সোমবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

দেশে করোনায় নতুন আক্রান্ত নেই, আরেকজনের মৃত্যু

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বাংলাদেশে নতুন করে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে পুরাতন আক্রান্তদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়ছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর মহাখালীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে অনলাইনে তাদের নিয়মিত প্রেস বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানায়।

মারা যাওয়া রোগীর বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে আসা আক্রান্ত এক রোগীর পরিবারের সদস্য তিনি। গত ১৮ মার্চ তার শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছিল। তখন এলাকার একটি হাসপাতালে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ওই বৃদ্ধ। পরবর্তী সময়ে তার ক্লিনিক্যাল পরিস্থিতি খারাপ হলে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে ঢাকার কুয়েতমৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। গত ২১ মার্চ থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।’

অধ্যাপক সেব্রিনা বলেন, ৬৫ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। এসব কারণেই বুধবার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে কারও শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়নি। আজ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৩৯। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন ৫৭ জন।

তিনি বলেন, এখন আইসোলেশনে আছেন ৪৭ জন ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৭ জন। অতি প্রয়োজনের ঘরের বাইরে না যেতেই ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৭৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, ‘অনেকের মাঝেই এই আলোচনাটি দেখেছি যে, বাংলাদেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে কিনা। এরইমধ্যে আপনারা জানেন যে, আমরা দুইটি ক্ষেত্রে তদন্ত করছিলাম। এখন পর্যন্ত সেটার সোর্স অব ইনফেকশন জানা যায়নি। সেক্ষেত্রে এটি সীমিত মাত্রায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে থাকতে পারে বলে আমরা মনে করি। কিন্তু এটি আমি আগেও বলেছি যে, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলার ক্ষেত্রে আমাকে বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে। কারণ সেটি আমাকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কাছে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্তসহ পেশ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সীমিত মাত্রায় যে এলাকাটি নিয়ে আমরা কথা বলেছি যে, সেই এলাকায় লোকাল ট্রান্সমিশন হয়ে থাকতে পারে ভেবেই কিন্তু সেখানে সাময়িক ভাবে সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণের মাধ্যমে সেটিকে প্রতিরোধ করার ও নিয়ন্ত্রণ করার কার্যক্রম নিয়েছি। সারা বাংলাদেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে এখন পর্যন্ত এমন কোনো পরিস্থিতি হয়নি। এরইমধ্যে দেখেছেন, গতকালও আমরা যে তথ্য যোগাড় করেছি তার ভিত্তিতে যে নমুনা সংগ্রহ করেছি তাতে এখন পর্যন্ত পজেটিভ হওয়ার হার অনেক কম।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে যাদের পরীক্ষা করা প্রয়োজন, তাদেরই পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এর আগে মঙ্গলবার দেশে করোনাভাইরাসে ছয়জন আক্রান্ত হন। দেশে এ পর্যন্ত মোট ৩৯ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাদের মধ্যে আরও দুইজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ফলে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো মোট সাতজনে।

বাংলাদেশে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এর পর থেকে এ ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস এখন বৈশ্বিক মহামারী। ইতোমধ্যে ভাইরাসটি বিশ্বের ১৯৪টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। সংক্রমিত হয়েছেন তিন লাখ ৭৭ হাজার। আর মৃত্যু হয়েছে সাড়ে ১৬ হাজারের বেশি।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত