়েছে, পিটিশন মামলা মামলা নং-৩২/২০২০ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জায়েদাকে নকল সরবরাহ করা হয়েছে এবং ৪৯১০/৭৬ নং দলিলের বিষয়ে গাজীপুর সদর মহাফেজ থানা ও সদর সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয় পর্যবেক্ষণ ও সুষ্ঠু তদন্তের সুবিধার জন্য সাদা কাগজে নকল প্রদান করেছে। দলিলের দাতা, গ্রহীতা এবং মৌজার নামে সূচিপত্র তৈরি করা হয়। যা থেকে উক্ত দলিল কার নামে কোন মৌজার এবং কোন দলিল কোন বালামে লিপিবদ্ধ আছে জানা যায়। ৪৯১০ নং দলিলে গ্রহীতা হিসেবে সফিকুর রহমানের নাম দেখানো হয়েছে। কিন্তু ১৯৭৬ সালের (এস এ) লেটারের সূচি বইতে সফিকুর নাম খুজে পাওয়া যায়নি। দাতা হিসেবে যে সকল নাম দেখানো হয়েছে তাদের নামেও কোনো এন্ট্রি খুজে পাওয়া যায়নি। মৌজার নামে সূচি বই সংশ্লিষ্ট এন্ট্রির স্থান ক্ষতিগ্রস্থ।

এতে আরো বলা হয়, ১৯৭৬ সালের ৪০ নং বালামে ৪৯১০ নং দলিলের ২৯৯ হতে ৩০০ পৃষ্ঠায় তৎকালীন সাব রেজিস্ট্রারের এবং নকলকারী পাঠক ও তুলনাকারীর যে স্বাক্ষর আছে বালামের অন্যান্য পৃষ্ঠার স্বাক্ষরের সাথে তার মিল নাই। দলিল রেজিস্ট্রির সময় দাতার হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুলের টিপছাপ ও স্বাক্ষর থাম বইতে সংরক্ষন করা হত। ১৯৭৬ সালের থাম বই যাচাই করে উক্ত সালের ৪৯১০ নং দলিলের সংশ্লিষ্ট ৫৮০০ নং টিপে দাতা হিসেবে আল্লাহাফেজ মিয়ার স্বাক্ষর ও টিপছাপ রক্ষিত আছে। কিন্তু ‘কথিত’ ৪৯১০ নং দলিলে ৮ জনকে দাতা হিসেবে দেখানো হয়েছে। আরো বলা হয়, সাধারণত প্রতিটা বালামে ৩০০ পৃষ্ঠা থাকে। দলিল লেখার সময় বালামের প্রথম ভাগে ১ ও ২ নং পাতা এবং শেষ ভাগে ২৯৯ ও ৩০০ নং পৃষ্ঠা খালি রাখা হত, কিন্তু ১৯৭৬ ইং সালের ৪০ নং বালামে ২৯৯ ও ৩০০ পৃষ্ঠায় ৪৯১০ নং দলিলটি লিপিবদ্ধ রয়েছে। এসব কারণের আলোকে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ৪৯১০ নং দলিলটি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বালামে নতুন করে সৃজন করা হয়েছে। পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনার্থে প্রেরণ করা হল।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানার দাউদপুর ইউনিয়নের বড় আমদিয়া মৌজার (আর এস) ১৩৬৫ ও ১৩৬৬ দাগের ২৫৪ শতাংশ জমি শেখ নাবু-এর নামে (সিএস) রেকর্ড হয়। সিএস রেকর্ডীয় মালিক শেখ নাবু মৃত্যুবরণ করলে তার ওয়ারিশগণ কিছু সম্পত্তি বিক্রি করে, এবং কিছু সম্পত্তি যুগ যুগ ধরে শেখ নাবু-এর ওয়ারিশগন বাড়িঘর নির্মান করে ভোগদখল অবস্থায় আছেন। পরবর্তীতে ভুলবশত এস. এ এবং আর এস রেকর্ড কতক হিন্দুদের নামে হয়। এস.এ এবং আর এস রেকর্ডটি ভুলবশত হিন্দুদের নামে হওয়ার কারণে শেখ নাবু-এর ওয়ারিশগন থেকে ক্রয় করা মালিকগন নারায়নগঞ্জের বিজ্ঞ সহকারী জজ রুপগঞ্জ আদালতে দেঃ মোঃ মামলা করে যার নং ২০৫/২০০২। পরবর্তীতে এই মামলা বাদীগনের পক্ষে ডিক্রি প্রাপ্ত হয়। মামলার আদেশ অনুযায়ী মোকাদ্দমা বিবাদীগনের বিরুদ্ধে একতরথা সূত্রে ডিক্রি জারি হয়। এবং নালিশী ভূমিতে বাদীগণের ষোলআনা স্বত্ব, স্বার্থ আছে এই মর্মে ঘোষনা করা হয়, এবং নালিশী ভূমি সম্পর্কিত আর. এস. খতিয়ান ভুল এবং অশুদ্ধ মর্মে ঘোষনা করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে চলতি বছরে নারায়নগঞ্জ জেলার বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলা করেছেন শেখ নাবু-এর ওয়ারিশ আবুল কাশেম। বিবাদী করা হয়েছে- ১. শফিকুর রহমান(৬৫), পিতা মৃত নোয়াব আলী। ২. বাবুল মিয়া(৪৫), পিতা শফিকুর রহমান। ৩ হমায়ুন মিয়া, পিতা শফিকুর রহমান। সাং উত্তর হাটাব পো: বিরাব, থানা-রুপগঞ্জ, জেলা-নারায়নগঞ্জ। এছাড়া অজ্ঞাতর ৫/৬ জন। সি.আর নং ৩২/২০২০। এতে উল্লেখ করা হয়, সিএস রেকর্ডীয় মালিক শেখ নাবুর ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হয়ে বাদী যুগ যুগ ধরে ভোগ দলখ করে বাস করছেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত