শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

রাস্তায় বের হতে পেরেছি, এটাই বড় মুনাফা: ফখরুল

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় বের হতে পেরেছেন এবং দলীয় প্রতীক সামনে নিয়ে এসে ভোটের পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছেন, সেটাই তাঁদের বড় অর্জন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

ঢাকা সিটি নির্বাচনে বিএনপি কী মুনাফা করতে চায়—এ প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের উপস্থিতি, আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছি, ভোট চাইছি, ধানের শীষকে সামনে নিয়ে আসছি, একটা পরিবেশ তৈরি করতে কিছুটা হলেও সক্ষম হয়েছি। আমাদের জনগণ বেরিয়ে আসছে, এটা সবচেয়ে বড় মুনাফা।’

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা রোধ করার শক্তি এই সরকারের নেই। তিনি সংশ্লিষ্টদের গণবিরোধী কার্যকলাপ থেকে বেরিয়ে এসে সংবিধান প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করা আহ্বান জানান। জনগণ ভোট দিতে পারলে বিএনপির প্রার্থীরাই জয়লাভ করবেন বলে জানান।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনে ভোট নেওয়া হবে। শেষ দিকে এসে বিএনপির নেতা–কর্মীদের গ্রেপ্তার, হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘বিএনপির অনেক নেতা–কর্মী, যাঁরা চিকিৎসা বা ব্যবসার কাজে ঢাকায় এসেছেন, তাঁদের গ্রেপ্তার করে একতরফা নির্বাচন করতে চাইছে। বিএনপির নেতা–কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি হয়েছে।’ মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থীর ওপর হামলা ও কাউন্সিলরদের ওপর হামলা, মিথ্যা মামলা, বাড়িতে বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষে গণজোয়ার দেখে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তারের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করে বলেছেন, বিএনপি বহিরাগত অস্ত্রধারীদের ঢাকায় জড়ো করছে। এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও জানিয়েছিলেন। তাঁর এ বক্তব্যকে উসকানিমূলক বলে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁদের এমপি-মন্ত্রীদের বক্তব্যের ফলে নির্বাচনের পরিবেশ ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনের দিকেই চলে যাচ্ছে। মির্জা ফখরুল উল্টো অভিযোগ করে বলেন, ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে আওয়ামী লীগ ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্ত্রাসীদের ঢাকায় জড়ো করে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্ট করতে চাইছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ভোটের ঠিক এক দিন আগে আওয়ামী লীগ একটি কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান করে এই নির্বাচনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। এটি নির্বাচনের সুস্পষ্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন। এটা নির্বাচন কমিশনে জানানোর পরে তারা বলেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সভা হতে বাধা নেই। কমিশনের কথা থেকে বোঝা যায় তারা সরকারের নির্দেশ পালন করছে। পুলিশও ভূমিকা পালন করছে।

ঢাকা সিটি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ নির্বাচনকেও একটি দলীয়করণ নির্বাচনে করতে চলেছে। দুই সিটি করপোরেশন ১৫ বা ১৬ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থী ক্রমাগত আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন।

নির্বাচনের নামে খেলা ও তামাশা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকে, গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করেছে। এর জন্য একসময় অবশ্যই তাদের জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইভিএম নিয়ে সব মহল আপত্তি জানানোর পরেও কমিশন তাদের সিদ্ধান্তে অটল। কারণ, এই ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ভোট নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। ইভিএম দিয়ে কারচুপির মাধ্যমে জনগণের রায়কে বাধাগ্রস্ত করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, মির্জা আব্বাস, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত