মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

মিঠুনের ৬৩, বাংলাদেশের ২৩৩

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

শুরুর বিপর্যয়ের সঙ্গে ইনিংসের শেষটা যদি বিচার করেন, তাহলে ২৩৩ রান খারাপ নয়। রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ১০ বলের মধ্যেই দুই ওপেনার সাইফ হাসান আর তামিম ইকবালকে হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দল শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ মিঠুনের ৬৩ রান আর নাজমুল হোসেনের ৪৪ রানের ওপর দাঁড়িয়ে পাল্টা লড়াই করল। এর সঙ্গে যোগ করুন লিটন দাসের ৩৩ আর অধিনায়ক মুমিনুল হকের ৩০—আক্ষেপ হতেই পারে, এই ইনিংসগুলো কেন আরও বড় হলো না। ভালো খেলতে খেলতে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারার যে পুরোনো রোগ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আছে, সেটিরই বলি নাজমুল, মুমিনুল আর লিটন। মিঠুনকে এ দলের বাইরে রাখা যেতেই পারে। সম্পূর্ণ স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে তিনি নিজেকে উজাড় করেই দিয়েছেন। তাঁর পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসটা না হলে অনেক আগেই গুটিয়ে যেত বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৮২.৫ ওভার ব্যাটিং করতে পেরেছে বাংলাদেশ।

দারুণ খেলেছিলেন নাজমুল হোসেন। ব্যক্তিগত ৪৪ রানে মোহাম্মদ আব্বাসের বলে আউট তিনি। সেই পুরোনো রোগ। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা। নাজমুলকে প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। তাঁর কাছ থেকে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা ছিল। নিজেকে সে পথেই হাঁটাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়নি না। অথচ প্রায় নির্ভুল এক ইনিংসই তিনি দাঁড় করিয়েছিলেন। শুরুতেই সাইফ আর তামিমকে হারিয়ে দিশেহারা বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংকে পথ দেখিয়েছেন তিনি। অধিনায়ক মুমিনুলকে অবশ্য কাঠগড়ায় তুলতেই হচ্ছে। বড় ইনিংসের ভিত্তিটা গড়ে ফেলার পর অফ স্টাম্পের বাইরে অমন উচ্চাভিলাষী শটটা তাঁর খেলার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। নাজমুলকে নিয়ে মুমিনুল ৫৯ রানের যে জুটিটা গড়েছিলেন, তাতে আত্মবিশ্বাস ছিল, চোখে চোখ রেখে কথা বলার প্রত্যয়ও ছিল। কিন্তু ক্ষণিকের ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে প্রথমে মুমিনুল, এরাপর নাজমুলকে।

এর আগে অভিষেক ইনিংসে দুই বলের বেশি টিকতে পারেননি সাইফ হাসান। অনেক স্বপ্ন-সাধের টেস্ট অভিষেকটা দুঃসহ যন্ত্রণারই হয়ে রইল এই তরুণ ব্যাটসম্যানের জন্য। শাহীন শাহ আফ্রিদির মাত্র দুটি বল খেলতে পেরেছেন তিনি। টেস্টে ক্রিকেটে নিজের দ্বিতীয় বলটি ছিল অফ স্টাম্পের বাইরে। ব্যাট পেতে দিয়ে সাইফ ক্যাচ তুলে দেন স্লিপে আসাদ শফিকের হাতে। শুরুতেই বিপর্যয়। সাইফ হয়তো কোনো দিনই ভুলতে পারবেন না টেস্টে তাঁর প্রথম ‘হন্তারক’ শাহীনকে।
সাইফের ফেরার পর বড় ভরসার নাম ছিল তামিম। সদ্যই বিসিএলে ৩৩৪ রানের ইনিংস খেলা তামিম যে তাঁর ফর্মের কিছুটা রাওয়ালপিন্ডিতেও বহাল রাখবেন, এমন প্রত্যাশা তো খুব বাড়াবাড়ি কিছু ছিল না। কিন্তু তিনিও ৫ বলের বেশি টিকতে পারেননি। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে এলবিডব্লু হয়ে বিদায় নেন তিনি। তবে প্রাথমিকভাবে আম্পায়ার নাইজেল লং তাঁকে আউট দেননি। রিভিউ নিয়েই সফল পাকিস্তানের অধিনায়ক আজহার আলী।
মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগে মুমিনুল আর বিরতির পরে নাজমুল আর মাহমুদউল্লাহকে হারিয়ে ফেলার পর মনে হচ্ছিল খুব বেশিদূর যাওয়া হবে না বাংলাদেশের। কিন্তু সেই ধাক্কা বেশ ভালোভাবেই সামাল দেন মোহাম্মদ মিঠুন আর লিটন দাস। মাহমুদউল্লাহর ইনিংসে প্রতিশ্রুতি ছিল, কিন্তু সে প্রতিশ্রতির বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি। ২৫ রান করে শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে আসাদ শফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ।

লিটন-মিঠুন কেবল জবাবই দিচ্ছিলেন না, রীতিমতো পাল্টা আক্রমণ। রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের প্রথম দিনে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানি বোলার-ফিল্ডারদের কপালে দেখা গিয়েছিল চিন্তার ভাঁজ। লিটন তো ওয়ানডে ধাঁচের ইনিংসই খেলেছেন। মারার বল পেলেই মেরেছেন, ভালো বল দেখে-শুনে খেলেছেন। বেশ আনন্দদায়ী এ জুটি অনেক দূরই টেনে নিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের সংগ্রহকে। ৫৪ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন তাঁরা। হারিস সোহেলের এক নিরীহ-দর্শন অফব্রেকে সুইপ করতে গিয়ে এলবি’র ফাঁদে তিনি। প্রথমে আম্পায়ার দেননি, পরে রিভিউ নিয়ে সফল পাকিস্তান। আউট হওয়ার আগে ৪৬ বলে, ৭ বাউন্ডারিতে ৩৩ রান করেছেন লিটন।

লিটনের বিদায়ের পর তাইজুল ইসলাম আর মিঠুনের জুটিতে আসে ৫৩ রান। তাইজুল খেলেছেন নিয়মিত ব্যাটসম্যানের মতোই। ২৪ রান করতে খেলেছেন ৭২ বল। ৪ বাউন্ডারি মারলেও বেশিরভাগ সময় স্ট্রাইক পরিবর্তন করাতেই মনোযোগ দিয়েছেন তিনি। তাইজুলের ব্যাটে ভরসা পেয়ে মিঠুন তাঁর নিজের খেলাটাই খেলেছেন। ১৪০ বল মাঠে কাটিয়ে করা তাঁর ৬৩ রানে ছিল ৭টি বাউন্ডারি আর একটি ছক্কা। তাইজুল ফেরার পর রুবেল হোসেন, আবু জায়েদরা খুব বেশি সময় সঙ্গ দিতে পারেননি মিঠুনকে। সঙ্গী হারাতে থাকা মিঠুন এক পর্যায়ে হাতখুলে খেলছিলেন। নাসিম শাহর বলে চালাতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তাঁর ইনিংস। তামিম-লিটনের মতোই তিনিও ডিআরএসের ‘শিকার’। মাঠের আম্পায়ার নাইজেল লংয়ের দিন আজ খুব ভালো যায়নি। মিঠুনকেও প্রথমে আউট দেননি লং। কিন্তু রিভিউ করে বাজিমাত করে পাকিস্তান।

পিন্ডির মাঠে আজ সেরা বোলার ছিলেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। তিনি ৫৩ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। মোহাম্মদ আব্বাস আর হারিস সোহেল নিয়েছেন ২ উইকেট করে। নাসিম শাহ নিয়েছেন এক উইকেট।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত