মঙ্গলবার, ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

‘ঘটনা পরিকল্পিত, প্রত্যাহার হচ্ছেন কুড়িগ্রামের ডিসি’

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, কুড়িগ্রামে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাংবাদিককে ধরে নির্যাতন চালানোর পর মাদক দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত। এ অভিযোগে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে অভিযুক্ত অন্যদেরকেও প্রত্যাহার করা হবে।

রোববার (১৫ মার্চ) বেলা আড়াইটার দিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছেন এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পেয়েছে মন্ত্রণালয়। তারই ভিত্তিতে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রত্যাহারের আদেশ স্বাক্ষরিত হয়নি। স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি আগেই বলছি না।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। সুতরাং তারও কনসার্নের বিষয় রয়েছে। তিনি এরই মধ্যে শুনেছেন এবং এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। আশা করছি, বিকেলের মধ্যে প্রত্যাহারের একটি আদেশ হাতে পাওয়া যাবে।’

এক প্রশ্নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকের এ রকম কাজের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। এ নিয়ে প্রশাসনের সব মহলে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে তিনি ভুল কাজ করেছেন। এখন তার ভুলের জন্য তাকে শাস্তি পেতেই হবে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তার প্রথম যে ন্যুনতম শাস্তি তা হলো প্রত্যাহার করে নেওয়া। সেটি হচ্ছে। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে। তার ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্ত হবে আবারও। সে অনুযায়ী তার বিচার হবে। শাস্তি হবে।’

এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ওই ঘটনার তদন্ত করে ডিসির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ডিসি সুলতানা পারভীনসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্তে প্রাথমিকভাবে তার কর্মকাণ্ডে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ‘অধীনস্তরা বসের নির্দেশনায় কাজ করে। এ ক্ষেত্রে তারাও কোনো গাফিলতি করেছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ডিসির কার্যক্রমে বেশকিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। তাকে প্রত্যাহার করার বিষয়ে বেশকিছু প্রসিডিউর শেষ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘ডিসি প্রত্যাহার তো হবেনই। কর্ম অনুযায়ী তার শাস্তিও হবে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে কোনো রাখঢাক করা হবে না।’

কাউকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্ন নেই জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। রাতে মোবাইল কোর্ট করা যায় কিনা, এ নিয়ে অসঙ্গতি আছে। এর অপব্যবহার যেন না হয় সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে দায়িত্বশীলদের।’

অন্যদিকে, রোববার সকাল পৌনে ১১টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জামিনে মুক্তি দেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের এই জেলা প্রতিনিধিকে।

এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাজার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজাউদ্দৌলার আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আপিল ও জামিনের আবেদন করেন রিগ্যান। সকাল পৌনে ১১টার দিকে শুনানি শেষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজাউদ্দৌলা ২৫ হাজার টাকা জামানতে তার আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন ও কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব নিলুর জিম্মায় তাকে জামিন দেন। এর কিছুক্ষণ পরই কুড়িগ্রাম জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

এদিকে তার সাজার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৫ মার্চ) এ বিষয়ে আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত