শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এই করোনাভাইরাস থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। যেহেতু অর্থনীতি একেবারে স্থবির অবস্থায় রয়েছে তাই আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখন উন্মুক্ত করছি। কারণ মানুষকে আমাদের তো বাঁচাতে হবে।’

এই কয়েক মাস এদেশের প্রায় প্রতি স্তরের মানুষকে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখনও আমরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের অবস্থাটা অনেকটা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, যেকোনো বিপদ বা সমস্যা আসুক, সেটা আমরা নিশ্চয়ই মোকাবিলা করতে পারব।’

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান গ্রহণের শুরুতে তিনি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে অনুদান গ্রহণ করেন তার মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিলেন।

যারা অনুদান দিয়েছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা করোনাভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আত্মার শান্তি কামনা করি, মাগফেরাত কামনা করছি। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমরা করেছি, আমাদের দলের পক্ষ থেকে করেছি। অনেক বিত্তশালী তারাও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের মাঝে এই আন্তরিকতাটুকু আছে বলে এখনও তারা খেতে পারছে বা চলতে পারছে। এই সহানুভূতিটুকু মানুষ দেখাতে পারছে।’

“চিকিৎসাসেবা আমরা ব্যাপক ভাবে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি এবং আমরা দিয়ে যাচ্ছি। বিনে পয়সায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। করোনাভাইরাস এটা টেস্ট করা বা চিকিৎসা করা বেশ ব্যয়বহুল। তারপরও আমরা সেটা করে যাচ্ছি। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যাতে চলে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের শিল্প থেকে শুরু করে সর্বস্তরের সবাই যেন তাদের কার্যক্রম চালাতে পারে তার জন্য বিশেষ প্রণোদনাও আমরা দিচ্ছি। জিডিপি’র প্রায় ৩.৭ ভাগ প্রণোদনা দিচ্ছি”, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

গত ৩/৪ মাস ধরে অর্থনীতি একেবারে স্থবির জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারপরেও আমরা অন্তত মানুষের কথা চিন্তা করে, মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে কাজ করে যাচ্ছি। এটা মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন। সব সময় জনগণের কল্যাণেই আমরা কাজ করি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা এই যে আন্তরিকতা দেখাচ্ছেন সহানুভূতি দেখাচ্ছেন তার জন্য আমি জনগণের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। আমাদের একটা লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত হিসেবে গড়বো, ২০২০ সাল জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী; এই মুজিববর্ষ আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম। এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা অনেকগুলি পদক্ষেপ নিয়েছি। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এটা অনেকটাই স্থবির হয়ে গেছে, এটা সত্য।’

করোনা সংকটে দলের নেতাকর্মীদের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘তারা মাঠে নেমে ধান কাটা থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে লাশ দাফন করা, রোগীদের সাহায্য করা, প্রতিটি কাজে তারা আন্তরিকতার সাথে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমি সত্যিই খুব আনন্দিত তাদের এই আন্তরিকতা দেখে। তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাই সবাইকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবাই আপনারা দোয়া করেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে এই করোনাভাইরাসের হাত থেকে যেন বাংলাদেশে মুক্তি পায়। এখনও আমরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের অবস্থাটা অনেকটা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। তবে আমি বলবো বর্তমান বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ কেউ একলা চলতে পারে না, আবার এক জায়গায় কিছু হলে অন্য জায়গায় সেটা সংক্রমিত হয় সেই ভাবেই আমরা কিন্তু সংক্রমিত হচ্ছি। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ এসময় যারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন তাদের সবার প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত