শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

দেশে আরও ৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত: আইইডিসিআর

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বাংলাদেশে নতুন করে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত আরও তিন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তদের দুজন বিদেশ ফেরত। আরেকজন আক্রান্ত একজনের সংস্পর্শে এসে সংক্রমিত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ২৭।

রোববার (২২ মার্চ) রাজধানীর মহাখালীতে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) তাদের নিয়মিত প্রেস বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানায়।

আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘করোনাভাইরাসে নতুন করে তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে দুজন পুরুষ এবং একজন মহিলা। এ তিনজনের মধ্যে দুজন ইতালি থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। আরেকজন তাঁদের কাছে থেকে একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।আক্রান্তদের বয়স যথাক্রমে ৪০, ৩০ ও ২০ বছর। এদের মধ্যে একজনের ডায়াবেটিস ও হাঁপানি রয়েছে। শারীরিকভাবে তিনজনেরই লক্ষণ-উপসর্গ মৃদু, তারা ভালো আছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আক্রান্তদের মধ্যে আরও দুজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে সুস্থ হওয়ার সংখ্যা দাঁড়াল ৫। এছাড়া দুজন মৃত্যুবরণ করেছেন। সর্বশেষ করোনা আক্রান্ত ২০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের কিডনি ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হচ্ছে। এছাড়া ৪০ জন আইসোলেশনে রয়েছেন।’

ডা. ফ্লোরা জানান, ২৪ ঘণ্টায় ৬৫ জনের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয়েছে। আর সর্বমোট পরীক্ষার সংখ্যা ৪৬৪ জন। দেশে বর্তমানে ১৩ হাজার টেস্টিং কিট রয়েছে। এছাড়া ২০ হাজার অর্ডার করা হয়েছে। এর বাইরে চীন থেকে আসছে ১০ হাজার।

আইইডিসিআর’র পরিচালক বলেন, ‘সিলেটে যিনি মারা গেছেন তার নমুনা পরীক্ষার ফল আমরা পাইনি। তবে তাকে প্রটোকল অনুযায়ী দাফন করা হয়েছে। এখনও আমরা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলব না। সোর্স অব ইনফেকশন আইডেন্টিটি করতে পারলে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলতে পারি না। গতকাল যিনি মারা গেছেন তার আশেপাশে আরও দুজন বিদেশ ফেরত ছিলেন ‘

মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার মতো কোনো পরিস্থিতি হয়নি। স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি।’

তবে করোনা প্রতিরোধে প্রয়োজন না হলে জনসমাগমে না যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন সেব্রিনা। তিনি বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া আছে। আইসোলেশেন ইউনিট করা হয়েছে। আশঙ্কা করছি না আরও ছড়িয়ে পড়বে। প্রত্যেকের মাস্ক পরে ঘুরে বেড়ানোর কোনো দরকার নেই।’

বিদেশ থেকে যারা আসছে না- করোনা সাসপেক্টেড হলে তাদেরও পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানান ডা. ফ্লোরা।

অতি বয়স্ক ব্যক্তি ও যাদের দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে তাদের অত্যাবশ্যক প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতি বয়স্করা ঘরের মধ্যে থাকবেন। প্রয়োজন না হলে বাইরে বের হবেন না। ভিড় এড়িয়ে চলুন এবং অপরিচিত কেউ যদি বাসায় আসে বা বাইরে থেকে কেউ এসেছেন এমন কারও কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন।

নিয়মিত সাবান পানি দিয়ে হাত ধোবেন, অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক, মুখ স্পর্শ করবেন না। ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন এমন রোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। শুধু কোভিক-১৯ এর জন্য ব্যাপারটি প্রযোজ্য নয় বরং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ রয়েছে তেমন ব্যক্তির সংস্পর্শও এড়িয়ে চলুন। শিষ্টাচার মেনে চলুন, অসুস্থ হলে ঘরে থাকুন। বাইরে যাওয়া যদি অত্যাবশ্যক হয় সেক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার করুন, কারও সাথে করমর্দন, কোলাকুলি করা থেকে বিরত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন, যারা দেশের বাইরে আছেন এখনও কয়েকটি এয়ারলাইন্স খোলা রয়েছে। যদিও বেশিরভাগ এয়ারলাইন্স বন্ধ। তারপরও যদি কেউ প্রয়োজন না হয় বিদেশ থেকে আসার ব্যাপারে তাদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত