শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

সারা দেশে গণপরিবহন, লঞ্চ, ট্রেন বন্ধ

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

চীনের উহান থেকে শুরু হয়ে সারা বিশ্বে মহামারি আকার নিয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগ কোভিড-১৯ এ মৃত্যু হয়েছে সাড়ে ১৬ হাজার মানুষের। বাংলাদেশে এই ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঠেকাতে সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এবার সড়কপথে গণপরিবহন, নৌপথে লঞ্চ এবং রেলপথে মেইল ও লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার এক ভিডিও বার্তায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল সারা দেশে সব গণপরিবহন ‘লকডাউন’ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ট্রাক, কভার্ডভ্যান, ঔষধ, জরুরি সেবা, জ্বালানি, পচনশীল পণ্য পরিবহন- এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। তবে পণ্যবাহী যানবাহনে কোনো যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

এদিকে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ সারা দেশে সব ধরনের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল আজ মঙ্গলবার থেকেই বন্ধ ঘোষণা করেছে।

বিআইডব্লিউটিএ-এর পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আজ পন্টুনে যতগুলো লঞ্চ এসেছে, সেগুলো ছাড়ার পরে এ আদেশ কার্যকর হবে।

নৌপরিবহন সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আজ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে লঞ্চ মালিকরাও একমত হয়েছেন। যে যেখানে আছেন সেখানেই থাকবে। করোনাভাইরাস সংক্রামণ রোধে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

অপরদিকে, আজ এবং এই মুহূর্ত থেকেই দেশে সব ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে। তবে মালবাহী ট্রেন চলাচল করবে।

শরিফুল আলম বলেন, ‘আজ মঙ্গলবার থেকে লোকাল ও মেইল ট্রেন বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৬ মার্চ থে‌কে সব ট্রেনের টি‌কিট বি‌ক্রি বন্ধ রয়েছে। ওইদিন থেকে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল রাখা হবে। এখনো অফিস আদেশ হয়নি। ত‌বে এর আগেই আদেশ হবে বলে ট্রা‌ফিক ডিরেক্টর জানিয়েছেন।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান আজ মঙ্গলবার সকালে বলেন, গতকাল সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেন বন্ধ করা হয়েছে। এরপর আন্তনগর ট্রেন সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হবে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, গতকাল বিকেলে সরকারি ছুটি ঘোষণার পর কমলাপুর রেলস্টেশনে প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তাৎক্ষণিক রেল চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। বলা হয়, যে কাজের জন্য ছুটি, সেটা ব্যাহত হচ্ছে। এরপরই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো রকম লিখিত নির্দেশ ছাড়া, দেশের মূল স্টেশনগুলোর নিয়ন্ত্রণকক্ষে ফোন করে রেল চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেয়।

করোনাভাইরাসের কারণে একে একে সব বন্ধ হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পর ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি অফিস টানা ১০ দিনের ছুটিতে পড়ছে। এ ছাড়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে আজ থেকে দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সশস্ত্র বাহিনী নামছে। একই সঙ্গে গণপরিবহন চলাচলও সীমিত থাকবে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত