রবিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

‘থার্মাল স্ক্যানার চেকিং ছাড়া কেউ দেশে প্রবেশ করছে না’

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

প্রতিদিনই চীন থেকে সরাসরি অথবা অন্য কোনো দেশ হয়ে বাংলাদেশে আসছেন অনেকেই। তাদের অনেকেরই অভিযোগ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের সঠিকভাবে স্ক্যানিং করা হচ্ছে না। আবার অনেকে অভিযোগ করে বলছে, বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য। তবে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কর্মকর্তারা বলছেন করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রস্তুত বাংলাদেশ। থার্মাল স্ক্যানার চেকিং ছাড়া কেউই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবে না। আর এক্ষেত্রে তারা আহ্বান জানিয়ে বলছেন আতঙ্ক না ছড়িয়ে সবাইকে সচেতন থাকার জন্য।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে যারা এসেছে তাদের কারো মধ্যেই করোনভাইরাসে কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তারপরেও তাদের ক্ষেত্রে আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতি মেনেই সেবা দিয়ে যাচ্ছি। একই কথা প্রযোজ্য যারা দেশের বাইরে থেকে আসছেন তাদের ক্ষেত্রেও। প্রত্যেককেই আমরা বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে চেক করিয়ে প্রবেশ করাচ্ছি।

তিনি বলেন, এখন যারা দেশের বাইরে থেকে আসছে তাদের সবাইকে নিয়েই আমরা সিরিয়াসলি ভাবছি। তবে আমরা আলাদাভাবে প্রাধান্য দিচ্ছি তাদের যারা চীনের উহান থেকে আসছে। কারণ সেখান কিন্তু মানুষ থেকে এই ভাইরাস ছড়ায় নি। সেখানে কিভাবে ছড়াচ্ছে সেটাও এখনো নিশ্চিতভাবে কেউ বলতে পারে নি। সেখানে এখনও করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে। তার মানে সেখানে এই সংক্রমণটা থেকে গেছে। আমাদের যারা ওখানে ছিল তারাও কিন্তু সেই ইনফেকশনের এক্সপোজারে যেতেই পারে আবার নাও পারে। এটা কিন্তু কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না।

আইইডিসিআর’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরাও দেখতে পাচ্ছি নানা রকমের কথা বলা হচ্ছে। তবে সবাইকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই যে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য প্রাথমিক সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বন্দরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কীকরণ পদক্ষেপ। বসানো হয়েছে থার্মাল স্ক্যানার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলা হচ্ছে থার্মাল স্ক্যানারের চেকিং ছাড়াই বাংলাদেশে প্রবেশ করা যাচ্ছে। এমন অভিযোগের উত্তরে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি কখনোই সম্ভব না। যারাই আসছেন তারা সবাই এই চেকিং পদ্ধতির মাধ্যমেই আসছেন। তবে অনেকেই হয়তো অভিযোগটা করছেন কারণ তারা পদ্ধতিটা বুঝছেন না। প্রথমত চীনের প্রতিটি রেলস্টেশন ও এয়ারপোর্টে এখন স্ক্যানিং করে কিন্তু বিদেশগামী যাত্রীদের বের হতে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে কারও জ্বর পাওয়া গেলেই তাকে রেখে দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং সেখান থেকে কেউ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিমানে ওঠার সম্ভাবনা নেই।’

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের প্রতিটি বন্দরে বসানো হয়েচ্ছে থার্মাল স্ক্যানার। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আর্চওয়ের মতো করে দেওয়া আছে স্ক্যানার। যে দেশ থেকেই যাত্রীরা আসুক না কেনো সেটি পাড় করেই কিন্তু ইমিগ্রেশন পার হতে হবে কাউকে। আর সেক্ষেত্রে যদি কারো ১০০ ডিগ্রি জ্বর পাওয়া যায় তবে তা মেশিনে শনাক্ত করা হবে। যা মনিটর করা হচ্ছে আরেকটি রুম থেকে। এখানে মনিটরে রেড সিগনাল দেওয়া হয়। তখন সেই মনিটরের অবজারভেশনে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সেখান থেকে উঠে গিয়ে সেই যাত্রীকে আলাদা করে। এরপর তার স্ক্রিনিং করা হয় আলাদাভাবে। এভাবে ছাড়া আসলে থার্মোমিটার নিয়ে প্রতিজনে চেকআপ করাটা আসলে কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত না। কারণ প্রতিদিনই বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন ফ্লাইট আসছে।

ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, ‘এখন স্ক্রিনিংয়ের জন্য সবাইকে একটা ফরম দেওয়া হয় যা যাত্রীরা বিমানে বসেই পূরণ করেন। সেগুলো জমা নেন এয়ার হোস্টেসরা। সেগুলো জমা দেওয়া হয় হেলথ ডেস্কে। ডেস্কে যারা থাকেন তারা সঙ্গে সঙ্গে চেক করে দেখেন যে কারও জ্বর আছে কি না। এছাড়াও যেখানে বোর্ডিং করা হয় সেখানে আমাদের স্বাস্থ্য সহকর্মীরা দাঁড়িয়ে থাকেন একটা ব্লু কার্ড নিয়ে যেটাকে আমরা হেলথ ইনফরমেশন কার্ড বলি। যদি কারো শরীরে কোনো ধরনের জ্বর নাও থাকে তাকে সেই কার্ড টা দিয়ে দেওয়া হয়। যাতে করে পরবর্তী ১৪ দিনে কোনো ধরণের লক্ষণ দেখা গেলে সে সেই কার্ডে থাকা সাইন এন্ড সিমটম দেখে আইইডিসিআরের হট লাইন বা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেন যোগাযোগ করতে পারে। এই ব্লু কার্ড ছাড়া কেউ ইমিগ্রেশন পার করতে পারবে না। ’

এ চিকিৎসক আরও বলেন, ‘একটা কথা নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, বাংলাদেশে কেউ থার্মাল স্ক্যানারে চেকিং ছাড়া কেউ প্রবেশ করছে না। আর এ ক্ষেত্রে সেই স্ক্যানারের সামনে কেউ থাকা মোটেও জরুরি না। তবে সেই স্ক্যানারের মনিটরিং যারা করে সেখান থেকে মনিটর করা জরুরি। সেটা আমাদের এখানে সঠিক ভাবে করা হচ্ছে।’

সাংবাদিকদের সেই স্ক্যানার পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. আলমগীর বলেন, ‘এখানে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিষয় জড়িত। যেহেতু স্ক্যানারগুলো দেওয়াই হয়েছে ইমিগ্রেশন ডেস্কের দিকে। আর এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ইমিগ্রেশন নয়, একইসঙ্গে জড়িত বিমানের নিরাপত্তার বিষয়টিও। এই ক্ষেত্রে আমরা তাও আসলে ভাবছিলাম যে, এরাইভাল পয়েন্ট থেকে স্ক্যানার পর্যন্ত আসলে সাংবাদিকদের বিশেষ ব্যবস্থায় নেওয়া যায় কিনা যাতে মানুষের ভুল ধারণা দূর করা যায়। কিন্তু সেক্ষেত্রে যখন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কনসার্ন জড়িত থাকে তখন আসলে কিছু বলার থাকে না।’

পর্যাপ্ত চিকিৎসক কি আছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে? এমন প্রশ্নের জবাবে সেখানে কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, প্রথম দিকে এখানে কিছুটা সমস্যা ছিল তবে এখন তা কাটিয়ে উঠছি। ২ ফেব্রুয়ারি এখানে ৩ জন চিকিৎসক দায়িত্বরত ছিলেন তবে এখন তা আরও বেড়েছে। এখানে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে হেলথ চেকাপ করেই সবাই প্রবেশ করানো হচ্ছে। এছাড়াও প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত