শুক্রবার, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

খালেদার মুক্তি চেয়ে সরকার থেকে কোনো সাড়া পায়নি: ফখরুল

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন লড়াই করেছেন। তাঁকে দুই বছর সাত দিন কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার তাঁর মুক্তি চেয়েছি, জামিন চেয়েছি এবং মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎ​সার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু তাদের (সরকার) কাছ থেকে কোনো রকম সাড়া পাইনি।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভ মিছি​লের কর্মসূচি দিয়েছিল বিএনপি। কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় বেলা দুটায় নয়াপল্টন থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত মিছিলের কর্মসূচি ছিল। নেতারা অভিযোগ করেন, মিছিলে যোগ দিতে আসা বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হকসহ অন্তত ২০ জনকে পুলিশ আটক করেছে। মিছিলের অনুমতি না পেয়ে পরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে দলটি।

সমাবেশে বিএন​পির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আমাদের ঘোষিত কর্মসূচি ছিল বিক্ষোভ মিছিল। সেই কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। সকাল থেকেই এই অঞ্চলে আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। আমাদের কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের প্রবেশে বাধা দিয়েছে।’

কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে মানবিক কারণে মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফখরুল মির্জা বলেন, আমরা আশা করবো, অতি দ্রুত মানবিক কারণে জনগণের দাবিকে সম্মান করে সরকার অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সরকার মনে করেছে এভাবে গ্রেপ্তার করে, নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে, গুম করে জনগণের প্রাণের দাবি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিকে তারা দমিয়ে রাখবে। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে এভাবে দমননীতি দিয়ে জনগণের ন্যায্য দাবিকে কখনো দমন করা যায় না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের জনগণের দাবিকে সম্মান করে মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে সরকার অবিলম্বে মুক্তি দেবেন।

খালেদা জিয়া সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দুবছর ধরে কারাগারে বন্দি। প্রহসনের বিচার করে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ, আমরা বারবার তার মুক্তি দাবি করেছি, জামিন চেয়েছি এবং মুক্তির মধ্য দিয়ে তার চিকিৎসার দাবি জানিয়েছি। তবে আমরা সরকারের কাছ থেকে কোনো সাড়া পায়নি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। এ সরকার দখলদার সরকার। জনগণের কোনো ম্যানডেড না নিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করার জন্য সরকার নির্যাতন-নিপিড়নকে বেছে নিয়েছে। আমাদের অসংখ্যা নেতা-কর্মীকে তারা খুন, গুম করেছে।

বিক্ষোভ মিছিল পূর্বঘোষিত কর্মসূচি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। পুলিশ সকাল থেকেই এ এলাকায় নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করেছে। কার্যালয়ের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে প্রবেশে বাধা দিয়েছে। ফজলুল হক মিলনসহ প্রায় ১০-১২ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।সরকার মনে করে নির্যাতন করে তারা টিকে থাকবে। এসবের মাধ্যমে সরকার জনগণের প্রাণের দাবি খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রের মুক্তির দাবিকে দমিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে নির্যাতন-নিপিড়ন করে জনগণের ন্যায় দাবিকে দমন করা যায় না।

স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, একটি মিথ্যা মামলায়, ফরমায়েশি রায়ে খালেদা জিয়া দুই বছর সাত দিন ধরে কারাবন্দী। আজ শুধু বেগম জিয়া কারাগারে নয়, পুরো দেশ আজ কারাগারে। এই সরকার লুটপাট করে দেশকে ফতুর করে দিয়েছে। এক নায়ক শাসনের কারণে দেশ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির সম্মুখীন। গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত রতে না পারলে গণতন্ত্র মুক্ত হবে না, জনগণ তার অধিকার ফিরে পাবে না।

স্থায়ী ​কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস নেতা-কর্মীদের বলেন, এ জনসমুদ্র দেশনেত্রীর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। এই সাহস, নেত্রীর প্রতি ভালোবাসাকে বুকে নিয়ে এগোতে হবে। গ্রেপ্তার করুক, জেলখানায় ভরুক, গুম করুক এই প্রতিবাদ থামবে না। এই প্রতিবাদ চলতেই থাকবে। আগামী দিনে আরও কর্মসূচি আসবে। দেশনেত্রীকে এবার ইনশা আল্লাহ মুক্ত করে ছাড়ব।’

স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য আবদুল মঈন খান দাবি করেন, খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়ে যদি রাজপথে নেমে আসেন তাহলে জনস্রোত নেমে আসবে। সে ভয়ে সরকার মুক্তির পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। সরকার বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রেখেছে। তারা নানাভাবে জামিন আটকে রাখছে।সরকার জানে বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে তাদের গদি থাকবে না।

খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ না করে বিএনপির স্থায়ী ​কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আজকে আমরা মায়ের মুক্তির জন্য সমবেত হয়েছি। মায়ের মুক্তির সংগ্রাম কেউ থামাতে পারে না। মায়ের মুক্তি বাংলাদেশের মুক্তি, মায়ের মুক্তি দেশের গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা আইনের শাসন ফিরে পাওয়ার মুক্তি। মাকে মুক্তি করে আমাদের জয়ী হতে হবে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও জেলের তালা ভেঙে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘আজকের বিক্ষোভ মিছিলের জন্য আমরা পুলিশকে অবহিত করেছি। এটা বেআইনি কিছু নয়।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘বিএনপিকে বিক্ষোভ মিছিলে অনুমতি দিলে ঢাকা মহানগরীর বিল্ডিংগুলো কি ধসে যেত? বিদ্যুতের খুঁটিগুলো কি ভেঙে পড়ত? বুড়িগঙ্গা নদী কি পল্টন দিয়ে প্রবাহিত হতো? তা হলে কেন দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল করতে দেওয়া হলো না?’

যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, কৌশল ও সাহসের সংমিশ্রণে এগিয়ে যেতে হবে। এভাবেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবীব উন নবী খানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম সোহেল, হাবিবুন্নবী খান সোহেল, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু,মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত