শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

২০৪১ সালের বাংলাদেশ গড়ার কারিগর আজকের মেধাবীরা : প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরা ২০৪১ সালের বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্ব স্ব বিভাগে আজ যারা পুরস্কার হিসেবে স্বর্ণপদক পেল তারা ২০৪১ সালের বাংলাদেশ গড়ার কারিগর।’

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক অনুষ্ঠানে’ তিনি এসব কথা বলেন। দেশের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর/সিজিপিএ অর্জনকারী ১৭২ জন শিক্ষার্থী ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পেয়েছেন। এর মধ্যে ৮৮ জন ছাত্রী ও ৮৪ জন ছাত্র।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামী প্রজন্মের ভাগ্য শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করে। জাতির পিতার এই কথাটা আপনারা মনে রাখবেন। তারা (শিক্ষার্থীরা) যেনো সেভাবেই শিক্ষা পায়। আমাদের ছেলেমেয়েরা মেধাবী। প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে তারা আরও মেধাবী হয়ে গড়ে উঠছে। ভবিষ্যতে দেশটা কীভাবে চলবে তার একটা পরিকল্পনা আমরা রেখে যাচ্ছি। আজকে যারা শিক্ষার্থী, আগামী দিনে তারাই দেশটাকে গড়ে তুলবে।’

এসএসসি পর্যন্ত সব বিষয়ে পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েরা বিজ্ঞান পড়ার দিকে কোনো আগ্রহই ছিল না। নবম শ্রেণি থেকে কে কোন সাবজেক্টে যাবে, সেটা ভাগ করে দেওয়া হয়। আমার মনে হয়, এই ভাগটা থাকার দরকার নেই।’

স্বর্ণপদক প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সোনার ছেলেমেয়ে সম্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা সোনার বাংলা গড়ার সোনার ছেলে দরকারের কথা বলেছিলেন। এখানে ছেলে মানে ছেলেমেয়ে উভয়কেই বলেছিলেন। এখানে কোনো তফাৎ তিনি রাখেননি। কারণ আমি মেয়ে আমাকে তিনি সবসময় বাবা বলেও ডাকতেন এবং আমাদের ভাইবোনদেরও সবাইকে।

শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন,‘বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। মেরিটাইম ও অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটি করছি। আগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না, তাও করেছি। এখন প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দেব।’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার গুণগত মান ঠিক রাখতে আইন করা হচ্ছে। এতে মানোন্নয়নের কার্যক্রমে জবাবদিহিতা, সুশাসন ও গতিশীলতা নিশ্চিত করা হয়েছে, যেটা একসময় ছিল না। যে যার মতো একটা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে। এক বিল্ডিংয়ে দেখা যায়, তিনটা বিশ্ববিদ্যালয়। এক বিল্ডিংয়ে তিনটা বিশ্ববিদ্যালয় কি শিক্ষা দেয়, ঠিক আমি জানি না? আমার কাছে অবাক লাগত শুনে! যাই হোক, এখন একটা ডিসিপ্লিনে আনার চেষ্টা করছি।

‘বিজ্ঞান শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় করার জন্য অনেক প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কত ছাত্র-ছাত্রী থাকবে সেটাও ঠিক করে দেওয়া হবে। প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিতে চাই।’

গবেষণার কোনো বিকল্প নাই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এই ছোট ভূখন্ডে বিশাল জনগোষ্ঠীর বসবাস। তাদের খাদ্য নিরাপত্তা দেওয়া, ফসল উৎপাদন করার কাজগুলো কিন্তু গবেষণার মাধ্যমেই হয়েছে। আমি যখনই বাইরে যাই, বিদেশে যাই, বিদেশ থেকে আসলেও আমাকে এই কথাটাই আগে জিজ্ঞেস করে, এটা আপনারা কি করে করলেন? আসলে এটা আমরা গবেষণার মাধ্যমেই করতে পেরেছি। এটা হল বাস্তব। কারণ গবেষণা ছাড়া কখনো উৎকর্ষতা লাভ করা যায় না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। একটা সময় ছিল আমি দেখেছি, আমাদের ছেলেমেয়েরা বিজ্ঞান পড়ার দিকে কোনো আগ্রহই ছিল না। কারণ আমাদের ক্লাশ নাইন থেকে কে কোন সাবজেক্টে যাবে সেটা ভাগ করে দেওয়া হয়। আমার মনে হয়, এই ভাগটা থাকার কোনো দরকারই নেই। কারণ এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত তারা সব সাবজেক্টেই পড়তে পারে। এসএসসি’র পরে গিয়ে বিভক্তি হওয়াটাই ভাল। তাহলে অন্তত তারা মেধা বিকাশের একটা সুযোগ পায়।

নবম শ্রেণি থেকেই সাবজেক্ট ভাগ করে দেওয়ার বিষয়টা এদেশে বোধহয় প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সময় ১৯৬৩ সাল থেকে শুরু হয়েছিল। কাজেই এটা না থাকাই ভাল। সবাই পড়ুক। তারপর তার যে সাবজেক্টে মেধা বিকাশের জন্য সুযোগ পাবে, সেটাতেই সে নিজেকে গড়ে নেবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা ২১০০ সালের যে ডেল্টাপ্ল্যান গ্রহণ করেছি সে অনুযায়ী আমাদের ছেলে-মেয়েরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারবে-এ বিশ্বাস আমার আছে। আজ ছেলেদের চাইতে মেয়েরা বেশি স্বর্ণপদক পেয়েছে। ছেলেরা পিছিয়ে থাকবে কেন? আগামীতে ছেলেরা যেন কমপক্ষে সমান সমান হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে। দুষ্টমি না করে ছেলেদের আরও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে।’

তিনি বলেন, শ্রমঘন শিল্প না থাকলে কর্মসংস্থান থাকবে না। কিন্তু আমাদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা-দীক্ষায় দক্ষ করে কারিগরি শিক্ষা থেকে শুরু করে বিজ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তি ভিত্তিক শিক্ষাগুলি যদি দিতে পারি, তাহলে আমাদের সমস্যা তো হবেই না। বরং আমরা অন্যকে সাহায্য করতে পারব। এ কারণে মাদ্রাসা শিক্ষাতেও অনার্স কোর্স চালু, প্রযুক্তি শিক্ষা ও কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারায় শিক্ষার মানের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস। স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত