শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

বাড়তি জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

অহেতুক আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি না করতে ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে বাড়তি কেনাকাটা ও মজুদ করা থেকে বিরত থাকুন। এভাবে বাড়তি কেনাকাটা করে দাম বাড়িয়ে ফেলা গর্হিত কাজ।’

ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে ভোট দেওয়া শেষে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আতঙ্কের কিছু নেই। আমি অর্থমন্ত্রী, অর্থসচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলেছি। পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে। এছাড়া আমাদের যে রিজার্ভ আছে তাতে এক বছরের খাদ্য আমরা কিনতে পারব। আপনারা খাদ্য মজুত কর‌বেন না। জনগণ‌কে কষ্ট দেবেন না। খাদ্য নি‌য়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দে‌শে যথেষ্ট খাদ্য মজুত আছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের যে রিজার্ভ আছে, তাতে অন্তত এক বছরের খাবার ক্রয় করার মতো সামর্থ্য আমাদের আছে। কাজেই সেদিক থেকেও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।পাশাপাশি কমপক্ষে এক বছর বিদেশ থেকে আমদানির সামর্থ্যও রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।’

বিদেশ ফেরত বাংলাদেশিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবার-পরিজনকে বাঁচাতে তাদের স্বার্থেই আপনি ১৪ দিন কোয়া‌রেন্টাই‌নে থাকেন। এদিক ওদিক ঘোরাফেরা করবেন না। আপনি নিজেও সংক্রমিত হবেন, পরিবার সদস্যদের সংক্রমিত করবেন। অন্য আরও ১০ জনও আক্রান্ত হবে। আপনাদের দ্বারা কেউ যেন সংক্রমিত না হয়। সে জন্য আপনাদের নিজেদেরকেই সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী ব‌লেন, ‘হাসপাতালসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বপূর্ণ প‌দে যারা কর্মরত আছেন, তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা আমরা করছি। তা‌দের জন্য য‌থেষ্ট প‌রিমাণ স্যা‌নিটাইজারের ব্যবস্থা করা হ‌চ্ছে।’

বাজার প্রসঙ্গে সরকার প্রধান বলেন, ‘খাদ্যসহ অতিরিক্ত জিনিস কিনে ভীতসন্ত্রস্ত পরিবেশ তৈরি করবেন না। বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করা এটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এভাবে খাদ্য মজুত করলে যারা সীমিত আয়ের মানুষ তাদের জন্য খুব কষ্ট হয়। সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেয়ার অধিকার কারও নেই।’

তিনি বলেন, ‘দেখতে পাচ্ছি কিছু লোক সমানে জিনিসপত্র কিনে মজুদ করছেন বা ঘরে নিয়ে যাচ্ছেন। একজন দেখলাম ৩০ কেজি লবণই কিনে ফেলেছেন! এই ৩০ কেজি লবণ দিয়ে উনি কতদিন খাবেন, আমি জানি না। আর সেটা দিয়ে উনি কী করবেন?’

সম্প্রতি পেঁয়াজের দাম বাড়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পেঁয়াজের একবার দাম বাড়ার কারণে অনেকে প্রচুর পেঁয়াজ কিনে মজুদ করেছিলেন। ফলাফল এই হয়েছিল সেগুলো পচে যাওয়াতে ফেলে দিতে হয়েছিল।’

‘কাজেই আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে যার যতটুকু প্রয়োজন, সেইটুকু আপনারা সংগ্রহ করেন’ আরও যোগ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘এইভাবে যদি বাজারের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়, বাজার তখন জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেয়। যার টাকা আছে সে তো কিনতে পারছে, কিন্তু যারা সীমিত আয়ের, তাদের পক্ষে তো এত কেনা সম্ভব না। কাজেই অন্যকে এভাবে কষ্ট দেওয়ার অধিকার কারও নাই।’

খাদ্যপণ্য মজুদের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখনো ১৭ লক্ষ মেট্রিক টন খাদ্য শুধু সরকারি গুদামেই আছে। সাড়ে ৩ লক্ষ মেট্রিক টন গম আমাদের মজুদ আছে। এছাড়াও বেসরকারি আমাদের যে সমস্ত রাইস মিলগুলো আছে, তাদের কাছেও প্রচুর খাদ্য মজুদ আছে। তাছাড়া আমাদের ক্ষেতের ফসল আছে।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত