রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

করোনায় মৃত্যু আরও একজনের, নতুন আক্রান্ত ৪

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও একজন মারা গেছেন। এ নিয়ে দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুই জন মারা গেছেন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন চার জন। এতে করে দেশে এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ২৪ জন।

আজ শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক।

ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী আরও জানান, দেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোয়ারেনটাইনে রাখা হয়েছে ৫০ জনকে।

এর আগে, গতকাল এই সংখ্যা ছিল ৪৪। অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ছয় জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেনটাইনে রাখা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটকে প্রস্তুত করার কথা ভাবছে সরকার। এছাড়া করোনা মোকাবিলায় কয়েক লাখ সুরক্ষা সরঞ্জাম দেশে এসেছে বলেও জানান তিনি। এসময় বিয়েশাদীসহ ধর্মীয় ও সামাজিক জমায়েত বন্ধ রাখার আহ্বান জানান জাহিদ মালেক।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে, তারা প্রবাসীদের দ্বারা সংক্রমিত হয়েছিলেন বলে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘যারা মারা গেছেন তাদের দুজনেরই বয়স বেশি। তারা বিভিন্ন রকম অসুখে আক্রান্ত ছিলেন। বাইরে থেকে এসেই তাদেরকে আক্রান্ত করেছে এবং তারা মৃত্যুবরণ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই না একটি মৃত্যুও হোক বাংলাদেশে। তারপরও মৃত্যু হয়েছে। এটা যাতে সীমিত থাকে। আমরা এই যুদ্ধে জিততে চাই। আপনারা সহযোদ্ধা, আপনারা সাহায্য করবেন।’

করোনা মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগগুলো জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নতুন সাতটি মেশিন এসেছে। এরই মধ্যে ১০০ ইউনিট আইসিইউ স্থাপনের কাজ চলছে। নতুন করে আরও ৪০০ আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করা হবে।

করোনাভাইরাসের আক্রমণ প্রথমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে চীনে। এখন গোটা বিশ্বে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লেও চীনে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। সর্বশেষ দুই দিনে চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন কোনো রোগীও পাওয়া যায়নি। এ পরিস্থিতিতে চীন থেকে বিশেষ আনার বিষয়েও সরকার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী দফতরে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। আমরা অনুরোধ করব, করোনাভাইরাস নিয়ে আপনারা তথ্য পরিবেশন করুন। তবে যেসব তথ্য ‘প্যানিক’ ছড়ায়, সেগুলো যেন প্রচার না হয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, ‘প্রত্যেক দিন এয়ারপোর্টে ল্যান্ডপোর্টের মাধ্যমে প্রায় ১০-১৫ হাজার লোক দেশে ঢুকছে। আমরা এই ১০-১৫ হাজার লোককে কোথায় রাখব, যে রাখার জায়গা আছে? আপনার স্টেডিয়ামেও তো রাখার জায়গা হবে না। সেই জন্য আমরা হোম কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করেছি।

তিনি বলেন, ‘চীনের উহানে কাজ করা কিছু অভিজ্ঞ ডাক্তার-নার্স নিয়ে আসার চেষ্টা করছি আমরা। আমাদের দেশের ডাক্তার ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোতে যেসব গ্যাপস, তা খুঁজে বের করবেন এবং আমরা সে অনুযায়ী তা পূরণ করার চেষ্টা করব।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিদেশফেরত লোকজন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে চান না।এজন্য বাধ্য হয়ে তাদের অনেককেই ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

‘আমাদের দেশের লোকও অনেকেই আছে, সকলেই নয়, এত ইরেসপন্সিবল হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার পরও জানালা দিয়ে লাফিয়ে, গেটের দরজা দিয়ে লাফিয়ে বাইরে যাচ্ছে। আমরা এখন পুলিশকে বলেছি, তাদের তালাবদ্ধ করে রাখো। তাদের তালাবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে অনেককে। তারা মনে করে এটা বুঝি জেলে রাখা হলো।’

তার মঙ্গলের জন্য, তার পরিবারের মঙ্গলের জন্য এই কাজটি (তালাবদ্ধ) করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না কেন-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি। অনেকাংশে বন্ধ হয়ে গেছে। ইউরোপের অনেক ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে। মিডল ইস্টের অনেক ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে। এখন দুই-একটি ফ্লাইট চালু আছে ইমার্জেন্সি কাজের জন্য। এটাও পর্যায়ক্রমে…।’

এ সময় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ৫০ জন এবং হোম কোয়ারেন্টিনে ১৪ হাজার আছেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মার্চের শুরু থেকে যারা বিদেশ থেকে এসেছেন, আত্মগোপনে থাকলেও তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে।’

করোনা সচেতনতায় জনসমাগম এড়িয়ে চলা ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে এমন কিছুই দেখা যায়নি। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘আপনাদের দিকে আমরা সারা দেশের মানুষ তাকিয়ে আছি, অথচ আপনার ব্রিফিংয়ে আপনার পেছনে ৩৭ জন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, এটির কি প্রয়োজন আছে? এটি কোনো স্বাস্থ্যকর অবস্থা নয়। যারা দায়িত্বশীল পদে তারা যদি উদাহরণ তৈরি করেন তাহলে আমাদের জন্য অন্যদের মেসেজ দিতে সুবিধে হয়।’

উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন একটি যুদ্ধাবস্থায় আছি। যুদ্ধাবস্থায় সব সিস্টেম মেনে চলা সম্ভব হয় না। আমরা এটা বুঝি, আপনারাও বোঝেন; আমাদের সকলের নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে। তারপরও দেশের তাগিদে, দেশের মানুষের তাগিদে আমাদের কাজ করতে হয়।’

‘আমরা চেষ্টা করব আরও সংক্ষিপ্ত আকারে যেন এটি করা যায়, আইসিটির মাধ্যমে করা যায়। যেখানে এত লোকের সমাগম হবে না। এটি আমরা অবশ্যই করব আগামীতে। এটা আমরা অবশ্যই মনে রাখব’, যোগ করেন মন্ত্রী।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত