শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

মশা যেন ভোট খেয়ে না ফেলে, মেয়রদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষা দিতে ঢাকার নবনির্বাচিত দুই মেয়রকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুই মেয়রকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘মশাকে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। তা না হলে মশা কিন্তু আপনার ভোট খেয়ে ফেলবে।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে দুই মেয়রের শপথবাক্য পাঠ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে শপথ নেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম ও দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস।

মেয়র ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকায় যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা মনোযোগ দিয়ে কাজ করবেন। মশার উপদ্রব কমাবেন। ক্ষুদ্র প্রাণী হলেও মশা কিন্তু খুবই শক্তিশালী। মশাকে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। তা না হলে মশা কিন্তু আপনার ভোট খেয়ে ফেলবে।

নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি চাই কোথাও যেন কোনোরকম দুর্নীতি-অনিয়ম না হয়। যদি এ ধরনের কিছু হয়; সে যে-ই হোক, আমি কিন্তু কাউকে ছাড় দেব না। কেউ যদি কোনোরকম দুর্নীতি বা নয়-ছয় করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় দুই মেয়রকে জনপ্রতিনিধি হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,‘একটা কথা মনে রাখবেন, কেউ আপনাকে ভোট দিয়েছে, আবার কেউ আপনাকে ভোট দেয়নি। যখন আপনি নির্বাচিত হয়েছেন, তখন মনে করবেন আপনি সবার প্রতিনিধি। এটিই গণতন্ত্রের নিয়ম। এটি মাথায় রেখে সবার উন্নয়নে আপনাকে কাজ করতে হবে। কেউ যেন বঞ্চিত না হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ক্ষমতা বিকেন্দ্রিকরণ করে একেবারে গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা স্থানীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী করতে চাই। তারা শক্তিশালী হয়ে যেন নিজেদের এলাকার বাজেট ও উন্নয়ন প্রকল্প নিজেরাই নিতে পারে। সেভাবেই আমরা কাজ করছি।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আমরা কিন্তু অনেক প্রজেক্ট করে দিচ্ছি। অনেক কাজ করে দিয়েছি। সেগুলো যাতে যথাযথভাবে হয় সেদিকে আপনারা দৃষ্টি দেবেন। এই দশ বছরে আমরা অনেক উন্নতি করেছি। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘মাঝে-মধ্যে এক একটা ঝড় আসে। এখন যেমন করোনাভাইরাস দেখা দিয়েছে। এর থেকে কীভাবে বাংলাদেশকে মুক্ত রাখা যায়, সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি। করোনাভাইরাস এখনও আমাদের দেশে আসে নাই। কিন্তু এরকম যদি দেখা হয়? সেজন্য আমরা একটি ডেডিকেটেড হাসপাতাল করতে যাচ্ছি। সেখানে আমাদের নার্স, ডাক্তার বা যারা সার্ভিস দেবে তাদের জন্য ট্রেনিং, পোশাক পরিচ্ছদ ও সুরক্ষার ব্যবস্থা আমরা করছি। এরই মধ্যে এটা নিয়ে আামদের আলোচনা হয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন,‘গত ১০ বছরে দেশজুড়ে অনেক উন্নয়ন করেছে সরকার। এ ছাড়া অনেক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যেগুলোর কাজ চলছে। এর আগে ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পরও আমরা অনেক প্রকল্প নিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে।’

দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বদল হবে, কিন্তু উন্নয়ন প্রকল্প যেন বন্ধ না হয়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। ঢাকা শহরসহ সারা দেশে অনেক মেগা প্রকল্প চলছে। এসব মেগা প্রকল্পে অনিয়ম হলে আমি কাউকে ছাড়বো না। কেউ যদি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, দুর্নীতি করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে। এই অভিযান চলতেই থাকবে। কাজেই সেখানেও আপনাদের সহযোগিতা চাই। সমাজের এই ক্ষতগুলো থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হবে। এই ক্ষতগুলোর জন্যই ভবিষ্যত প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাদের এই ক্ষতি থেকে উদ্ধার করে দেশের উন্নয়নের কাজেই আমরা লাগাতে চাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্থানীয় সরকারগুলোকে আমরা আরও শক্তিশালী করতে চাই। সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ বাজেট দেওয়া হচ্ছে। উন্নয়নের জন্য আমরা শুধু শহর নয়, গ্রামের উন্নয়ন করতে চাই। এ জন্য আমরা আলাদা আলাদা বাজেট ঘোষণা করছি।’

দেশের সার্বিক উন্নয়নে জনগণের আস্থা বিশ্বাস ও অর্জন করা নির্বাচিত প্রতিনিধির জীবনে সবচেয় বেশি প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই সেই আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেই আপনারা স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করবেন।’

রাজধানীতে বড় বড় প্রকল্প ও উন্নয়ন কাজ চলছে- সেদিকটা তুলে ধরে সেগুলো যেন যথাযথভাবে যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা যায়, সে ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, সময় খুব কম। আমরা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্বাচিত হই। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে যে কাজগুলো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেই কাজগুলো আমি শেষ করতে চাই। আর সেক্ষেত্রে কেউ যদি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বা কোনোরকম দুর্নীতি করে বা কোনোরকম নয়-ছয় করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা কিন্তু নেওয়া হবে।’

নব-নির্বাচিত মেয়রসহ কাউন্সিলরদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তারা যে শপথ নিয়েছেন সেই অনুযায়ী চলার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি মুজিববর্ষ উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকার দুই সিটি মেয়র ও কাউন্সিরদের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী।

সারাদেশের নির্বাচিত জনপ্রিতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা আছে, তারা কে কী অবস্থায় আছে; তা জানাতে হবে। মুক্তিযোদ্ধারা মানবেতর জীবন যাপন করবে, দুরাবস্থায় থাকবে, দারিদ্র্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হবে- সেটা আমি দেখতে চাই না।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত