শনিবার, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

করোনার উপসর্গ না লুকিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন : প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে লুকিয়ে না রেখে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গণভবনে মুজিব বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম-পরিচ্ছন্ন শহর’ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) আক্রান্ত হলে বিষয়টি লুকানোর কিছু নয়। এই রোগের যে কোনো উপসর্গ দেখা দেয়া মাত্র ডাক্তার দেখাবেন, পরামর্শ নেবেন। এবং সে অনুযায়ী চলবেন। সেটাই আমরা চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ রোগের চিকিৎসাসেবা দিতে হাসপাতালে আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি জেলা-উপজেলায়ও আমাদের হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রেখেছি। তাই আমি বলব, যদি কেউ মনে করেন যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বা করোনার কোনো নমুনা শরীরে দেখা দিচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আইইডিসিআর থেকে প্রতিনিয়ত দেশবাসীকে সচেতন করা হচ্ছে। তারা যেসব সচেতনতামূলক নির্দেশনা দিচ্ছেন সেটা অবশ্যই সবাইকে মেনে চলতে হবে। তাহলেই আমরা আমাদের দেশটাকে এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারব।’

তিনি যোগ করেন, ‘বিদেশ থেকে কেউ আসলে তার সঙ্গে মিশবেন না। তাকে অন্তত কিছুদিন আলাদা থাকতে দেবেন।’

করোনাভাইরাস বিষয়ে আতঙ্কিত না হতে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী এ ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কিন্তু আপনারা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকবেন। যে যে কাজগুলো করলে এ রোগ ছড়ায় সে কাজ করবেন না। যেখানে সেখানে কফ, থুতু ফেলবেন না। হাঁচি কাশি দিলে রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করবেন। যানবাহন রাস্তাঘাটে বা কোথাও গিয়ে কারও সঙ্গে হ্যান্ডশেক করবেন না। হাতে হাত মেলাবেন না। কোলাকুলি করবেন না। এগুলো থেকে আপাতত দূরে থাকুন।নিজে ভালো থাকবেন, অপরকে ভালো রাখবেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, মহামারী হলেও বাংলাদেশ এখনো ভালো আছে। তবে ভালো থাকতে হলে সচেতন থাকতে হবে।’ এ সময় হাত ধরতে এবং কাউকে জড়িয়ে না ধরার পরামর্শও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবাইকে আমি অনুরোধ করব, হাঁচি-কাশি এলে আপনারা হাতের তালু না নিয়ে হাতের মাধ্যমে, কনুই ব্যবহার করেন। হাত মেলানো, কোলাকুলি করা বা কাউকে জড়িয়ে ধরা এগুলো বন্ধ রাখতে হবে। কখন কার মাঝে যে এই রোগ আছে আর কখন চলে আসবে, এটি কেউ বলতে পারে না। সে জন্য সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকা দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতির পিতা এই বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন এবং দেশের মানুষকে উন্নত সমৃদ্ধ জীবন দিতে চেয়েছিলেন। আমরা তারই আদর্শ নিয়ে দেশ পরিচালনা করছি। আমরা চাই, বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে। বাংলাদেশকে আর কেউ কোনোভাবে যেন অন্য চোখে দেখতে না পারে। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী আজকে যে সম্মান পেয়েছে, সেই সম্মান ধরে রেখে এগিয়ে যাবে। আমরা বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে চলতে চাই।’

দেশকে সুন্দভাবে গড়ে তুলতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে গেলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এটি আমাদের সকলের জন্য দরকার। আমাদের ধর্মেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কথা বলা আছে। আমরা চাই যে, দেশের মানুষ সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে। এটা শুধু দেশ বলে না, প্রত্যেকটা মানুষের ব্যক্তিগত জীবনেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে। নিজে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা না থাকলে আশপাশের মানুষগুলো ভালো থাকতে পারবে না।’

মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধনের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে পরিচ্ছন্নতার জন্য একটি ব্যবস্থা নিচ্ছি বা মানুষের মাঝে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে চাচ্ছি। এটির কারণ হচ্ছে যে, আমাদের দেশের সব মানুষই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হোক। কারও রোগ যেন আরেকজনের শরীরে সংক্রমিত না হয়।’

খোলা বাতাস একান্তভাবে প্রয়োজন। আজকে অবশ্য যারা একটু অর্থশালী তাদের আবার এসি রুমে থাকার প্রবণতা একটু বেশি। এতে একজনের রোগ আরেকজনের কাছে খুব দ্রুত সংক্রমিত হয়। কিন্তু যতবেশি আমরা খোলা বাতাসে থাকতে পারব বা বাতাস আসার একটা সুযোগ করতে পারব? ততই কিন্তু আমরা ভালভাবে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারব বলেও জানান তিনি।

একেবারে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন,উপজেলা জেলা পর্যায় পর্যন্ত এবং প্রত্যেকটা বিভাগীয় শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রত্যেককে সুর্নিদিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলার আহ্বান জানান। একইঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জায়গা সুনির্দিষ্ট থাকার পাশাপাশি রিসাইক্লিং করার করার জন্য সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্যোগ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে নিজেরা সচেতন থাকার পাশাপাশি অপরকে সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি।। এছাড়াও নিজের জায়গা, নিজের দেশ, নিজের মাটি, সব জায়গা সুন্দর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সবাই সুন্দরভাবে বাঁচবে, সবাই সুন্দরভাবে থাকবে এবং সবাই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে। সেটিই আমাদের আকাঙ্ক্ষা। আমি চাই, আপনারা সবাই বিষয়গুলো মেনে চলবেন। আমি মনে করি, আমরা যদি এভাবে চলতে পারি আমাদের দেশটি আরও উন্নত হবে।’

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, স্থানীয় সরকার পল্লী, উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত