মঙ্গলবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে আরেক দফা ধাক্কা খেল বিএনপি

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে আরেক দফা ধাক্কা খেল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। ঢাকায় সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক বাতিল হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এমনটিই মনে করছেন খোদ বিএনপি নেতারা।

দলীয় সূত্রমতে, বিএনপির পররাষ্ট্র উইংয়ে ভারত চ্যাপ্টারের দায়িত্বে থাকা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বৈঠক করার সুযোগ পেয়েছিলেন শ্রিংলার সঙ্গে। বিএনপির পক্ষ থেকে আপ্রাণ চেষ্টার পর সফররত ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বিএনপির তিন নেতার সঙ্গে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১০টায় প্যানপ্যাসেফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু পূর্বনির্ধারিত বৈঠকের তিন ঘণ্টা আগে মঙ্গলবার সকাল সাতটায় বিএনপিকে জানিয়ে দেওয়া হয় অনিবার্য কারণে বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। তবে বৈঠক কেন বাতিল করা হলো— সে ব্যাপারে ভারতের হাইকমিশন কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি বিএনপিকে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় সাড়ে সাতটায় শামা ওবায়েদের কাছে বৈঠক বাতিলের কারণ সম্পর্কে তার মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু জানি না। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জিজ্ঞেস করুন।’

এর আগে রোববার (২ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আসা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসছেন পাশের দেশ থেকে— ভালো কথা। কিন্তু যখন আসছেন, তখন দিল্লিতে নিকৃষ্টতম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ আসছে, এই দাঙ্গার সঙ্গে মোদির দল ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’ (বিজেপি) জড়িত। এ রকম একটা পরিস্থিতির মধ্যে মোদির বাংলাদেশে আসাটা কতটুকু শোভনীয়— সে বিষয়ে চিন্তা করা দরকার।’

শ্রিংলার সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধি দলের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিলের ব্যাপারে বুধবার (৪ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিএনপির বেশকয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হয় সারাবাংলা প্রতিনিধির। বিএনপির বেশিরভাগ নেতা মনে করেন ভরতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ঢাকায় পা রাখার ২৪ ঘণ্টা আগে বিএনপির মহাসচিবের দেওয়া ওই বক্তব্যই পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক বাতিল হওয়ার একমাত্র কারণ।

ঠিক সাত বছর আগে ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেছিলেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। জোটসঙ্গী জামায়াতের হরতালের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করায় বিএনপির-ভারত সম্পর্কে স্থায়ী ফাটল ধরে।

দলীয় সূত্রমতে, গত সাত ধরে বিএনপি আপ্রাণ চেষ্টা করেছে এই ফাটল সারাতে। বিভিন্ন সময় দলের পক্ষ থেকে দিল্লিতে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। প্রণব মুখার্জির বৈঠক বাতিল করার পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজে গিয়ে হোটেল সোনারগাঁওয়ে দেখা করে এসেছেন।

দলের কাউকে না জানিয়ে লন্ডন থেকে একটি প্রতিনিধিদল ও ঢাকা থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দিল্লিতে পাঠিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককেও ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রণব মুখার্জির সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিলের পর গত সাত বছরের চেষ্টায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে যতটুকু এগিয়েছিল বিএনপি এবারের বৈঠক বাতিলের মধ্য দিয়ে তার অনেকটাই পিছিয়ে গেল। বিএনপির ব্যাপারে দিল্লির বৈরিতাপূর্ণ মনোভাব স্থায়ী রূপ নিল এবং এটা মুজিববর্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের কারণেই হলো।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধি দলের বৈঠকের ব্যাপারে আমার কিছু জানা ছিল না। বৈঠক বাতিলের ব্যাপারেও আমি কিছু জানি না। সুতরাং এ ব্যাপারে আই হ্যাভ নো কমেন্ট।’

বিএনপির ফরেন উইংয়ের সদস্য দলের বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠক ছিল- এটা আমি জানতাম না। পত্রিকার মাধ্যমে আজ জানতে পেরেছি। আর মহাসচিবের বক্তব্যের কারণে বৈঠক বাতিল হয়েছে কী-না, আমি সে বিষয়ে অবগত নই। মহাসচিব যে কথাটি বলেছেন, সেটা বাংলাদেশের জনগণের সেন্টিমেন্টের প্রতিফলন।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত