শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

ঢাকা-রোম সম্পর্ক জোরদারে একমত ২ প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ কোঁতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন দেশটিতে সফরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে ৯ বিষয়ে একমত পোষণ করে যৌথ বিবৃতিতে সই করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-রোম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক থেকে ২০২২ সালে দুই দেশের সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের জন্য দুই প্রধানমন্ত্রী সম্মত হন। দুই দেশের রাজধানীতে একাধিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ঢাকা-রোম কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ কোঁতে আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সময়কে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করতে সম্মত হন। সেইসঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেন।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বৈঠকে দুই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি-ইতালিয়ান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ফোরামকে আরও দৃঢ় করতে সম্মত হন। তৈরি পোশাক খাত, ওষুধ শিল্প, হালকা প্রকৌশল খাত, চামড়াজাত পণ্য, প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক গড়তে সম্মত হন দুই প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া সমুদ্র অর্থনীতি (ব্লু ইকনমি) ইস্যুতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়।

ইতালিতে ১ লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এই বাংলাদেশিদের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি বৈধ উপায়ে অভিবাসনকে উৎসাহিত করতে দুই প্রধানমন্ত্রী একমত করেন।

নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জাতিসংঘসহ বৈশ্বিক অঙ্গনে ঢাকা-রোম একসঙ্গে কাজ করার জন্য একমত পোষণ করেন। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ বিশালসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ায় এবং সুন্দরভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করায় বৈঠকে বাংলাদেশের প্রসংশা করেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী।

স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে রোহিঙ্গারা যেন তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরতে পারে, সে জন্য বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে বৈঠকে অনুরোধ জানান। বৈঠকে গত জানুয়ারিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইসিজে) দেওয়া আদেশকে স্বাগত জানান দুই প্রধানমন্ত্রী।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত