শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

উন্নত চিকিৎসায় ‘সম্মতি দেননি’ খালেদা জিয়া

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী ‘অ্যাডভানসড ট্রিটমেন্ট’ নিতে সম্মতি দেননি। আজ বৃহস্পতিবার আদালতে উপস্থাপন করা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার সকালে হাইকোর্ট বেঞ্চে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ স্বাস্থ্য প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। বিএসএমএমইউ-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই হাসপাতালের অধীনে উন্নত চিকিৎসায় খালেদা জিয়া সম্মতি দেননি।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় আদেশের জন্য রেখেছে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কেএম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

হাইকোর্ট বেঞ্চে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের প্রতিবেদনটি দাখিল করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর।

শুনানির শুরুতে আদালত খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিবেদন পড়ে শোনান। এরপর আদেশ দিতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন রোববার পর্যন্ত সময় চান।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন কেন সম্মতি দেননি, সেটা জানতে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান তিনি। সে জন্য সময়ের আবেদন করেন।

বিচারক বলেন, খালেদা জিয়ার সম্মতি দেওয়া না–দেওয়া তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। পরে তিনি বেলা দুইটায় আদেশের জন্য সময় নির্ধারণ করেন।

কিন্তু আদালত তাতে রাজি না হলে তিনি (জয়নুল আবেদীন) এদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত সময় দেওয়ার আবেদন জানান। এরপর আদালত দুপুর ২টায় আদেশের জন্য সময় রেখেছেন।

খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। এ সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, বদরুদ্দোজা বাদল, কায়সার কামাল, সগির হোসেন লিওন ও ফারুক হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে গত রোববার খালেদা জিয়ার চিকিৎসাবিষয়ক তিন অবস্থার তথ্য জানতে চান হাইকোর্ট। মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুসারে খালেদা জিয়া অ্যাডভান্স থেরাপির জন্য সম্মতি দিয়েছেন কি না, দিলে সেই চিকিৎসা শুরু হয়েছে কি না, চিকিৎসা শুরু হলে এখন কী অবস্থা, তা জানিয়ে আজকের মধ্যে আদালতে এ প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার দুপুরে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে এ আদেশ দেন।

ওইদিন খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া দুই বছর ধরে কারাবন্দী। শারীরিক অসুস্থতা বেড়ে গেলে গত বছরের এপ্রিলে চিকিৎসার জন্য তাকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়।

তখন থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে আছেন। এর আগে জামিন চাওয়া হলেও তা নাকোচ করে দেন আদালত।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত