শুক্রবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

ভিডিওতে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট সংসদে উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে প্রায় এক-তৃতীয়াং সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে ভিডিও কনটেন্টের মাধ্যমে তিনি সংক্ষিপ্ত আকারে বাজেট উত্থাপন করেন।

এবারের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে করোনাভাইরাসের অভিঘাত মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।

রাষ্ট্রপতির অনুস্বাক্ষরের পর স্পিকারের কাছে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপনের অনুমতি প্রার্থনা করেন অর্থমন্ত্রী। স্পিকার অনুমতি দিলে তিনি বাজেটের চুম্বক অংশ ভিডিও আকারে সংসদে উত্থাপন করেন।

ভিডিও শেষ হলে আল্লাহ’র কাছে করোনাভাইরাস সংকট থেকে বিশ্বকে রক্ষা করার দোয়া করে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতা শেষ করেন।

পরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অর্থমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুসারে বাকি বাজেট বক্তৃতা সংসদে পঠিত হিসেবে গণ্য হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এর পরপরই বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে রোববার (১৪ জুন) সকাল ১১টা পর্যন্ত সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন তিনি।

এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১০ জন মন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই বৈঠকে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

৩ লাখ টাকার কম আয় হলে কর দিতে হবে না

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা চলতি অর্থবছরের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। নতুন বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। বার্ষিক আয় ৩ লাখ টাকা হলে কর দিতে হবে না। চলতি বছরে যা আছে আড়াই লাখ টাকা।

বাজেটে বক্তৃতায় বলা হয়েছে, ব্যক্তির করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকার। এর পরবর্তী ১ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর কর ধরা হয়েছে ৫ শতাংশ। এর পরের ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর কর দিতে হবে ১০ শতাংশ। পরবর্তী ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর কর ১৫ শতাংশ। পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর কর ২০ শতাংশ। এর বেশি আয়ের ক্ষেত্রে মোট আয়ের ওপর কর ২৫ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সাধারণ করদাতাদের ক্ষেত্রে আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকার পর প্রথম ৪ লাখ টাকার জন্য ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার জন্য ১৫ শতাংশ, এর পরের ৬ লাখ টাকার জন্য ২০ শতাংশ, আর পরবর্তী ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট মোট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।

কালোটাকা সাদা করার ঢালাও সুযোগ

প্রস্তাবিত বাজেটে ঢালাওভাবে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, ‘দেশের প্রচলিত আইনে যা–ই থাকুক না কেন, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত জমি, বিল্ডিং, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের প্রতি বর্গমিটারের ওপর নির্দিষ্ট হারে এবং নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড বা যেকোনো সিকিউরিটিজের ওপর ১০ শতাংশ কর প্রদান করে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করলে আয়কর কর্তৃপক্ষসহ অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না।’

এ ছাড়া একই সময় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাগণ পুঁজিবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করলে, ওই বিনিয়োগের ওপর ১০ শতাংশ কর প্রদান করলে, আয়করসহ কোনো কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন করবে না।

মোবাইলে ১০০ টাকায় ২৫ টাকা নেবে সরকার

বাজেটে মোবাইল সেবার ওপর কর আরেক দফা বাড়িয়েছে সরকার। এই দফায় সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা গত বছরও একই হারে বাড়ানো হয়েছিল। বাজেটের কর প্রস্তাব ঘোষণার পরপরই কার্যকর হয়। ফলে বাড়তি কর টেলিযোগাযোগ কোম্পানি নিজেরা বহন না করলে গ্রাহকের ওপর চাপবে।

নতুন করহারে মোবাইল সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ১৫ শতাংশ, সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশ ও সারচার্জ ১ শতাংশ। ফলে মোট করভার দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

এর মানে হলো, প্রতি ১০০ টাকা রিচার্জে সরকারের কাছে কর হিসেবে যাবে ২৫ টাকার কিছু বেশি। এতদিন তা ২২ টাকার মতো ছিল। বিশ্লেষকেরা এবং কোম্পানিগুলো বলে আসছিল, মোবাইল সেবায় কর বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষ চাপে বেশি পড়বে।

মোবাইল সেবার ওপর কর প্রায় প্রতিবছরই বাড়ে। এনবিআর ও মোবাইল অপারেটরদের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোবাইল সেবার ওপর ১ শতাংশ সারসার্জ আরোপ করা হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আরোপ হয় ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট ও ৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। আর চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে সম্পূরক শুল্ক আরও বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

শীর্ষ দুই মোবাইল অপারেটর গ্রামীনফোণ ও রবির হিসাবে, তাদের মোট রাজস্ব আয়ের ৫৩ থেকে ৫৬ শতাংশই সরকারের কোষাগারে বিভিন্ন কর ও ফি বা মাশুল হিসেবে চলে যায়।

দেশে মার্চ শেষে মোবাইল গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৫৩ লাখের বেশি। এ তালিকায় শীর্ষ ধনীরা যেমন আছেন, তেমনি রয়েছেন দরিদ্র মানুষ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত