শুক্রবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

করোনাভাইরাসে আর কেউ আক্রান্ত হয়নি

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আর কোনো নতুন রোগী পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন জাতীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্য সতর্কতা বিষয়ে আজ সোমবার দুপুরে আইইডিসিআরের সম্মেলন কক্ষে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা.মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, ‘গতকাল বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দেশে তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এর পরে আরও চারজনের নমুনা সংগ্রহ করেছি, তবে কারোর মধ্যেই করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তার মানে এ পর্যন্ত সর্বমোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা তিনজনই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তারপর থেকে ৫টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৫০৯টি ফোনকল পেয়েছি হটলাইনে। অনেকেই অবশ্য হটলাইনে ঢুকতে পাচ্ছেন না। কারণ হটলাইন সবসময় বিজি থাকছে। এর মধ্যে ৪৭৯টি কলই হলো করোনাসংক্রান্ত।’

গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘তবে কারও শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তার মানে এখন পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা তিনজন।’

তিনি বলেন, ‘আইইডিসিআরে সরাসরি এসেছেন ১৮ জন। যারা বিদেশ থেকে আসছেন, আক্রান্ত দেশের সংখ্যা এখন অনেক। যারা আক্রান্ত দেশগুলো থেকে আসছেন তারা অবশ্যই ১৪ দিন বাড়িতে অবস্থান করবেন। এ ১৪ দিন বাড়িতে অবস্থানের ক্ষেত্রে তাদের যারা প্রতিবেশী বা বন্ধু-বান্ধব তাদের সহযোগিতা চাইব। যদি বিদেশ থেকে এসে কেউ বাইরে বেরিয়ে আসে তবে তাদের মনে করিয়ে দেন যে, উনাকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। অনেক সময় হয়তো উনাদের খেয়াল থাকতে নাও পারে। কিন্তু ১৪ দিন তাদের কোয়ারেন্টাইনে থাকতেই হবে।’

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘যারা দেশের বাইরে থেকে আসছেন তাদের সঙ্গে আশপাশের প্রতিবেশীরা বা বাড়ির মালিকরা শঙ্কিত হয়ে একটু ভিন্ন আচরণ করছেন। আমরা যদি তাদের সহযোগিতা না করি, তাদের যদি বাসা থেকে গিয়ে হোটেলে বা অন্য কোথাও থাকতে হয় তাহলে কিন্তু এটা আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। আমরা ইতোমধ্যে বারবার বলেছি যে, বিদেশ থেকে আসলেই কিন্তু আক্রান্ত নন। যদি কেউ সংক্রমিত হয়েও থাকেন এবং বাইরে ঘোরেন তাহলে এটা ছড়িয়ে পড়বে। তাই তারা যেন বাড়িতেই থাকেন, সে সহযোগিতা করতে হবে।’

বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক বলেন, ‘এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত দেশের সংখ্যা ১০২টি। নতুন দেশ সংযোজিত হয়েছে আটটি। বুলগেরিয়া, কোস্টারিকা, ফারল আইল্যান্ড, ফ্রান্স, গিনি, মাল্টা, মালদ্বীপ, মার্টিনিক অ্যান্ড রিপাবলিক অব মলদোভা।’

তিনি বলেন, রোগ নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী সংযোজিত হয়েছে ৩ হাজার ৬৫৬ জন। মোট মৃত্যুর সংখ্যা সারা বিশ্বে ৩ হাজার ৫৮৪ জন। নতুন সংযোজিত হয়েছেন মোট ৯৮ জন।

তিনি আরও বলেন, চীনে সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৮৫৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ জন এখানে সংযুক্ত হয়েছেন। চীনে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩১শ। নতুন সংযোজিত হয়েছেন ২৭ জন।

চীনের বাইরে আক্রান্ত দেশের সংখ্যা এখন ১০১টি। নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ২৪ হাজার ৭২৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সংযোজিত হয়েছে ৩ হাজার ৬১০ জন। সর্বমোট মৃত্যুর সংখ্যা চীনের বাইরে অন্যান্য দেশে ৪৮৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সংযোজিত হয়েছে ৭১ জন।

দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, ইরান দেশগুলোর দিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছেন জানিয়ে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, ‘ইতালিতে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৩৮৭ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৬৭ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৬২২ জন। ২ হাজার ১৮০ জনকে বাড়িতে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। হাসপাতালে আছে ৩ হাজার ৫৫৭ জন। আইসিইউতে আছে ৬৫০ জন।

চীনের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে জানিয়ে ডা.মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ৪১ জনই হুবেই প্রদেশের। এর বাইরে কেবল পাঁচজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর যে ২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে তা কেবল চীনের হুবেই প্রদেশে হয়েছে।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত