সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

মুজিববর্ষে কেউ বেকার থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মুজিববর্ষে কেউ বেকার থাকবে না। এজন্য সবার কর্মসংস্থান তৈরিতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (৩০জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর তেঁজগাওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে সফল আত্মকর্মী ও যুব সংগঠকদের মাঝে জাতীয় যুব পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২৭ জন সফল আত্মকর্মী ও সংগঠকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের একটাই লক্ষ্য, সারাদেশে এই মুজিববর্ষে কেউ যেন বেকার না থাকে। তরুণরা নিজেদের চিন্তা-চেতনা, কর্মশক্তি ও দক্ষতা দিয়ে নিজে কাজ করার পাশাপাশি আরও দশজনকে কাজ করবার সুযোগ করে দিতে পারে। তাই চাকরি না করে চাকরি দিতে পারব, সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দুই কোটি যুব সমাজকে চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পেরেছি। সেইসঙ্গে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। আমি খুব আনন্দিত। কারণ কয়েকজন নিজে থেকেই উদ্যোক্তা হয়ে সাফল্য অর্জন করেছেন এবং আমরা তাদের পুরস্কৃত করছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধুমাত্র চাকরির দিকে মুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকলে চলবে না। চাকরি না করে চাকরি দেব; মানে দেওয়ার সক্ষমতা অর্জনের চিন্তাটা মাথায় থাকতে হবে, আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাবোধ থাকতে হবে। সেটা থাকলে আমার তো মনে হয়, বাংলাদেশে কেউ আর বেকার থাকবে না।’

এ সময় সরকার বিদেশে দক্ষ কর্মী পাঠাতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলে জানান পধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। কারণ দক্ষ কর্মী পাঠালে মূল্যায়ন ভালো হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল এবং কর্মময় করে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের অধীনে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় যুবকদের বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আমরা যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক করেছি। যেখান থেকে তারা বিনা জামানতে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লোন নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা স্কুল থেকেই ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে চাই। শিশু ও তরুণদের সৃষ্টির একটা ক্ষমতা আছে। তা বিকশিত করার জন্য আমরা এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এ ছাড়া তাদের আলাদা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করছি। এর মাধ্যমে স্কুল জীবন শেষ করে যারা কলেজ বা উচ্চশিক্ষা নিতে পারে না তারা বিভিন্ন কর্ম করে খাচ্ছে।

তিনি বলেন, সারাদেশে দুই হাজার ৮০০ ডিজিটাল সেন্টার করা হয়েছে। যেখান থেকে তরুণ ও যুবকরা ট্রেনিং নিয়ে তারা নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে এবং আত্মকর্মী হয়ে উঠছে। এ ছাড়া আমরা অনেকগুলো রেডিও-টেলিভিশনের অনুমতি দিয়েছি। এখানেও অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদফতর থেকে ট্রেনিং নিয়ে অনেকেই এখন উদ্যোগী হয়ে সফলতা অর্জন করেছে। তারা নিজেরা তো সফল হয়েছে, আরও ১০ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে।

‘আজ যাদের আমি পুরস্কার দিলাম তাদের জীবনী এবং তাদের সফলতা ও আত্মকর্মী হয়ে ওঠার পেছনে গল্প শুনে আমার খুব ভালো লাগল। এভাবে যুবকরা নিজেদের আত্মকর্মী তৈরি করতে পারে, তাহলে আগামীতে বাংলাদেশ আর কেউ বেকার থাকবে না। কোনো বেকার খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

‘আজ ফ্রিল্যান্স করে অনেকে দুই থেকে তিন লাখ টাকা ইনকাম করছে। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রেনিং নিয়ে আজ নিজেদের কর্মসংস্থান করে নিয়েছে। শুধু চাকরি করলেই ইনকাম করা হয় আর ফ্রিল্যান্সিং করলে ইনকাম করা হয় না, এই চিন্তা-চেতনা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিতে হবে। একজন যুবক ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে ৩-৪ লাখ টাকা ইনকাম করলে সেটাও একটা কর্মসংস্থান, এটাই ধরে নিতে হবে।’

‘আমরা গ্রামের তৃণমূল দরিদ্র মানুষের জন্য আমার বাড়ি আমার খামারের যে প্রকল্প গ্রহণ করেছি, সেই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে আজ হাজার হাজার মানুষ আত্মকর্মী হয়ে উঠছেন। তারা নিজেরা গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগি পালনসহ সেলাই এবং অন্যান্য কর্ম করে সচ্ছলভাবে জীবিকা নির্বাহ করছে। তাছাড়া আমার বাড়ি আমার খামারের মাধ্যমে শাকসবজি উৎপাদন করে তারা স্বাবলম্বী হচ্ছে’,- যোগ করেন শেখ হাসিনা।

যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বহুমুখী সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছি। এই সুযোগের সদ্বব্যবহার করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। সব সময় এটিই চিন্তা করতে হবে। আগে দেখতে হবে, আমি নিজে কী করতে পারি। নিজে কতটুকু কাজ করতে পারি বা নিজে মানুষকে কিছু দিতে পারি কি না, সেটাই বড় কথা। আমি চাকরি করব কেন, আমি আরও দশটা চাকরি দেব। এই চিন্তাভাবনা থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের মেয়াদে ডেল্টা প্ল্যানসহ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আর এই তরুণ সমাজই হবে দেশের কর্ণধার। যারা এই দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব আখতার হোসেন, যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মহাপরিচালক আখতারুজ্জামান খান কবির।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত