শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

ইশরাকের প্রচারের সময় আ.লীগ-বিএনপির সংঘর্ষ, ফাঁকা গুলি

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনের নির্বাচনী প্রচারের সময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে দুই পক্ষে একে অপরের দিকে ইটের টুকরা নিক্ষেপ করে। লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা করে। হামলার মধ্যে গুলি ছোড়ার শব্দ শোনা গেছে। দুই পক্ষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এই হামলায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আধঘণ্টা পর্যন্ত এ অবস্থা চলার পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আজ রোববার রাজধানীর টিকাটুলি মোড় থেকে ইশরাক হোসেন কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করে সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের গলিতে প্রবেশের সময় কলেজের মূল ফটকে সংঘর্ষের সূত্রপাত। সেখানে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় কাউন্সিলর প্রার্থী রোকনউদ্দিন আহমেদের সমর্থকদের সঙ্গে ইশরাকের কর্মী–সমর্থকদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষই একে ওপরের উদ্দেশ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা শুরু করে। এর মধ্যে অন্তত ১০টি গুলির শব্দও শোনা গেছে। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে শুরু হয়ে ১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত সংঘর্ষ পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা বলছেন, ইশরাকের মিছিল থেকে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির সমর্থকেরা বলছেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে হামলা চালানো হয়।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলায় ইশরাক সহ অন্তত ১০-১৫ জন আহত হয়েছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আমাদের ওপর এই হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন এর পায়ে ইটের আঘাত লেগেছে। হামলার ঘটনার সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদল নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, নুরুল ইসলাম নয়ন, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে ইশরাক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে যাচ্ছিলাম। আওয়ামী লীগ–সমর্থিত স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর এখানে কার্যালয় রয়েছে। সেখান থেকে হামলা করা হয়েছে। আমি আমার কর্মীদের শান্ত থাকতে বলেছি। ১ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে আমরা এর জবাব দেব।’ পরে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই হামলার উদ্দেশ্য বিএনপিকে মাঠছাড়া করা, নির্বাচন বানচাল করা। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে থাকবে। এই হামলার ব্যাপারে মামলা করা হবে।

ইশরাক বলেন, ‘গণসংযোগ শেষে হাটখোলা থেকে টিকাটুলী হয়ে আমার বাসার দিকে ফিরছিলাম। আপনারা দেখেছেন এখানে একটি নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ে আওয়ামী লীগের এক কাউন্সিলর প্রার্থীর ক্যাম্প রয়েছে। ওয়ার্ড ৩৯ প্রার্থীর নাম আমি জানি না। তার ক্যাম্পের ২তলা থেকে একদল যুবক বড় বড় ইট নিক্ষেপ করে। এ সময় আমাদের কর্মীরা আহত হয়। এ ঘটনায় ক্যামেরাম্যানরাও আহত হয়েছেন।’

বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ‘আমি এগিয়ে গিয়ে তাদের বলি, আপনারা শান্ত থাকেন আমরা চলে যাচ্ছি। এরপর আমার কর্মীরা আমাকে ধরে নিয়ে আসে। তখন আমি জানতে পারি যে আমার একজন কর্মীকে তারা আটক করে ভেতরে নিয়েছে, আমি তাকে ছাড়ানোর জন্য এগিয়ে যাই। পরে সম্ভবত আমাদের কর্মীরা তাকে বের করে আনে, আমাকেও নিবৃত্ত করে বাসার দিকে নিয়ে আসে। এবং আসার পথে কয়েকটা ইট আমার গায়েও লাগতে গিয়েছিল, আমার কর্মীরা আমাকে রক্ষা করে।’

এ সময় গুলির আওয়াজ শুনতে পেয়েছেন জানিয়ে এই মেয়রপ্রার্থী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৭-৮ জন আহত হয়েছে বলে আমরা জানি, বাকিদের কথা আমরা জানি না। এ সময় বাংলাভিশন, সময় টিভিসহ গণমাধ্যমের ২-৩ জন ক্যামেরাম্যান আহত হয়েছে।’

আমাদের পক্ষ থেকে কে গুলি করবে?- প্রশ্ন রেখে ইশরাক বলেন, ‘আমাদের তো অস্ত্র থাকতে হবে! এই আমলে কি মনে হয় আমাদের হাতে অস্ত্র আছে? এই সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ সরকারের হাতেই তো অস্ত্র আছে, এটাতো সবাই জানে, সারা বাংলাদেশ দেখেছে। তারা আমাদের জনপ্রিয়তায় ভীত। আমরা তো গণসংযোগ করছিলাম, বিনা উসকানিতে কেন আমাদের ওপর হামলা করা হলো, আমাদের দিকে গুলি করা হলো? চেয়ার নিক্ষেপ করা হয়েছে, বড় বড় ইট নিক্ষেপ করা হয়েছে।’

‘আমাদের গণসংযোগের কর্মসূচি ছিল মতিঝিল হয়ে ইত্তেফাকের মোড় হয়ে আমরা বাসার দিকে আসব। আমরা হাটখোলা দিয়ে বাসায় আসছিলাম। আমার পৈত্রিক বাসস্থান এখানে, আমার কি বাসায় আসার সময় ১০-১৫টা থানা বলে আসতে হবে যে আমি বাসায় যাচ্ছি। আমি কী বাসায় আসতে পারব না গণসংযোগ শেষে?’ প্রশ্ন রাখেন দক্ষিণের এই মেয়রপ্রার্থী।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইশরাক হোসেন যে এ সময় প্রচারণা চালাবেন তা পুলিশকে জানানো হয়নি। আগে জানতে পারলে তাঁরা নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা নিতে পারতেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত