রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

পাওয়ার প্লান্টের নামে হরিলুটের ভর্তুকি দিতেই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: ফখরুল

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বর্তমান সরকারের সময়ে আটবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে, জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পাওয়ার প্লান্টের নামে তারা যে লুটপাট করেছে, তার ভর্তুকি দেয়ার জন্যই এই দাম বৃদ্ধি।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি এ মানববন্ধন আয়োজন করে।
ফখরুল বলেন, ‘জোর করে, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে, বন্দুক-পিস্তল দিয়ে, ৩০ তারিখের নির্বাচন ২৯ তারিখে করে নিয়ে ক্ষমতা দখল করে আছে এই সরকার। এই ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করা।
তিনি বলেন, ‘পানির দাম কমপক্ষে পাঁচবার বাড়ল এবং সেই পানি যে পানি মুখে দেওয়া যায় না, খাওয়া যায় না। বিদ্যুতের দাম আটবার বেড়েছে। কারণ, ওই যে কুইকরেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের নামে তারা যে লুট করছে, প্রতিদিন লুট করছে, তার ভর্তুকি দেওয়ার জন্য জনগণের পকেট কাটতে বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পাওয়ারপ্ল্যান্টে যে চুক্তিগুলো করেছে, যদি কোনো পাওয়ারপ্ল্যান্ট বিদ্যুৎ সরবরাহ না করে, তারপরও তাকে পয়সা দিতে হবে। এই হলো চুক্তির একটা অংশ। প্রতিবছর তাদের ৫১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। আর এই টাকা বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট থেকে নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘যখন দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, চালের দাম বাড়ছে, পেঁয়াজের দাম বাড়ছে, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে, লবণের দাম বাড়ছে, কাপড়ের দাম বাড়ছে, বাড়ি ভাড়া বাড়ছে, তখন আবার এই বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে, পানির দাম বাড়িয়ে নিম্নবিত্ত মানুষকে চরম অসহায়ত্বের মধ্যে ফেলে দিয়েছে এই সরকার।’
জনগণের প্রতি সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘তারা যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে নির্বাচনে এসছে। সুতরাং জনগণের দুঃখ-দুর্দশা বোঝার মতো ক্ষমতাই তাদের নেই।’
‘বিদ্যুতের মূল্য অতি সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা যেন জনগণ মেনে নেয়’— আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘জনগণ মেনে নেবে না। আপনারা প্রায় ১২ বছর ধরে জনগণের ওপরে যে অত্যাচার নিপীড়ন চালাচ্ছেন, জনগণ কখনোই তা আর মেনে নেবে না। আপনাদেরকে অবশ্যই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জবাব দিতে হবে।’
‘আপনারা সুপরিকল্পিতভাবে সংবিধানকে কেটে ছেটে নষ্ট করে দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করছেন। দেশে একনায়কতন্ত্র ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন’— বলেন ফখরুল।

খালেদা জিয়া ইস্যু

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্রের নেত্রী খালেদা জিয়া— যিনি তার সারাটা জীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। আজকে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে, সাজা দিয়ে কারাগারে রেখেছেন। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। আমি এই মাত্র দেখছিলাম তার মেডিকেল রিপোর্ট। ২৫ ফেব্রুয়ারি যে ব্লাড টেস্ট করানো হয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে তার ফাস্টিং সুগার হচ্ছে ১৪.৫। চিন্তা করা যায় না! ১৪.৫ যদি ফাস্টিং সুগার হয়, তাহলে সেটা তার হার্টে অ্যাফেক্ট করতে পারে, কিডনি অ্যাফেক্ট করতে পারে, লাং-এ অ্যাফেক্ট করতে পারে!’
‘এতো কিছুর পরও দুর্ভাগ্য আমাদের পিজি হাসপাতালের ডাক্তররা সত্যি রিপোর্ট দিতে পারলেন না। সরকার বাধ্য করেছে তাদেরকে বানানো রিপোর্ট দিতে। দুর্ভাগ্য আমাদের, আজকে উচ্চ আদালত সঠিক বিচার করতে পারে না। কারণ, বাংলাদেশে এখন একনায়কতন্ত্র চলছে, ফ্যাসিবাদী শাসন চলছে’— বলেন মির্জা ফখরুল।
রোহিঙ্গা ও পররাষ্ট্র ইস্যু
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার পররাষ্ট্রনীতিকে সর্বনাশ করে ফেলেছে। আজ পর্যন্ত রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারে নাই। অবশ্য কেউ কেউ বলে রোহিঙ্গা সমস্যা তারা নিজেরাই জিইয়ে রেখেছে। এটা দিয়ে তাদের লাভ হয়। পশ্চিমা বিশ্বের একটা সমর্থন পাওয়া যায়। আর যে সাহায্য আসে, সেখান থেকে ভাগ-বাটোয়ারাও পাওয়া যায়।’
‘অন্যদিকে সীমান্তে আমাদের মানুষকে হত্যা করা হয়। সেই হত্যা বন্ধে কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। যে নদীগুলো ভারত থেকে আসছে, সেই নদীগুলোর পানির কোনো ব্যবস্থা পাইনি। তিস্তা নদীর পানির ব্যবস্থা পাইনি। অন্যদিকে ফেনী নদীর পানি আমরা দিয়ে দিয়েছি। পোর্ট ব্যবহার করতে দিয়েছি— সব দিয়ে দিয়েছি’— বলেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন- এনআরসি তৈরি করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেব। অথচ আমাদের সরকার বলছে, এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এই নতজানু সরকার, পুতুল সরকার, তাদেরকে দিয়ে কোনো আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে না।’
ফখরুল আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার এই মাসে আমরা বলতে চাই, এই সরকার স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারবে না। এই স্বাধীনতাকে তারা বিক্রি করে দিচ্ছে। আমাদেরকে অবশ্যই রুখে দাঁড়াতে হবে। জেগে উঠতে হবে। আমাদের স্বাধীনতাকে আমাদেরকেই রক্ষা করতে হবে। খালেদা জিয়াকেও মুক্ত করে নিয়ে আসতে হবে। আসুন আমরা সবাই জেগে উঠি। জেগে এই ভয়াবহ দানবকে পরাভূত করি।’
ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সভাপতি হাবীব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, যুব দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত