সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

করোনায় শ্রমিক আসেনি চীন থেকে, এলো রোবট

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

করোনাভাইরাসের কারণে পদ্মাসেতু প্রকল্পে স্প্যান তোলার কাজ পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও দ্রুতই তার সমাধান এসেছে। যেসব চীনা প্রকৌশলী ও শ্রমিক স্প্যান জোড়া লাগানোর কাজ করেন তারা চীনে আটকা পড়ায় এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে বিষয়টি সামলে নিতে দেশে আনা হয়েছে মেশিন রোবট।

সেতু কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল সূত্র সারাবাংলাকে জানিয়েছে এ ধরনের ১৫ টি রোবট এরইমধ্যে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। এই রোবট এখন পদ্মাসেতু প্রকল্পে স্প্যান ওয়েল্ডিংয়ের কাজ শুরু করেছে।

সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং (এমবিইসি) –এর এক প্রকৌশলী জানান, দিনকয়েক আগেই মেশিন রোবটগুলো দেশে পৌঁছায়। প্রকৌশলীরা এরইমধ্যে পদ্মাসেতুর স্প্যান ওয়েল্ডিংয়ে সেগুলো ব্যবহার করছেন।

এই কর্মকর্তা নিজেও চীন থেকে ফিরেছেন জানিয়ে বলেন, ‘প্রায় ১৪ দিন কোয়ারানন্টাইনে থাকার পর এখন প্রকল্পের কাজে যোগ দিয়েছি।’

তার সঙ্গে আলাপে জানা যায়, দুটি স্প্যানের স্ট্রাকচার তৈরি হয়ে আসা ছাড়া পদ্মাসেতুর আর কোনো কাজ এখন দেশের বাইরে নেই। ওই দুটি স্প্যান সাংহাই বন্দরে আটকা পড়ে আছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এগুলো দেশে আনা হবে।

অন্যদিকে, মাওয়া কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে কয়েকটি স্প্যানের টুকরো জোড়া দেওয়ার কাজ আটকে যায় করোনাভাইরাসের কারণে।

সূত্র জানায়, চীনা নববর্ষের ছুটিতে যাওয়ার পর সে দেশীয় বেশ কিছু শ্রমিক করোনাভাইরাসের কারণে আটকা পড়েন। ফলে তারা যে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করতেন এবং টুকরোগুলো জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ স্প্যান তৈরির কাজে নিয়োজিত ছিলেন, তা আটকে গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে চায়না মেজর ব্রিজ কাজ এগিয়ে নিতে চীনা শ্রমিকের বদলে দেশটি থেকে কয়েকটি রোবট নিয়ে আসে। সেগুলোই এখন ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চালিয়ে নিচ্ছে।

এমবিইসি কর্মকর্তা জানান, একেকটি রোবট কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ জনের শ্রমিকের কাজ করতে পারে। তার সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমিক যারা এতদিন চীনা শ্রমিকের সঙ্গে মিশে এ কাজ করেছিলেন তারাও দক্ষ হয়ে উঠেছেন। এখন রোবটের পাশাপাশি দক্ষ কিছু বাংলাদেশি শ্রমিক এই ওয়েল্ডিং কাজ সম্পন্ন করছেন।

প্রকল্পের কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, আগে ক্রেন বা মেশিন পরিচালনায় যে চীনা শ্রমিক কাজ করতেন তার জায়গায় বাংলাদেশিরা কাজ করছেন।

এদিকে, প্রকল্প কর্মকর্তারা বাংলাদেশের সরকারের প্রতি অনঅ্যারাভাইল ভিসা পুনর্বহাল চেয়েছেন। কারণ অনেক চীনা প্রকৌশলীরা ভিসা না পাওয়ায় এখন বাংলাদেশে আসতে পারছেন না।

করোনা নিয়ে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্টদূত লি জিমিং বলছেন, বাংলাদেশ সরকারকে বিভিন্ন কাস্টমস ও বন্দর চেকপোস্টে করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে আরও সতর্কতা নিতে হবে। করোনা এখন যে শুধু চীন থেকে আসবে এমনটা নয় অন্য দেশ থেকেও এটি বাংলাদেশে আসতে পারে—এমন মত দিয়ে তিনি বলেন, ‘চীন এখন এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সতর্ক রয়েছে।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘অন অ্যরাইভাল ভিসা চালু করলে বিভিন্ন প্রকল্পে চীনা প্রকৌশলী এসে যোগ দিতে পারবেন। কারণ চীন সরকার যথাযথ পরীক্ষার পরই তার নাগরিককে অন্যত্র ছাড়ছে।’

পদ্মাসেতু সেতু ও রেল সংযোগ এই দুই প্রকল্পে এখন শতাধিক চীনা নাগরিক স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে অবস্থান করছেন। চীন থেকে ফেরার পর ১৪ দিন পর্যন্ত তারা নিজ কক্ষে আবদ্ধ অবস্থায় থাকছেন। এবং নিজেরা সুস্থ আছেন এমনটা নিশ্চিত হয়েই প্রকাশ্যে আসছেন এবং কাজে যোগ দিচ্ছেন।

পদ্মাসেতুর কাজ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এভাবে ধাপে ধাপে চীনা কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের আনতে চাচ্ছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

এমবিইসি ও রেল সংযোগ প্রকল্পের চায়না রেলওয়ে আশঙ্কা করছে, প্রকৌশলীরা সময়মতো না ফিরতে পারলে ঠিক সময়ে পদ্মাসেতু ও রেলসংযোগ চালু করা অনিশ্চিয়তায় পড়বে।

এমবিইসি জানায়, দুটি পিলার এবং ১৬ টি স্প্যান স্থাপন কাজ ছাড়া পদ্মাসেতুর বাকি সব কাজ শেষ। এগিয়ে চলছে স্প্যানের ভেতরে রেলস্লাব ও উপরে সড়কস্লাব বসানোর কাজ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত