বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

লকডাউনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীই সিদ্ধান্ত নেবেন : কাদের

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে লকডাউনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ সোমবার সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউনের বিষয়ে মাথা গরম করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা প্রধানমন্ত্রীই নেবেন।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ৫০০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৫ মার্চ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য তথা দেশের প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জীবনের নিরাপত্তা রক্ষায় বদ্ধপরিকর বলেও জানান দলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলার জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে নিবিড়ভাবে কাজ করে চলেছেন। দেশবাসীর সম্মিলিত সচেতনতা, সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি পালনই পারে ভয়াবহ এই সংকট থেকে আমাদের রক্ষা করতে।’

এ সময় বাংলাদেশ তথা বিশ্ববাসীর এই ক্রান্তিলগ্নে সকলকে ধৈর্য, সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। একইসঙ্গে দোষারোপ ও গুজব না ছড়িয়ে করোনা মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য গোপনের কিছু নেই, বাস্তবতা অস্বীকার করারও উপায় নেই। জনসমাগম না হয় এমনভাবে প্রচারণা চালাতে হবে করোনার বিরুদ্ধে। করোনাভাইরাস সংকট নিয়ে সব ধরনের গুজব, মিথ্যা তথ্য, অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে এবং এই সকল অপকর্ম প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। একই সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে।’

খাদ্য সংকট সৃষ্টি ও গুজবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন ওবায়দুল কাদের। দেশে কোনো খাদ্য ঘাটতি নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মজুতকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থান নিতে হবে। এ সময় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। সংসদের বিশেষ অধিবেশনও স্থগিত করা হয়েছে। সরকারিভাবে স্বাধীনতা দিবসের সব কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। সরকারি প্রোগ্রাম বাতিলের সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের পার্টির সভাপতির নির্দেশে আমরা মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের যে কর্মসূচি আমরা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ঘোষণা করেছিলাম, সেসব কর্মসূচিও বাতিল করছি।’

‘সরকারিভাবে বাতিল করা হয়েছে, দলীয়ভাবেও আমাদের নেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, আমি সেটা দলের পক্ষ থেকে সকল পর্যায়ের মহানগর, জেলা, উপজেলা ইউনিয়ন, ওয়ার্ড থেকে শুরু করে সকল শাখা সংগঠনকে নির্দেশ দিচ্ছি যে, কোনো প্রকার কর্মসূচি থাকবে না, কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।’

করোনা পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দায়িত্ব তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মী ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতা মেনে চলে সারাদেশের জনগণের মধ্যে বিজ্ঞানসম্মতভাবে করোনাভাইরাস সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টি করবেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সঠিক তথ্য প্রদান করে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবেন এবং জনসমাগম হতে পারে এমন কর্মসূচি পরিহার করবেন।’

‘ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, গ্রাম ও শহর পর্যায়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশফেরত ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করে ওই সকল ব্যক্তির তথ্য স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করবেন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবেন।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিতে বিআরটিসির ৩৪টি বাস ও তিনটি ট্রাক নিযুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এছাড়া দুটি বাস জরুরি সেবায় বিমানবন্দরে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। বিআরটিসির সব বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সকল গাড়িচালক, সহকারীকে মাস্ক ও গ্লাভস পরিধানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ট্রিপের শুরু এবং শেষে বাধ্যতামূলকভাবে গাড়ি জীবাণুমুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে যাত্রীসেবা প্রদানে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত