বুধবার, ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

করোনাভাইরাস: ভুল স্বীকার করলো চীন

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নিজেদের ভুল আর ঘাটতির কথা স্বীকার করেছে চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব। দ্যা পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটি বলেছে, জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের আরও উন্নতি করতে হবে। এছাড়া বন্যপ্রাণীর বাজারে বড় ধরনের অভিযান চালানোর আদেশ দেয়া হয়েছে।

চীনে সোমবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বিশ হাজার ছাড়িয়েছে। এতে মারা গেছে সবমিলিয়ে ৪২৫ জন। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের মিছিল। কেবল একদিনেই তিন হাজার মানুষের আক্রান্ত হবার খবর পাওয়া গেছে।

দেশটির ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী সোমবার হুবেই প্রদেশে মারা গেছে ৬৪ জন। এ প্রদেশ থেকেই প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটি ছড়াতে শুরু করেছে বলে মনে করা হয়।

চীনের বাইরে এপর্যন্ত অন্তত ১৫০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ফিলিপাইনে একজনের মৃত্যুও হয়েছে।

চীনের সরকারি বার্তা সংস্থার দেয়া তথ্য অনুযায়ী সোমবার স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৈঠকে বলা হয়, এ ঘটনাকে চীনের সরকারি সিস্টেমের জন্য একটি ‘বিগ টেস্ট’ হিসাবে উল্লেখ করে এ থেকে শিক্ষা নেয়ার কথা বলা হয়।

আরো বলা হয়, ‘মহামারি মোকাবেলায় ভুলত্রুটি আর ঘাটতি চোখে পড়েছে। আমাদের জরুরি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি উন্নত করতে হবে এবং জরুরি বিপজ্জনক কাজগুলো মোকাবেলায় আরও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।’

একই সাথে বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এবং এজন্য বাজারে নজরদারি বাড়াতে হবে। ধারণা করা হয়ে থাকে হুবেই প্রদেশের উহান শহরের একটি বন্যপ্রাণীর বাজার থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়েছে। উহান তাই এখনো সরকারি পদক্ষেপে অগ্রাধিকার পাবে ও আরও মেডিকেল স্টাফ উহানে পাঠানো হবে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে মহামারি প্রতিরোধে কর্মকর্তাদের পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে এবং যারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবে তাদের শাস্তির মুখে পড়তে হবে। এর মধ্যে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত এক কিশোরের মৃত্যুর পর দুজন কর্মকর্তাকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

ওই কিশোরের বাবাকে করোনাভাইরাস সন্দেহে কোয়ারেন্টাইনে নেয়ার পর ওই কিশোরের মৃত্যু হয়। বাবা ছাড়া তাকে দেখভালের আর কেউ ছিলোনা। ফলে সে মারা যায়।

এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সোমবার একদিনেই উহানে ৬৪ জন মারা গেছে। এই সংখ্যা করোনায় আক্রান্ত একদিনে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগের দিন ৫৭ জন মারা গিয়েছিলো।

করোনার চিকিৎসায় উহানে দ্রুততার সাথে দুটি নতুন হাসপাতাল করা হয়েছ, যদিও সেগুলো এখনো পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করেনি। ওই প্রদেশের সব মানুষের জন্যই মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে মাস্কের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, চীনে এ মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে মেডিকেল মাস্ক, প্রটেকটিভ স্যুট ও নিরাপত্তা চশমা দরকার।

এদিকে সাংহাইয়ের মতো কিছু শহরে নতুন বছরের ছুটি বাড়ানো হয়েছে, বন্ধ আছে স্কুলগুলোও। হংকংয়ে ১৫ জন আক্রান্ত হওয়ার পর দেশটি চীনের সাথে ১৩টি সীমান্ত পথের দশটিই বন্ধ করে দিয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত