রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

কমছে না করপোরেট কর, বহাল থাকছে ব্যক্তি আয়কর সীমা

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে করপোরেট করের হার অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা করতে না পারায় এই করের হার কমানোর জোর দাবি ছিল ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে। তবে আগামী অর্থবছরের জন্য এই হার কমছে না। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, করপোরেট করের মতো ব্যক্তি আয়কর সীমাও আড়াই লাখ টাকা বহাল রাখা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। কর বহির্ভূত অন্যান্য আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪৮ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে, চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু চলতি অর্থবছর শেষে এনবিআরের রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি ঘাটতি থাকছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরেও এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা অনুযাী রাজস্ব আদায় অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। আর এ কারণেই করপোরেট কর ও ব্যক্তি আয়কর সীমায় কোনো পরিবর্তন আসছে না।

সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য নতুন করে ১০ লাখ নতুন করদাতা খুঁজে বের করতে কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাজস্ব আয়ের উৎস বাড়ানোর জন্য অনলাইন ব্যবসায় ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে। এছাড়াও বেশকিছু বিলাসবহুল পণ্যের ওপর কর বসানো হচ্ছে। তবে আগামী বাজেটে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে বলেও জানা গেছে। বিশেষ করে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর আমদানি শুল্কমুক্ত থাকবে। শুধু তাই নয়, এসব সরঞ্জাম উৎপাদনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও প্রণোদনা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

করপোরেট করের বর্তমান হার

বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট করের হার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়— এমন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট করের হার ৪০ শতাংশ। এছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকের জন্য কর হার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করের হার ২৫ শতাংশ, তালিকাভুক্ত নয়— এমন কোম্পানির করপোরেট করের হার ৩৫ শতাংশ।

অন্যদিকে সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সব ধরনের তামাক পণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানির জন্য করের হার ৪৫ শতাংশ। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মোবাইল ফোন কোম্পানির করের হার ৪০ শতাংশ, তালিকার বাইরে থাকা মোবাইল ফোন কোম্পানির করের হার ৪৫ শতাংশ। এছাড়া পোশাক খাতে করপোরেট কর ১০ থেকে ১২ শতাংশ, বস্ত্র খাতে ১৫ শতাংশ, পাটকলে ১০ শতাংশ। একই খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকা বহির্ভূত কোম্পানির মধ্যে কর হারের ব্যবধান ১০ শতাংশ। অর্থাৎ কোনো কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে ১০ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধা পায়।

ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর সীমা বাড়ছে না

গত কয়েক বছর ধরে ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়ানোর জন্য জোরালো দাবি উঠেছে। তবে সেই সীমা বাড়েনি। আগামী অর্থবছরের জন্যও এই কর সীমা বাড়ছে না বলে জানা গেছে। ফলে কোনো ব্যক্তির বার্ষিক আয় আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত হলে তাকে এখন যেমন আয়কর দিতে হচ্ছে না, এই সুবিধা একইভাবে বহাল থাকবে আগামী অর্থবছরের জন্যও।

অনলাইনে ব্যবসায় ভ্যাট বসছে

করোনাভাইরাসের কারণে স্বাভাবিক ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অনেক অনলাইন শপেই আগের চেয়ে বিক্রি বেড়েছে। বিশেষ করে অনলাইন গ্রোসারি শপগুলোর বিক্রি এখন স্বাভাবিক সময়ের বেশি। চলতি অর্থবছর পর্যন্ত অনলাইন এসব শপ, অর্থাৎ ই-কমার্স সাইটগুলোর ওপর কোনো ভ্যাট ছিল না। তবে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়াতে আসছে অর্থবছরে অনলাইন ব্যবসার ওপরও ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের সম্ভাব্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করবেন। এটি জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

চলতি ২০১৯-২৯ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে পাঁচ লাখ এক হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত