শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

‘অবৈধ বিদেশিরা বছরে পাচার করছে ২৬৪০০ কোটি টাকা’

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

অবৈধভাবে বাংলাদেশে থাকা বিদেশিরা বাংলাদেশ থেকে ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আয় করে নিয়ে যাচ্ছে। অবৈধপন্থায় এই টাকাপাচার করায় বাংলাদেশ রাজস্ব হারাচ্ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ‘বাংলাদেশে বিদেশিদের কর্মসংস্থান: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে করা গুণগত এ গবেষণায় কোনো জরিপ চালানো হয়নি, শুধু তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে টিআইবি জানিয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের সংখ্যা অন্তত আড়াই লাখ। এদের মধ্যে অধিকাংশই পর্যটন ভিসা নিয়ে দেশে এসে অনুমতি না নিয়েই অবৈধভাবে কাজ করছে। তাদের হাত ধরে দেশ থেকে প্রতি বছর পাচার হয়ে যাচ্ছে ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। কোটি কোটি টাকা পাচার হওয়ার পাশাপাশি বিদেশিরা অবৈধভাবে দেশে কাজ করায় রাষ্ট্র বিপুল পরিমাণে কর হারাচ্ছে। বাংলাদেশে বৈধ ও অবৈধভাবে কর্মরত আড়াই লাখ বিদেশি বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে।

টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যূনতম হিসাবে আড়াই লাখ বিদেশি কর্মী বাংলাদেশে কর্মরত থাকলেও কর অঞ্চল-১১ এ কর দেয়া বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা মাত্র ৯ হাজার ৫০০। বাকিদের আয়ের কোনো হিসাব নেই। এর মধ্যে যে ৯ হাজার ৫০০ জন কর দিচ্ছে তারাও আয়ের সঠিক তথ্য গোপন করছে।

এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে। রাজস্ব আয় যা হওয়ার কথা, সেটি আমরা ব্যাপকভাবে হারাচ্ছি। এতে যারা অনিয়ম করে কাজ করছে বা কাজ দিচ্ছে, তাদের যেমন দায় আছে, একইভাবে যাদের মাধ্যমে পর্যটন ভিসা অল্প সময়ের মধ্যে একই ব্যক্তিকে দেয়া হয়, তাদেরও দায় রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এর আগেও একটি গবেষণা করেছিলাম। সেখানে দেখা গেছে, যে ছয়টি দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের কোনো টাকা লাগে না- সেখানেও ভিসা করাতে বছরে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লেনদেন হয়। বাংলাদেশে যারা বৈধ ও অবৈধভাবে কাজ করছেন তারাও বছরে ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার করছেন। বিদেশি নিয়োগে দেশে কোনো নিয়মকানুন মানা হয় না। বিদেশি নিয়োগের পূর্বশর্ত হলো ওই কাজের জন্য দেশে যোগ্য কেউ আছে কি না খোঁজ করা। তবে আমাদের নিয়োগকর্তারা আগে থেকেই বিদেশি নিয়োগের জন্য মনস্থির করেন।’

গবেষণা কাজ ও প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) মনজুর-ই-খোদা। তিনি জানান, ৪৪টির বেশি দেশ থেকে আসা বিদেশিরা বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে কর্মরত। দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিকরা বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে কর্মরত রয়েছে।

‘বৈধভাবে বিদেশি নিয়োগে সাতটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়। এর মধ্যে স্থানীয় নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুনঃবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে হয়। বিডা (বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ), বেপজা (রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ), এনজিও ব্যুরো থেকে ভিসার সুপারিশপত্র নিতে হয়। বাংলাদেশ মিশনে ভিসার আবেদন করতে হয়। নিরাপত্তা ছাড়পত্রের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এনএসআই ও এসবিতে আবেদন করতে হয়। বিডা, বেপজা, এনিজিও ব্যুরোতে কাজের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হয়। ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন সংগ্রহ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় এবং ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরে আবেদন করতে হয়। অবৈধভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগে এত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় না। এক্সপার্টের সঙ্গে বিদেশে থেকেই যোগাযোগ করে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে আসেন এবং কাজ করেন। সাধারণত বাংলাদেশে তিন মাসের ভ্রমণ ভিসা দেয়া হয়। ভিসার মেয়াদ শেষ হলে ওই কর্মী আবার স্বদেশে ফিরে যান এবং ভ্রমণ ভিসার জন্য আবেদন করেন’- বলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) শাহজাদা এম আকরামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত