সোমবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

আর সভা না করে মাঠে নামুন: ড. কামাল

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

আর সভা না করে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, সরকার পদত্যাগ না করলে টেনে নামাতে হবে।

আজ শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের দুই বছর ও তাঁর মুক্তির দাবিতে এক প্রতিবাদ সভায় ড. কামাল এসব কথা বলেন।

কামাল হোসেন বলেন, স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হলে দুর্নীতির শিকার হতে হয়, লুটপাটের শিকার হতে হয়, উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়। এগুলো থেকে মুক্ত হতে হলে দেশের মালিককে মালিক হিসেবে দাঁড়াতে হবে। সত্যিকার অর্থে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ গঠন করতে হবে।

সরকারের উদ্দেশে ড. কামাল বলেন, ‘পদত্যাগ না করলে কী করতে হবে? হাত ধরে টেনে রাস্তায় নামিয়ে দিতে হবে। সত্যিকার অর্থে দেশের মালিককে মালিকের ভূমিকায় আনতে হবে।’

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট নেতা কামাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের আজকে নির্বাচনের নামে প্রহসন সহ্য করতে হচ্ছে। যারা নির্বাচিত না, তারা রাষ্ট্র ক্ষমতাকে জোর দখল করে চালিয়ে যাচ্ছে। এটা জনগণ মেনে নেব না। ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজের অধিকার কেড়ে আনতে হবে।’

গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘জনগণকে বঞ্চিত করে কেউ স্বৈরতন্ত্রকে যারা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারেনি, যারা চেষ্টা করেছে, তাদের ভয়াবহ পরিণতি হয়েছিল। আজকে যাঁরা স্বৈরশাসন চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে দেখা দরকার, বাঙালি জাতি কোনো সময়ে স্বৈরাচারকে মেনে নেয়নি।’

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘ক্ষমতা আত্মসাৎ করে, স্বৈরতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে অপচেষ্টা চলছে, যেভাবে দুর্নীতি, কুশাসন, যেভাবে মানুষের বিরুদ্ধে অত্যাচার চলছে, লাখ লাখ মিথ্যা মামলা দেওয়া এটা আর মেনে নেওয়া যায় না। এমন স্বৈরতন্ত্রের মাধ্যমে দেশের মানুষ ও শহীদদের প্রতিও অসম্মান জানানো হচ্ছে।’

মানুষকে বঞ্চিত করে স্বাধীনতার ৫০ বছর উদ্‌যাপন করা প্রহসন হবে জানিয়ে ড. কামাল বলেন, ‘যারা প্রহসন করে এসেছে, এখন সময় এসেছে তাদের সহজ ভাষায় বলা সরে দাঁড়াও।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য প্রতিবাদ সভায় খালেদা ও রাজবন্দী প্রসঙ্গে বলার জন্য কামাল হোসেনকে কয়েকবার স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরে রাজবন্দী শুনতে কেমন লাগে। বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সভা করতে হবে, দাবি করতে এটা অকল্পনীয়।’ এ ছাড়া তিনি বলেন, ‘এখন আর এই ধরনের সভা না। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে সামনে রেখে মাঠে নামব।’

জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব সরকার প্রধানের উদ্দেশে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে যেতে চাইলে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার পরিবর্তন করা না গেলে গণ-আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থান গড়ে তুলতে হবে।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকতেও বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে—এমন সমালোচনার প্রসঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, রাষ্ট্র চালাতে গেলে অনেক সময় ভুল হয়। কিন্তু বর্তমান সময়ের সঙ্গে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে বিরোধী দলকে মেলানো ঠিক হবে না বলে দাবি করেন। তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ওপর মামলা ও জেলে ভরে রাখার উদাহরণ টেনে বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে এমন আচরণ করেনি। মঈন খান ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে সরকার পতনের আহ্বান জানান।

ড. মঈন খান বলেন, বক্তব্য দিয়ে নয় সবাইকে পথে নেমে আন্দোলন করতে হবে। রাজপথের আন্দোলন ছাড়া গণতন্ত্র উদ্ধার সম্ভব নয়। বিরোধী দলকে দমন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে এক লাখ ৩৫ হাজার মামলা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি হিংসার রাজনীতি করে না। বিএনপি চায় সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার। খালেদা জিয়াকে যে মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে, সেই সম্পর্কে কোনো কাগজে তার নাম নেই। শুধুমাত্র তাকে প্রতিহিংসার জন্যই কারাগারে রাখা হয়েছে। জামিন তার মৌলিক অধিকার হলেও তা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য একত্রে আন্দোলনের চিন্তা আছে কি না, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না তা নিয়ে প্রশ্ন রাখেন। সরকারের সমালোচনা করে মান্না বলেন, অর্থনীতি ধসে সরকারের কাছে টাকা নেই। এখন বিভিন্ন সংস্থার উদ্বৃত্ত টাকা জমা নিচ্ছে। তিনি সরকার পতনের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। বিএনপিরও সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। এই সরকার থেকে মুক্তি চাইলে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামাতে হবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি চিকিৎসক জাফরুল্লাহ চৌধুরী কিছু সুপারিশ ধরে বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে আর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ঠিক হবে না। কামাল হোসেনকে রিভিউ পিটিশন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি থাকুক আর না থাকুক। আপনি ড. কামাল হোসেনকে পদযাত্রায় নামতে হবে। আপনাকে সামনের সারিতে থাকতে হবে। আপনি সামনের সারিতে থাকবেন, আমরা পেছনে থাকব। দেশের বিচারপতিদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিচারপতিদের অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে। তারা নতজানু হয়ে পড়েছেন। বিচারপতিরাও রক্ষা পাবেন না।’

সভায় আরও বক্তব্য দেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, মোহসীন রশিদ খান, বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান নুরুল আমীন, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত