রবিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

প্রতিটি গ্রামের উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি : প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু একটি দেশের রাজধানীর উন্নয়ন হলেই চলবে না। দেশের প্রতিটি গ্রামের উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা প্রতিনিয়ত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করছি। ফলে একটি উপজেলা থেকে রাজধানী পর্যন্ত সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হচ্ছে।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। অন্যদের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মজিবুর রহমান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, তথ্য সচিব কামরুন নাহার প্রমুখ তাদের মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয়েছিল তখন শতকরা ৮২ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ তার মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করবে। এদেশের মানুষ আর কখনও না খেয়ে থাকবে না। তারা পেটভরে খেয়ে জীবন যাপন করবে। এ লক্ষ্যে তিনি দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করেছিলেন। কিন্তু তার এই স্বপ্ন পূরণ করতে দেয়নি। ৭৫-এর ১৫ আগস্ট এক কালো অধ্যায় নেমে আসে। যে উদ্দেশ্য এবং চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, ৭৫-পরবর্তীতে যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা সে চেতনা বাস্তবায়ন করেনি।’

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করছি। অথচ ৭৫-এর পরে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা রেললাইন বন্ধ করে দিয়েছে। মিলিটারি ডিক্টেটররা যখন ক্ষমতায় আসে তখন মুষ্ঠিমেয় মানুষ বড়লোক হয়। কিন্তু দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য খোলে না। বিগত দিনে তাই হয়েছে। দেশের উন্নয়নও থমকে গিয়েছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেলের জীর্ণ যে ব্রিজগুলো রয়েছে, সেগুলো ভালোভাবে মেরামত করতে হবে। রেলকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে, আমাদের পূর্ববর্তী সরকারগুলো এটাই চিন্তা ছিল। সেই কারণে তারা গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে লোকবল বিদায় দিয়ে দেয়। আর বিভিন্ন জায়গায় লাইনগুলো বন্ধ করে দেয়। আমি মনে করি, এটি একটি আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত ছিল।

আমরা রেলকে উন্নত করতে কাজ করে যাচ্ছি। আমি মনে করি, সারাদেশে একটি সার্ভে করে আলাদা প্রকল্প তৈরি করে আনলে আমরা করে দিতে পারি। তাছাড়া রেলের নিজস্ব তহবিল আছে, তাই বিভিন্ন জায়গায় যেখানে সম্ভব রেলসেতু এবং লাইনগুলো দ্রুত মেরামত করা হবে বলে আমি আশা করি, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমকায় আসার পর রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত উন্নয়নের কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের মাধ্যমে এদেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তারা সমবায়ের মাধ্যমে ঋণ নিচ্ছে এবং তা পরিশোধ করছে। ঋণ নিয়ে তারা গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। তারা সমবায়ের মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে।’

তিনি বলেন, আজ যে অ্যাপসের উদ্বোধন করা হলো তা ব্যবহার করে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের একজন মহিলা মোবাইলের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবে। গ্রামের একজন নিঃস্ব মহিলা যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে সেজন্য আমরা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প চালু করেছি। এর মাধ্যমে আজ বাংলাদেশের অনেক অবহেলিত নারী উপকৃত হয়েছে। তারা স্বাবলম্বী হয়েছে।

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যোগাযোগের জন্য যে ব্রিজগুলো উদ্বোধন করছি, এই ব্রিজগুলো একটি উপজেলা এবং রাজধানীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে দিচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে রাজধানী এবং জেলা পর্যায়ে যোগাযোগ অত্যন্ত সহজ হয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বাংলাদেশকে যখন স্বাধীন করেছিলেন তখন বাংলাদেশের মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করতো। একবেলা খাবার জোটানো তাদের জন্য কষ্টকর ছিল। থাকার ঘর ছিল না, চিকিৎসা সেবা ছিল না। শিক্ষার সুযোগ ছিল না। সম্পূর্ণ অবহেলিত, শোষিত বঞ্চিত একটা জাতি। এই জাতির আর্থ-সামাজিক মুক্তির জন্যই তিনি মুক্তি সংগ্রাম করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা পাবেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত