রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

সহানুভূতি দেখিয়ে আদালতকে প্রভাবিত করতে চায় না সরকার : কাদের

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে তার পরিবারের বিশেষ আবেদন করার ব্যাপারে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যারা বিশেষ আবেদনের কথা বলছেন, তারা আসলে আবেদন কার কাছে করবেন? আদালত নাকি সরকারের কাছে? বেগম জিয়া কিন্তু এখন আদালতের এখতিয়ারে। এখানে সহমর্মিতা-সহানুভূতির বিষয় নয়, এটা লিগ্যাল ব্যাপার। আসলে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে সহমর্মিতা বা সহানুভূতির ঘাটতি নাই। কিন্তু এক্ষেত্রে সহানুভূতির কথা বলে তো আমরা আদালতকে প্রভাবিত করতে পারি না।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) ব্র্যাকের আয়ােজনে নারী গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ পরবর্তী সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।

খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে বিশেষ আবেদন করবে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। যদি খালেদা জিয়ার পরিবার তার মুক্তির জন্য বিশেষ আবেদন করে সে ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান কী হতে পারে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিশেষ আবেদন আদালতে নাকি সরকারের কাছে করবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। এটা আমরা জানিও না, আর সরকারের কাছে আবেদনের বিষয়ও নয়।

খালেদা জিয়ার পরিবার আবেদন করলে কোনো সহমর্মিতা সাথে পাবেন কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখানে সহমর্মিতা সহানুভূতি এর বিষয় নয় এটা লিগ্যাল ব্যাপার। আসলে সরকারের পক্ষ থেকে সহমর্মিতা বা সহানুভূতির ঘাটতি তো নাই, খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সহানুভূতির কথা বলে তো আমরা আদালতকে প্রভাবিত করতে পারি না সহমর্মিতা দিয়ে আইনকে প্রভাবিত করাও যায় না।

বিএনপির অভিযোগ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জেতার জন্য সরকার সবকিছু ‘ব্যবহার’ করছে। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা উল্টো চিত্রটাই জানি। বিএনপি’র নির্বাচনে হেরে যাবার আশঙ্কা আছে। বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য নানামুখি অজুহাত খুঁজছে।’

বিএনপি’র অভিযোগ নির্বাচনে জিতে সরকার তার সবগুলো অর্গান ব্যবহার করছে। এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, বিএনপি প্রমাণ নিয়ে আসুক কোথায় কোথায় নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে। তথ্য প্রমাণ নিয়ে আসুক সেটা দেশবাসী জানুক। তথ্যপ্রমাণ নিয়ে আসুক কোথায় নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হচ্ছে কোথায় আচরণ বিধি লংঘন হচ্ছে। মনগড়া কথা বললে তো হবে না তারা সবসময় অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়ে। তথ্য-প্রমাণ নিয়ে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, তারা তথ্যপ্রমাণ দিক। কোথায় কোথায় সরকারের মাধ্যমে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন দেখছেন। সেটাতো প্রমাণ করতে হবে তার প্রমাণ দিক। দেশবাসী জানুক, শুধু মনগড়া কথা বললে তো হবে না! বিএনপি তো অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়ে। অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়ার মতো বক্তব্য দিলে তো হবে না। কোথায় সরকার আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে, নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে বলুক। আমি পার্টির সেক্রেটারি। একটা অফিসেও আমি আজ পর্যন্ত যাইনি। তাহলে কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছে আমি জানি না। শুধু বললেই হবে না তথ্যপ্রমাণ দিক।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা চাইলেই ইভিএম এর মাধ্যমে জালিয়াতি করতে পারবেন এবং কাউন্সিলরদের সমর্থন দিয়ে প্রত্যেকটি দলের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, সদ্য সমাপ্ত চট্টগ্রাম উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয় লাভ করেছে। আবার বগুড়ার দুপচাঁচিয়া পৌরসভা নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করেছে। যদি ইভিএমে কারচুপি করার সুযোগ থাকে এবং নির্বাচন নিয়ে কোনো জালিয়াতি হয় তাহলে চট্টগ্রাম ও উপ-নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম কেন? সরকারের যদি এখানে খারাপ কোনো উদ্দেশ্য থাকতো তাহলে তো নির্বাচনে উপস্থিতির সংখ্যা বেড়ে যেতো! নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে এমন অভিযোগ করা যুক্তিহীন।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যতগুলো নির্বাচন ইভিএম পদ্ধতিতে হয়েছে তারা বলুক কোন জায়গায় কখন কিভাবে নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে, একটা অন্তত উল্লেখ করুক। কোনো তথ্য প্রমাণ নেই তারা শুধু বলার জন্য বলেই যাচ্ছেন।

এর আগে ব্র্যাকের প্রশিক্ষিত নারী গাড়ি চালকদের মধ্যে সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠানের বক্তব্য তিনি বলেন, রাজনীতি এখন বেপরোয়া হয়ে গেছে। রাস্তায় গাড়ি চালকরা যেমন বেপরোয়া থাকে তেমনি পথচারীরাও বেপরোয়াভাবে রাস্তা পারাপার হন।

ব্র্যাকের গাড়িচালক প্রশিক্ষণের উদ্যোগের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ব্রাক সব সময় তৃণমূল নিয়ে কাজ করে। তাদের এই গাড়িচালক প্রশিক্ষণ তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।

নারী প্রশিক্ষণার্থীদের এই ৮ম ব্যাচে মোট ১১ জন প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন। উত্তরার ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে ৩ মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণ শেষে এদের শতভাগই উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং লাইসেন্স পেয়েছেন।

এ পর্যন্ত এই স্কুল থেকে অপেশাদার মৌলিক গাড়িচালনা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৮৮ জন, যার মধ্যে ১ হাজার ৯৭৩ জন নারী। পেশাদার চালকের প্রশিক্ষণ পেযেছেন ১০ হাজার ৩৭৩ জন, যার মধ্যে ২১৪ জন নারী। ৫৯৯ জন নারীকে মোটর সাইকেল চালনার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। এদের অনেকেই সরকারি, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় উন্নয়ন সংস্থা ও বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে চাকরি করছেন।

২০১১ সাল থেকে ব্র্যাকের কমিউনিটি রোড সেফটি অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রামের আওতায় এ পর্যন্ত ১২ লাখেরও বেশি মানুষ নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের প্রশিক্ষণ পেয়েছে। ৫ হাজার ৪৫১ জন স্কুলশিক্ষক এবং ৪ লাখ ৯৮ হাজার ছাত্রছাত্রীকে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, ভবিষ্যতে ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুল প্রতিটি জেলা ও বিভাগ পর্যায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। এছাড়াও ব্র্যাক একটি রোড সেফটি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে ইচ্ছুক। আশা করি নারী উন্নয়নে এই উদ্যোগকে সরকার দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেবে। ব্র্যাক সড়ক নিরাপত্তার জন্যে সরকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে যাবে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত