মঙ্গলবার, ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

করোনাভাইরাস: প্রথম সতর্ককারী চিকিৎসক এখন নিজেই আক্রন্ত

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

চীনে সবার আগে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব সম্পর্কে টের পেয়েছিলেন এবং এর ভয়াবহতা বুঝতে পেরেছিলেন যে চিকিৎসক, সেই লি ওয়েনলিয়াং নিজেই এখন আক্রান্ত।

শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ডা. লি’র সংক্রমণ ধরা পড়ে। এখন স্থানীয় একটি হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন তিনি। নিজের অসুস্থতার কথা গণমাধ্যমের কাছে তিনিই জানিয়েছেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর চিকিৎসকদের একটি চ্যাট গ্রুপে ডা. লি জানিয়েছিলেন যে, স্থানীয় একটি সামুদ্রিক খাবার বিক্রির বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতজন একটি বিশেষ ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন। এটি অনেকটা সার্সের মতো। তিনি সেখানে ব্যাখ্যা করে নিচের বন্ধুদের সতর্ক করে বলেন যে, তার গবেষণা অনুযায়ী এটি আসলে করোনাভাইরাস। এজন্য বন্ধুদের সবাইকে সতর্ক থাকতেও বলেন তিনি। এগুলো সবই ছিল অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা।

কিন্তু তার সেই চ্যাট গ্রুপের কথোপকোথনের স্ক্রিনশট ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তার নামটিও ছড়িয়ে পড়ে।

আর গুজব ছড়ানোর অভিযোগে উহান পুলিশের হাতে আটক হন ডা. লি। সেই মুহূর্তে এই রোগটি সম্পর্কে তথ্য ছড়াতে চায়নি কর্তৃপক্ষ। সম্ভবত ভেবেছিল, রোগটি চাপা দেওয়া যাবে। কিন্তু দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। রুপ নেই আধুনিক বিশ্বের নতুন মহামারিতে।

যেই ডা. লি প্রথম এই রোগ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন, সেই তিনিই এবার আক্রান্ত হলেন প্রাণঘাতি এই ভাইরাসে। চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উইবোতে নিজেই নিজের অসুস্থতার খবর দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, শুরু থেকে বেশ কয়েকবার পরীক্ষা করিয়েছেন। তার জ্বর হলেও পরীক্ষায় করোনাভাইরাস ধরা পড়েনি। তবে ৩০ জানুয়ারি পরীক্ষার ফলে এই রোগ ধরা পড়ে। এখন তিনি একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এরইমধ্যে করোনাভাইরাসে ৪২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুরো বিশ্বে ২০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। চীনে করোনাভাইরাসের কারণে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। যে প্রদেশ থেকে এই ভাইরাসের উৎপত্তি সেই উহানকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ চীনের সঙ্গে যোগাযোগ আপাতত বন্ধ রেখেছে।

তবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও ডা. লি চীনের সাধারণ মানুষের কাছে রীতিমতো নায়ক বনে গেছেন। তবে তার সঙ্গে যা হয়েছে তাতে ভবিষ্যতে কোনো চিকিৎসক যে কোনো রোগ বা বিপদ সম্পর্কে আগাম সতর্ক করার আগে দুইবার ভাববেন বলেও মনে করছেন সেখানকার সাধারণ মানুষ।

চীনের নেটিজেনরা বলছেন, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষার জন্য এরকম লাখো ডা. লি এর প্রয়োজন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত