বুধবার, ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

পিবিআইয়ের প্রতিবেদন প্রত্যাখান সালমানের পরিবারের

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

এ নিয়ে চতুর্থবার সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এলো। এবার প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআইয়ের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন সালমান। এর পেছনে পাঁচটি কারণও তুলে ধরেছে সংস্থাটি। তবে পিবিআইয়ের এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সালমান শাহ’র পরিবার।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পিবিআই সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার সালমান শাহ’র মৃত্যুর ঘটনায় তাদের প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন। এতে সালমান শাহ’র মৃত্যুর পেছনে যে কারণগুলো তুলে ধরা হয়েছে সেগুলো হলো— চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে অতিরিক্ত অন্তরঙ্গ সম্পর্ক, স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ, অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতা ও এর আগে কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা, মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা ও জটিল সম্পর্ক এবং সন্তান না হওয়া।

পিবিআইয়ের এ প্রতিবেদন সালমান শাহের পরিবারর প্রত্যাখান করবে বলে জানিয়েছেন তার মামা আলমগীর কুমকুম। তিনি বলেন, ‘এ মামলার যে রাজসাক্ষী রুবি সুলতানা, তিনি সামিরার মামী। তিনি তো বলেছেন সালমানকে হত্যা করা হয়েছে। তার ছেলেকে দিয়ে সামিরা পুটলি সরিয়েছে। ওই পুটলিতে কী ছিল? তাকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো না? তার পর্যন্ত কি পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে পিবিআই? আমরা পুনঃতদন্ত চাইব।’

আলমগীর কুমকুম আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জায়গায় সামিরা বাবা কেন আমার সঙ্গে গেল? আমাকে ওখানে জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নের উত্তর কেন উনি দিলেন? কেন সালমানের লাশ যেখানে পাওয়া গেল, সে ফ্যানের একটা ব্লেডও বাঁকা হয়নি? এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।’

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে দেশীয় চলচ্চিত্র আগমন ঘটে সালমান শাহর। স্মার্টনেস, নিজস্বতার কারণে রাতারাতি তরুণ প্রজন্মের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। মাত্র সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি ছবি করেন, যার অধিকাংশই ছিল সুপারহিট।

সালমান শাহ’র জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে, তখন ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুর খবর বিটিভির খবরে প্রচারিত হয়। সেই থেকে তার মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। সবার প্রশ্ন ছিল— হত্যা নাকি আত্মহত্যা? ওই ঘটনার চতুর্থ প্রতিবেদনে পিবিআই জানালো, আত্মহত্যা করেছিলেন সালমান।

সে সময় এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে— এমন অভিযোগ এনে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। ওই সময় অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে থানা পুলিশের পরিবর্তে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

তদন্তের পর ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে সংস্থাটি। ওই মাসের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে প্রতিবেদনটি গৃহীত হয়। কিন্তু সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। এর ফলে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। এরপর প্রায় ১৫ বছরে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে ছিল।

পরে ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। ওই প্রতিবেদনেও সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আবারও ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন বলে আবেদন করেন।

২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের নারাজির আবেদন দাখিল করেন। নারাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

পরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র‍্যাবকে। কিন্তু র‍্যাবের তদন্ত চলাকালে বেশ কয়েকবার শুনানি নিয়ে ২০১৬ সালের ১৯ মে মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা বিব্রত বোধ করে ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে মামলার নথি পাঠিয়ে দেন। এ আদালতের বিচারক মো. ইমরুল কায়েস ওই বছরেরই ২১ আগস্ট র‍্যাবের মাধ্যমে পুনঃতদন্তের (অধিকতর) আদেশ আইনসম্মত হয়নি উল্লেখ করে বিষয়টি আবারও শুনানি নেওয়ার জন্য ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমকে দায়িত্ব দেন।

এর ধারাবাহিকতায় মহানগর হাকিম লস্কর সোহেল রানা নারাজি আবেদনের ওপর আবারও শুনানি নেন। পরে ৭ ডিসেম্বর শুনানির পর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা হত্যা না আত্মহত্যা— তা নির্ধারণের জন্য র‍্যাবের বদলে পিবিআইকে দায়িত্ব দেন।

এরপর সবশেষ গত ২ ফেব্রুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ ছিল। কিন্তু ওই দিন প্রতিবেদন দাখিল না করে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা পুনরায় সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আগামী ৩০ মার্চ তারিখে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত