শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

৯৪ শতাংশ মানুষ বলছে ভোট সুষ্ঠু হয়নি : সুজন

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে খুবই অল্প ভোট পড়েছে। উত্তর সিটিতে গড় ভোট পড়েছে ২৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং দক্ষিণে পড়েছে গড়ে ২৯ দশমিক সাত শতাংশ। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বলছে, এত কম ভোটার উপস্থিতির কারণ ভোট সুষ্ঠু হবে না এ ধরনের পূর্ব ধারণা।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ডিআরইউতে ঢাকার দুই সিটিতে ভোটার হার কম হওয়ার বিষয়ে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সুজন। ‘ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন-২০২০: বিজয়ীদের তথ্য বিশ্লেষণ ও নির্বাচন মূল্যায়ন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

লিখিত প্রতিবেদন পাঠ করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি ছিলেন সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান। আর বক্তব্য রাখেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. রুবায়েত ফেরদৌস।

স্বল্প ভোটার উপস্থিতির আরও বেশকিছু কারণ তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। তাতে বলা হয়, নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর ভোটারদের আস্থা না থাকা (অর্থাৎ ভোট সুষ্ঠু হবে না এ ধরনের পূর্ব ধারণা)। ইভিএম সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচার ও ইভিএমের ওপর আস্থা না থাকা। দলগুলোর পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে শঙ্কিত হয়ে ভোটারদের কেন্দ্রবিমুখ হওয়া। পাড়া-মহল্লা ও ভোটকেন্দ্র পাহারা এবং ভোটকেন্দ্রের বাইরে সরকারদলীয় কর্মী-সমর্থকদের জটলা ও মহড়া। আঙুলের ছাপ না মেলার কারণে কিছু কিছু ভোটারের ভোট না দিয়েই ফিরে যাওয়া। একজনের ভোট আরেকজন দিয়ে দেয়ার বিষয়টি প্রচার হওয়া। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের মধ্যে ‘ভোটকেন্দ্র না গেলেও তাদের প্রার্থী জয়ী হবেই’ এমন ধারণা বদ্ধমূল থাকা। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে শঙ্কা ও ‘তাদের প্রার্থী জিততে পারবে না’ এমন ধারণা সৃষ্টি হওয়া। তাছাড়া যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকা এবং একসঙ্গে দুইদিন ছুটি থাকাও ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার অন্যতম কারণ।

সংবাদ সম্মেলনে এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার একাধিক কারণ ছিল। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ইভিএম নিয়ে সন্দেহ, ইসির প্রতি আস্থাহীনতা, নির্বাচনী মাঠে প্রতিপক্ষের ব্যাপক শোডাউন, একজনের ভোট অন্যজনের দেওয়া এবং অতীতের ভোটারবিহীন নির্বাচন সাধারণ ভোটারদের নিরুৎসাহিত করেছে। আর এর মাধ্যমে যেন ভোটারবিহীন নির্বাচন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। ঢাকার সিটি নির্বাচন ইসির জন্য অগ্নিপরীক্ষা ছিল। অতীতের ভুল শোধরানোর একটা সুযোগ এসেছিল। কিন্তু সেই আস্থা ফেরানোর প্রমাণ ইসি দিতে পারেনি।’

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ইভিএম (ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন) নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা হচ্ছিল যে, নির্বাচনে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা যদি নিরপেক্ষ না হন তবে একজনের ভোট অন্যজন দিয়ে দেবে। যেটি এই নির্বাচনে ঘটেছে।

‘একজনের ভোট অন্যজন দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও কোথাও বাঁধা বা পুলিশে সোপর্দের ঘটনা ঘটেনি। তাহলে নির্বাচনে দায়িত্বরতরা কী পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন,’ প্রশ্ন করেন তিনি।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রচার আছে এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ। আমরা মনে করি এই শান্তি অশান্তির চেয়েও ভয়াবহ। কেননা ভয়ের সংস্কৃতির কারণে কেউ যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস না পায় তবে সেই অন্যায়ের প্রতিকার পাওয়া দুষ্কর। এর আগে দৃশ্যমান কারচুপি হলেও এবার অদৃশ্যমান কারচুপি হয়েছে। ব্যাপক অনিয়মের পরও যদি সেই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়, তবে বুঝতে হবে প্রতিপক্ষ এখানে চরম দুর্বল। মনে রাখতে হবে নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হবে।

৯৪ শতাংশের মতো সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি

প্রতিবেদন তুলে ধরে সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন কেমন হলো, তা জানতে নির্বাচনের পর সুজনের ফেসবুক পেজে আমরা একটি অনলাইন ভোটের (পোল) ব্যবস্থা করি। আমাদের প্রশ্ন ছিল, ‘ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলে আপনি মনে করেন কি না?’ এতে চার হাজার ৩০০ জন মানুষ অংশ নেয়। যারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তাদের ৯৪ শতাংশ বলছেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। যদিও অনলাইন ভোট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নয়, এটি জনসাধারণের ধারণার অনেকটা ইঙ্গিত বহন করে।

সুজন বলছে, ‘একটি প্রচার আছে যে, নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ। আমরা মনে করি, এই শান্তি অশান্তির চেয়েও ভয়াবহ। কেননা, ভয়ের সংস্কৃতির কারণে কেউ যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস না পায়, তবে সেই অন্যায়ের প্রতিকার পাওয়া দুষ্কর। ব্যাপক অনিয়ম হওয়ার পরও যদি সেই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়, তবে বুঝতে হবে প্রতিপক্ষ এখানে চরম দুর্বল।’

সুজন আরও বলছে, ‘এটি স্পষ্ট যে, সামগ্রিকভাবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন ছিল ‘নিয়ন্ত্রিত’ নির্বাচন। তবে অতীতের তুলনায় নিয়ন্ত্রণের ধরন ছিল কিছুটা ভিন্ন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এই ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনগুলো যেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত