সোমবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

দিল্লি সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে কাঁপছে দিল্লি। সিএএ’র পক্ষে ও বিপক্ষের নজিরবিহীন সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। এ সহিংসতায় আহত হয়েছেন দুই শতাধিক।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, দিল্লিতে গত রোববার থেকে চলমান সংঘর্ষে সোমবার পর্যন্ত ২৭ জনের নিহতের খবর পাওয়া গিয়েছিল। আজ বৃহস্পতিবার নতুন করে আরও সাতজন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে দিল্লির সহিংসতায় ৩৪ জন নিহত হলেন।

ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, দিল্লির গুরু তেজ বাহাদুর হাসপাতাল ৩০ জন, লোক নায়েক জয় প্রকাশ হাসপাতাল দুজন ও জগ পরভশ চন্দ্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একজন নিহতের কথা স্বীকার করেছে। ৩৩ জন ছাড়াও নিহত অপরজন হলেন- দিল্লি পুলিশের প্রধান কনস্টেবল রতন লাল। তিনি গত সোমবার নিহত হন।

গুরু তেজ বাহাদুর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল বুধবার তারা গুলিবিদ্ধ সাতজনকে ভর্তি করেছেন যার মধ্যে এক নারীও রয়েছেন। তারা বলেছেন, এদের অনেকের পরিচয় নিশ্চিত করা গেলেও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিও রয়েছেন।

দিল্লি সহিংসতায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালকে সহিংসতা রুখতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার তিনি সহিংসতা আক্রান্ত স্থানগুলো পরিদর্শন করেন। পুলিশের সঙ্গে জাফরাবাদে আসার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ইনশাল্লাহ, এখানে শান্তি ফিরবে।’

দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি টুইট করেন, ‘আমার ভাই ও বোনেরা, দিল্লিতে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব বজায়ের আবেদন জানাচ্ছি।’

আর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ‘দিল্লির কাছে এখন দুটি অপশন রয়েছে। হয় মানুষ একজোট হয়ে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করুক। অথবা একে অপরকে আঘাত করে হত্যা করুক।’

তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকারকে তিনি সেনা মোতায়েনের দাবি জানালেও কেন্দ্রীয় সরকার তা শোনেনি।

রোববার থেকে দিল্লির জাফরাবাদ, মৌজপুর, চাঁদবাগ, কারওয়াল নগরে সিএএ সমর্থক ও বিরোধীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা শুরু হয়। সোমবারও দিনভর চলে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, গাড়ি ভাঙচুর। এ ছাড়া সোমবার রাতে বহু জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করেছিল দিল্লি প্রশাসন। তবে ১৪৪ ধারা অমান্য করে মঙ্গলবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে সিএএ বিরোধী ও পক্ষের বিক্ষোভকারীরা।

সহিংসতা রুখতে মঙ্গলবার রাতে জাফরাবাদ, মৌজপুর, চাঁদবাগ, কারওয়াল নগরে কারিফিউ জারি করা হয়। এসব এলাকায় দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেয় দিল্লি পুলিশ। তবুও থামেনি নিহতের সহিংসতা।বৃহস্পতিবারও এলো নতুন আরও সাতজন নিহত হওয়ার খবর।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত