সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

গান্ধীর চরকা কেটে অস্ত্র বিক্রি করে গেলেন ট্রাম্প

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নাগরিকত্ব সংশোধিত আইন (সিএএ) নিয়ে চলমান দাঙ্গার মধ্যে ভারতে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর করে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।অহিংস আন্দোলনের জনক মহত্মা গান্ধীর সাবরমতী আশ্রম পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ট্রাম্পের এই সফর শেষ হয়েছে অস্ত্র কেনা-বেচার মধ্য দিয়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যে সামরিক হেলিকপ্টার ও যুদ্ধ সরাঞ্জাম ক্রয় করবে ভারত। এ ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি এবং তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং তিনটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।

গতকাল মঙ্গলবার সফরের দ্বিতীয় দিনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে এমন তথ্য জানানো হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুয়ায়ী, ফরেন মিলিটারি সেলস বা এফএমএস চুক্তির অধীনে আমেরিকার লকহিড মার্টিন গোষ্ঠীর কাছ থেকে ২৪টি ‘এমএইচ-৬০ রোমিও সি-হক মাল্টিরোল হেলিকপ্টার’ কিনছে ভারত। সাবমেরিন ধ্বংস করতে সক্ষম এই হেলিকপ্টারগুলো ভারতের নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই ২৪টি কপ্টারের জন্য খরচ হবে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন।

এ ছাড়াও ৮০ কোটি ডলার মূল্যের হেলফায়ার এবং স্টিংগার মিসাইলে সজ্জিত অত্যাধুনিক ছয়টি এএইচ-৬৪ই অ্যাপাচে হেলিকপ্টার কিনবে ভারত।

তবে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি না হলেও দুই দেশ শিগগিরই এ নিয়ে আলোচনা শুরু করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমাদের প্রতিনিধিদল বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনেকটা এগিয়েছেন। আমি আশাবাদী। আমরা এমন একটা চুক্তিতে পৌঁছতে পারব যেখানে দুই দেশের প্রভূত সুবিধা হবে। তবে আমি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর আমেরিকায় ভারতের রপ্তানি ৬০ শতাংশ বেড়েছ। আর ভারতে শক্তিক্ষেত্রে আমেরিকার রপ্তানি বেড়েছে ৫০০ শতাংশ।’

প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে মোদি বলেন,‘প্রতিরক্ষা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।শক্তি এবং তথ্য-প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নিরাপত্তা ইস্যু এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি মাদক পাচার এবং মাদক সন্ত্রাস প্রতিরোধে দুই দেশের যৌথ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি,নৌশক্তি নিয়ে চীনের উচ্চাশার সঙ্গে পাল্লা দিতেই আমেরিকার কাছ থেকে সর্বাধুনিক অ্যান্টি-সাবমেরিন ও অ্যান্টি-সারফেস হেলিকপ্টার কিনছে ভারত।

এ ছাড়া চীনের ‘মাল্টি-রোল’ জেড-২০ হেলিকপ্টারকে টেক্কা দিতেই মার্কিন হেলিকপ্টার ক্রয় করছে ভারত। কারণ সামরিক শক্তি প্রকাশের জন্য ইতোমধ্যেই সমুদ্রকে প্রাধান্য দেওয়া শুরু করেছে দেশটি।

গত বছর চীনের জাতীয় প্যারোডে দেশটির নৌবাহিনীর সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ অংশ নেওয়ায় ভারতের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। এ কারণেই নিজেদের স্বার্থে আমেরিকার কাছে যেতে হয়েছে ভারতকে। তাই ‘কোয়াড’ নামে একটি জোট গঠন করে সমুদ্রে যৌথ মহড়া শুরু করেছে ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া।

চীন-ভারত সম্পর্কের ফাটল আরও বাড়াতেই এই সফরে ভারতেরর যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে কথা বলেছেন ট্রাম্প। ভারতের যোগাযোগ প্রযুক্তিতে চীনা কম্পানিগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়েও সরাসরি চীনকে মন্তব্য না করলেও বিবৃতি দিয়েছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের এই সফরে নিরাপদ ৫জি ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক নিয়ে কথা হয়েছে। মুক্তি, অগ্রগতি এবং উন্নয়নের জন্য আধুনিক এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।’

গত সোমবার ভারত সফরে এসেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প, মেলানিয়া ট্রাম্প, মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প এবং জামাতা জেরিড কুশনারসহ ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে আট কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সাবরমতী আশ্রমে পৌঁছায় দলটি।

এরপর আশ্রম চত্বরে তাদের উত্তরীয় চাদর পরিয়ে স্বাগত জানান নরেন্দ্র মোদি। আশ্রমে ঢুকে প্রথমে মহাত্মা গান্ধীর ছবিতে মালা পরান ট্রাম্প ও মোদি। এরপর আশ্রমের যে ঘরে মোহনদাস করমচাঁদ এবং স্ত্রী কস্তুরবা থাকতেন, সেই ‘হৃদয়কুঞ্জ’ ট্রাম্প দম্পতিকে ঘুরিয়ে দেখান মোদি। এ ছাড়াও বারান্দায় রাখা চরকা কীভাবে কাটে তাও শিখিয়েছিল নরেন্দ্র মোদি।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত