শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

এবার কলকাতাতেও সিএএ–বিরোধীদের ‘গুলি মারো’ স্লোগান

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনের সময় শাহিনবাগে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে বিরোধীদের উদ্দেশে ‘গুলি মারো’ বক্তব্য দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। মন্ত্রীর পর বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরাও এই স্লোগান তোলেন। এমন স্লোগান নিয়ে সমালোচনাও হয়। এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় আসায় বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মিছিলেও গুলি মারোর সেই স্লোগান দেওয়া হলো।

ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধিত আইনবিরোধী বিক্ষোভ দিল্লি, মেঘালয়ের পর ছড়িয়ে পড়েছে কলকাতাতেও। অমিত শাহ আজ রোববার কলকাতা সফরে আসেন। তাঁর সফর ঘিরে বিক্ষোভ বের করেন নাগরিকত্ব সংশোধিত আইনবিরোধীরা। অমিত শাহর পক্ষেও বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মিছিলে গুলি মারো স্লোগান দেওয়া হয়।

এদিকে রোববার দুপুরে অমিত শাহ কলকাতার শহীদ মিনার ময়দানে বিজেপির জনসভায় ভাষণ দেন। তিনি এ সময় বলেন, ‘আমাদের লড়াই অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে। নাগরিকত্ব হরণের জন্য নয়।’

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ করা হয়েছে নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য; কারও নাগরিকত্ব হরণের জন্য নয়। এখানের সংখ্যালঘু মুসলিমদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়। সিএএ নিয়ে এখন দেশবিরোধীরা মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। আবারও বলছি, সিএএ কারোর নাগরিকত্ব হরণের জন্য প্রণয়ন করা হয়নি। বরং পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে অত্যাচারিত হয়ে আসা সংখ্যালঘুদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইন বলে ওসব দেশ থেকে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিষ্টান ও পার্সিদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য এই আইন আনা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপির স্লোগান ‘আর নয় অন্যায়’
অমিত শাহ বলেন, এবার আমরা একটি নতুন স্লোগান নিয়ে পশ্চিম বঙ্গের আসন্ন রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে লড়ব। স্লোগানটি হল ‘আর নয় অন্যায়’। এই স্লোগান পুঁজি করে এবার বিজেপি আসন্ন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে লড়ে জয়ী হবে। সরকার গড়বে বিজেপিই। ‘আর নয় অন্যায়’ স্লোগানটি বিজেপি তুলেছে তৃণমূলের ‘দিদিকে বল’ স্লোগানের পাল্টা হিসেবে।

অমিত শাহ বলেন, বাংলার স্বৈরতান্ত্রিক শক্তিকে পরাস্ত করে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনুন। বিজেপিই পাঁচ বছরে এই রাজ্যকে সোনার বাংলায় গড়ে তুলবে। তিনি মমতাকে একহাত নিয়ে বলেন, সিএএর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে মমতা এই রাজ্যে দাঙ্গা বাধাতে চাইছেন। দিদি তো মতুয়াদের নাগরিকত্ব দিতে চান না। চান অনুপ্রবেশকারীদের রাখতে। এখন সিএএর নামে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ভয় দেখাচ্ছে কংগ্রেস, তৃণমূল আর কমিউনিস্টরা। আজ মমতার শাসনে এই বাংলা শেষ হয়ে গেছে। তাই ‘আর নয় অন্যায়’ স্লোগান দিয়ে বাংলার পরিবর্তন আনবে বিজেপি।

তবে শরণার্থী বা উদ্বাস্তুদের উদ্দেশে অমিত শাহ বলেন, মিথ্যা প্রচারে বিশ্বাস করবেন না। আমরা বলেছি, সিএএ উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করবে।

রাজ্যজুড়ে অমিত শাহকে কালো পতাকা প্রদর্শন
অমিত শাহর রোববার কলকাতায় আসা ঘিরে রাজ্যের সর্বত্র অমিত শাহের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়েছে। দেখানো হয়েছে কালো পতাকা। দেওয়া হয়েছে গোব্যাক অমিত শাহ ধ্বনি। কলকাতার ধর্মতলা, যাদবপুর, পার্ক সার্কাস, বিমানবন্দর, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, বেহালা, মৌলালি, গড়িয়া হাট, সন্তোষপুরসহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে কংগ্রেস এবং বাম দল বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পার্ক সার্কাসে অমিত শাহর কুশপুতুল দাহ করা হয়েছে। কলকাতার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের গড়া ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

‘গুলি মারো’ স্লোগান এবার কলকাতায়
আজ কলকাতায় বিজেপির একটি মিছিল হতবাক করেছে কলকাতার সুধী সমাজকে। একদল বিজেপি কর্মী-সমর্থক মিছিলে স্লোগান তোলেন ‘গুলি মারো’। দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনের সময় শাহিনবাগে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করে প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশে গুলি মারো স্লোগান তুলেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। এর দলটির কর্মী-সমর্থকেরাও এই স্লোগান তোলেন। ভোটের মুখে ওই স্লোগান নিয়ে সমালোচনা হয় চারপাশে। আম আদমি পার্টির বিপুল জয়ের পর অবশ্য অমিত শাহ স্বীকার করেছিলেন, উসকানি ও বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা বলা ঠিক হয়নি। কিন্তু কদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে গেল। দিল্লিতে যেভাবে বিজেপির কর্মী–সমর্থকেরা স্লোগান তুলেছিলেন, সেই পথেই আজ হাঁটলেন কলকাতার বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা।

কালীঘাটে অমিত শাহ
শহীদ মিনার ময়দানে জনসভা করার পর অমিত শাহ আসেন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কালীঘাটের কালীমন্দিরে পূজা দিতে। মন্দিরের তিনি পূজা দেন। আজ রাতেই অমিত শাহর দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত