বুধবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

সংক্রামক ব্যাধি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তাঁর আশা, এই ভাইরাস বাংলাদেশে আসবে না। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতি জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই ভাইরাস খুব শিগগির ছড়িয়ে যায়। এটি যাতে বাংলাদেশে আসতে না পারে, এ জন্য দেশের সব বন্দরে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেখানে স্ক্যানার যন্ত্র বসানো হয়েছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া সব জেলা হাসপাতালগুলোতে আলাদা ওয়ার্ড করার জন্য সিভিল সার্জনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের ব্যাপারে দেশের সবাইকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সম্ভব্য যত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তা নেওয়া হয়েছে। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রায় তিন শ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আছেন। তাঁদের বিষয়ে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। কেউ এখনো আক্রান্ত হয়নি। চীন সরকার ১৪ দিনের মধ্যে কাউকে সেই শহরটি ত্যাগ করতে দেবে না বলে জানিয়েছে। সুতরাং ৬ ফেব্রুয়ারির আগে চীনের উহানে আটকে পড়া কোনো বাংলাদেশি ফিরতে পারবে না।

ঢাকায় সর্দি কাশি নিয়ে ভর্তি এক রোগী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে এর জবাব দেন সেখানে উপস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, একজন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি এখন সুস্থ, বাড়ি ফিরে যেতে চাইছেন। তাঁর স্বাস্থ্যের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। সেগুলোর রিপোর্ট এখনো হাতে আসেনি।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের কারণে এখন পর্যন্ত কোথাও ভ্রমণের ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশনা দেয়নি। তবে আমরা অধিকতর সতর্কতার জন্য সাময়িক সময়ে চীনে যাতায়াত নিরুৎসাহিত করছি। অন্যদিকে বাংলাদেশে যে চীনা নাগরিকরা আছেন তাদের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর ব্যবস্থাপনা বিষয়েও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক সাংবাদিকদের জানান, গত ১৫ দিনে দুই হাজার ৩০৮ জন যাত্রীকে স্ক্যান করা হয়েছে। প্রতিদিন তিন থেকে চারটি উড়োজাহাজে যাতায়াতকারী সবাইকেই স্ক্যান করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতাল ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল বিশেষভাবে আইসোলেটেড ইউনিট প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সারাদেশের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালের একইভাবে আইসোলেটেড ইউনিট প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য সচিব মোঃ আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত