বুধবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

অর্থবছর ২০২০-২১: জুলাইয়েই শুরু হচ্ছে ৪৬ নতুন প্রকল্প

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের শুরুতেই আসছে নতুন ৪৬টি উন্নয়ন প্রকল্প। অর্থবছরের শুরুর দিন, ১ জুলাই থেকেই এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হবে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত এসব নতুন প্রকল্পের মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প রয়েছে ৪০টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ছয়টি। এর আগে সম্পদের সীমাবদ্ধতা ও করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনায় এডিপি তৈরির নির্দেশনায় নতুন প্রকল্পের চেয়ে চলমান প্রকল্প সমাপ্ত করার প্রতিই জোর দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল পরিকল্পনা কমিশন। তবে গুরুত্ব বিবেচনাতেই এই প্রকল্পগুলোকেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা বিভাগের সদ্য সাবেক সিনিয়র সচিব মো. নূরুল আমিন বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে এসব প্রকল্প নির্ধারণ করা হয়েছে। গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত ১৯ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে আগামী অর্থবছরের এডিপি অনুমোদন হয়। তবে জাতীয় সংসদে আগামী ১১ জুন বাজেট উপস্থাপনের সময় এডিপির এই অংশটিও উপস্থাপন করা হবে। তারপরও বাজেট পাসের সঙ্গে এডিপিটিও পরিপূর্ণ অনুমোদন পাবে। ফলে ১ জুলাই থেকে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে আশা করছি।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত বিনিয়োগ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কৃষি খাতের পাঁচটি প্রকল্প। এছাড়া পানিসম্পদ খাতের আটটি, শিল্প খাতের দু’টি, পরিবহন খাতের আটটি, ভৌত পরিকল্পনা-পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতে ৯টি, শিক্ষা ও ধর্ম খাতে চারটি, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে একটি, স্বাস্থ্য-পুষ্টি-জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতের একটি, সমাজকল্যাণ-মহিলা বিষয়ক ও যুব উন্নয়ন খাতে একটি এবং বিজ্ঞান-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের একটি প্রকল্প রয়েছে।

এছাড়া কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের মধ্যে কৃষি, পানিসম্পদ, শিল্প, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য-পুষ্টি-জনসংখ্যা ও পরিবারকল্যাণ এবং জনপ্রশাসন খাতের একটি করে প্রকল্প রয়েছে।

জুলাই থেকে বাস্তবায়ন শুরু হতে যাওয়া উল্লেখযোগ্য নতুন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কোভিড-১৯ ইমারজেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস প্রকল্প। এছাড়া অনগ্রসর ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে তুলা চাষ বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষকদের দারিদ্র্য বিমোচন, মাদারীপুর জেলার আওতায় বিদ্যমান চরমুগুরিয়া ইকোপার্কের আধুনিকায়ন, ইকোসিস্টেম বেইজড অ্যাপ্রোচ টু অ্যাডাপটেশন (ইবিএ) দ্য ড্রাফট প্রোন বারিন্দ ট্রাস্ট অ্যান্ড হাওর অ্যাট ল্যান্ড এরিয়া, সুনীল অর্থনীতি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উপকূলীয় ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং প্রতিবেশ সমীক্ষা প্রকল্প অন্যতম।

নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে— মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প, কচুয়া-বেতাগী-পটুয়াখালী-লেঅহানিয়া-কালাইয়া সড়কের ১৭তম কিলোমিটারে পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট, মোংলা বন্দর চ্যানেলের ইনার বার ড্রেজিং, ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনিস্টিটিউট মাদারীপুর শাখা স্থাপন, শরীয়তপুর-জাজিরা-নাওডোবা (পদ্মাসেতু) অ্যাপ্রোচ সড়ক উন্নয়ন, লেবুখালী-রামপুর-মির্জাগঞ্জ সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং বাগেরহাট জেলার কচুয়া পিংগুরিয়া হতে হেরমাঞ্চল ঘাট পর্যন্ত জেলা মহসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প।

পানিসম্পদ খাতের নতুন প্রকল্পগুলো হলো— কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সদর-রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, ডান ও বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার অধীন সুরমা নদীর ডান তীরে অবস্থিত দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, লক্ষীবাউর ও বেতুরা এলাকায় নদীর তীর সংরক্ষণ, মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় আড়িয়াল খাঁ নদের তীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিং, পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ও শাহাজানপুর এলাকা রক্ষা, হবিগঞ্জ জেলার বিবিয়ানা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে কুশিয়ারা নদীর উভয় তীর সংরক্ষণ, রাজশাহী জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় গঙ্গা নদীর বাম তীরের স্থাপনা নদী ভাঙন হতে রক্ষা, পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার মুন্সিগঞ্জ থেকে খানপুরা ও কাজীরহাট থেকে রাজধরদিয়া এলাকায় যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ এবং জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার পাকেরদহ ও বালিজুরি ইউনিয়ন এবং বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলাধীন কাজলা ইউনিয়নের জামথল এলাকাকে যমুনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা প্রকল্প।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত