শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

‘ভারত যেন বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশাকে প্রাধান্য দেয়’

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

প্রতিবেশি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের স্বর্ণ যুগ চলছে। এর মধ্যেও সীমান্ত হত্যা, তিস্তার পানি বন্টনসহ একাধিক ইস্যু ঝুলে আছে। এদিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১৭ মার্চ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে ঢাকায় আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার এই সফরকে ঘিরে ঢাকার চাওয়া হচ্ছে, ভারত যেন বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা ও ইচ্ছার প্রাধান্য দেয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফর নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় একটি অতিথি ভবনে রোববার (১ মার্চ) গণমাধ্যমকর্মীদের আলাপ হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদিকে আমরা দাওয়াত দিয়েছি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি আসবেন। সোমবার (২ মার্চ) ভারতের পররাষ্ট্র সচিব আসবেন এ নিয়ে আলাপ করার জন্য। তার সফরে অনেককিছু নিয়েই আলাপ হবে।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফর নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন আরও বলেন, ‘আমাদের নিয়ম অনুযায়ী মেহমানদের যেসব সম্মান করার কথা, আমরা তার সবকিছুই করব। তবে আমরা এটাও আশা করি যে, আমাদের মেহমানরা বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা ও ইচ্ছার বিষয়ে তারা যেন একটা ভালো অবস্থান নেয়।’

এদিকে ঢাকা-নয়াদিল্লি কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সীমান্তে হত্যা, তিস্তার পানি বণ্টনসহ একাধিক ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কিছুটা অস্বস্তি চলছে। এই অস্বস্তি বাড়িয়েছে গত ডিসেম্বরে ভারতের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় ‘বিতর্কিত’ এনআরসি (ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি) বিল পাস এবং পরবর্তী সময়ে এই বিলটিকে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) হিসেবে অনুমোদন দেওয়া। যার জের ধরে একাধিক মন্ত্রীর ভারত সফর বাতিল হয়। সিএএ অনুমোদন হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে, যে আন্দোলন এখনও চলছে। দিল্লির শাহীনবাগে দুই মাস ধরে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এমনকি এই আন্দোলনে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো আরও জানাচ্ছে যে, সিএএ ইস্যুটি নয়াদিল্লির একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে ঢাকা উল্লেখ করে এই বিষয়ে প্রকাশ্য কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তিস্তা বা সীমান্ত হত্যা নিয়ে এরই মধ্যে ঢাকার পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

ভারত সফর থেকে ফিরে গত ২০১৮ সালের ৩০ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেন, ‘আমি কোনো প্রতিদান চাই না। প্রতিদানের কী আছে? আর কারও কাছে পাওয়ার অভ্যাস আমার কম। দেওয়ার অভ্যাস বেশি। আমরা ভারতকে যেটা দিয়েছি তারা তা সারা জীবন মনে রাখবে। প্রতিদিনের বোমাবাজি, গুলি থেকে আমরা তাদের শান্তি ফিরিয়ে দিয়েছি। এটা তাদের মনে রাখতে হবে।’

২০১০ সালে সীমান্তে হত্যা বন্ধের বিষয়ে দুদেশ সম্মত হয়েছিল। এমনকি প্রাণঘাতী কোনো অস্ত্র ব্যবহার না করার জন্যও সম্মত হয় দেশ দুটি। কিন্তু তারপরও এমন ঘটনা ঘটছে। গত ১২ জানুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, সীমান্তে হত্যা বন্ধের জন্য ভারত সম্মতি প্রকাশ করেছিল। কিন্তু তারপরও এমন ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এই হত্যাকাণ্ড বন্ধের বিষয়ে এরই মধ্যে আমরা নয়াদিল্লিকে বার্তা পাঠিয়েছি।

এদিকে ভারতের বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মোদির সফর নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ সভা করে তাকে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভারতের যা ঘটছে সেটা তাদের অভ্যন্তরীণ সংকট। ভারত আমাদের প্রতিবেশি। তারা আমাদের বিশ্বস্ত বন্ধু। সেখানে যদি রক্তপাত হয় সে ব্যাপারে ভারত নিজেরা আলোচনা করে দ্রুত সমস্যাটির সমাধান করবে। এ ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই।

একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘একাত্তর সালের সেই রক্তের অক্ষরে রচিত যে বন্ধুত্ব সেই বন্ধুত্বকে বিসর্জন দিতে পারি না। আজকে বাংলাদেশে মুজিববর্ষের মতো ঐতিহাসিক উৎসব পালিত হবে। এই উৎসবে ভারতকে যদি আমরা বাদ দেই এই উৎসবের আমন্ত্রণ যদি না করি এটা হয় একটা অকৃতজ্ঞা। এটা হয় না। এটা বন্ধুত্বের প্রতি অবমাননা।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত