শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৩ জন: আইইডিসিআর

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে একজন নারী ও দুজন পুরুষ। এদের মধ্যে দুজন ইতালিফেরত। এদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এ তিনজন ছাড়াও আরও দুজনকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

রোববার (৮ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে আইইডিসিআরে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১০৪তম দেশে পরিণত হলো বাংলাদেশ।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে একজন নারী, দু’জন পুরুষ। তাদের পরিচয় প্রকাশ করেননি আইইডিসিআর পরিচালক। তবে জানিয়েছেন, ইতালি থেকে দু’জন ঢাকায় আসার পর ঢাকার বাইরে যাননি। তাদের সংস্পর্শে আসা তৃতীয় ব্যক্তিও ঢাকার। ইতালি থেকে যে দু’জন এসেছেন, তারা দু’জন ভিন্ন পরিবারের। এর মধ্যে একজনের সংস্পর্শ থেকে তার পরিবারের এক ব্যক্তির মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। আক্রান্তদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

ডা. ফ্লোরা জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া তিন জনের বাইরে আরও তিন জনকে কোয়ারেনটাইন করে রাখা হয়েছে। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আক্রান্ত ও কোয়ারেনটাইনে রাখা ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ আলাদা করে রাখা হয়েছে।

আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, ইতালি থেকে দুই ব্যক্তি দেশে আসার সময় তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ ছিল না। পর জ্বর ও সর্দি-কাশি দেখা দিলে তারা আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দ্রুত তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, গতকালই (শনিবার, ৭ মার্চ) আমরা আক্রান্ত ব্যক্তিদের কন্টাক্ট ট্রেসিং (আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা) করেছি। তাদের রক্তের নমুনাও পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে আরও একজনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে।

যারা দেশের বাইরে থেকে এসেছেন বা আসছেন, তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের যেকোনো ধরনের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয় ব্রিফিং থেকে। একইসঙ্গে দেশের বাইরে যারা আছেন, তাদের প্রতিও নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

প্রস্তুতি রয়েছে, আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেলেও এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করছেন অধ্যাপক ডা. ফ্লোরা। তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার জন্য এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রত্যেককে এখনই মাস্ক পরে ঘুরে বেড়াতে হবে, এমন পরিস্থিতি হয়নি। তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

ডা. ফ্লোরা বলেন, এই ভাইরাস যেন অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে, আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারব বলে আশাবাদী। এ বিষয়ে আমরা গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা মনে করছি না, এই ভাইরাস সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সরকারের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, আমরা হাসপাতালগুলোতে আইসোলেটেড ইউনিটের ব্যবস্থা করেছি। এখন আমরা আইসোলেটেড হাসপাতাল করা যায় কিভাবে, তা দেখছি। শুধু হাসপাতাল নয়, স্কুল-কলেজ বা অন্য কোথাও-ও হাসপাতাল স্থাপন করা যায় কি না, এ বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে দেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখতে হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. ফ্লোরা বলেন, এখনই সে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছি না। তবে জনসমাগম ও গণপরিবহন যতটাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাকি সময় ঘরে থাকাই শ্রেয়।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত