রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

ইশতেহারে ‘চমক’ দেবেন আতিকুল

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

সিটি নির্বাচনের বাকি ছয় দিনে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে নেতা–কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ–মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম।

আজ শনিবার দুপুরে নির্বাচনী প্রচারের ১৬তম দিনে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নদ্দা এলাকার কালাচাঁদপুর মোড়ে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন আতিকুল ইসলাম। আগামীকাল রোববার নির্বাচনী ইশতেহার দেওয়া হবে জানিয়ে আজ তিনি বলেন, ‘রোববার আমার নির্বাচনী ইশতেহার দেব। সেখানে চমক থাকবে। আর সচল, সুস্থ ও মানবিক ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার থাকবে।’

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আর বেশি দিন বাকি নেই। আজ বাদে ছয় দিন আছে। এ ছয় দিনে সব ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে হবে।’ তিনি দলীয় নেতা–কর্মীদের আহ্বান জানান ভোটারদের গিয়ে বলতে হবে একটি আধুনিক ও যানজটমুক্ত শহর গড়তে নৌকায় ভোট দিতে।

আতিকুল ইসলাম বলেন, আপনারা আমাকে উন্নয়নের মার্কা নৌকায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে আমি একটি আধুনিক, সচল, সবুজ ঢাকা গড়ে তুলব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে হলে সঠিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে হবে। আমি সেই সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই। উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমানে ২৪টি পার্ক রয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে আরও ২৪টি পার্ক গড়ে তোলা হবে। এই উন্নয়নে নৌকায় ভোট দেওয়ার বিকল্প নেই।

এরপর সাইকেল চালিয়ে কালাচাঁদপুর বাজারে প্রচার চালান আতিকুল ইসলাম।

তবে আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে জেনে কালাচাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালাচাঁদপুর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেননি আতিকুল ইসলাম।

এই স্কুলের মাঠে মঞ্চ তৈরি করে নির্বাচনী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে সকাল থেকেই স্কুল ও কলেজের বিভিন্ন শ্রেণির ক্লাস চলছিল। তবে সমাবেশের কারণে সকাল সাড়ে ১০টার পর স্কুল ও কলেজের ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়। কালাচাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালাচাঁদপুর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে ক্লাস বন্ধ করে মাঠে নির্বাচনী সমাবেশ ও উচ্চ স্বরে নির্বাচনী গান ও স্লোগান চলছিল। সাড়ে ১০টার পর থেকে স্কুলের বেশির ভাগ ক্লাস বন্ধ করা হয়। তবে কলেজের ক্লাসের সময়েই মাঠে সমাবেশ হয়।

স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্কুলের মাঠে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সমাবেশের অনুমতি নেই। তা ছাড়া তাঁদের কাছ থেকে কেউ অনুমতি নেয়নি।

আজ কালাচাঁদপুর মোড়ে নির্বাচনী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এ মান্নান, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, উত্তরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী জাকির হোসেন, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হাসিনা বারী ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা শহরকে পরিবেশবান্ধব করার জন্য সাইকেল লেন জরুরি। সাইকেলে আমরা আমাদের দৈনন্দিন যাতায়াত করতে পারি। অফিস-আদালতেও যেতে পারি। উন্নত বিশ্বে প্রায় সবাই সাইকেলে যাতায়াত করেন। এতে কারও কোনো মানহানি বা ক্ষতি হচ্ছে না। সাইকেলে অফিসে গেলে আমার সম্মান কিন্তু কমবে না বরং বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘৯ মাস দায়িত্ব পালনকালে আমি আগারগাঁওয়ে ১০ কিলোমিটারের একটি এক্সক্লুসিভ সাইকেল লেন করেছি। আবার নির্বাচিত হলে যতগুলো নতুন রাস্তা করার সুযোগ পাব তার সবগুলোতেই সাইকেল লেন করার চেষ্টা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘তরুণরাও কিন্তু সাইকেল লেন পছন্দ করেন। তারাই আগামীর ভবিষ্যত, যারা যান্ত্রিক নগরীর পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব শহরে থাকতে চায়। ২০-৩০ বছর আগেও আমরা সাইকেলে চড়তাম। কিন্তু আজকাল এটা করা হচ্ছে না। আমি সবাইকে সাইকেল চালানোর অনুরোধ করব। যদি নির্বাচিত হই তবে চেষ্টা করব কিছু কিছু রাস্তায় সাইকেল লেন করার জন্য।’

সমাজে কিছু কারণে অসমতা সৃষ্টি হচ্ছে জানিয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজকাল সমাজে সমতার অভাবও দেখা যাচ্ছে। অনেকে তাদের কী কী ব্রান্ডের গাড়ি আছে তা দেখাচ্ছে। এই দেখানো থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আমরা সবাই মানুষ। সবাই সবাইকে শ্রদ্ধা করব।’

এরপর যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে প্রগতি সরণিতে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি চাই না কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন হোক। এ জন্য স্কুলের মাঠের সমাবেশ বাতিল করে দিয়েছি। এ কাজে কাউকে উৎসাহ দেব না। আমি চাই না নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো শিশু বা ছাত্রছাত্রী থাকুক।’

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় গুলশান স্বাস্থ্য ক্লাব পার্কে গণসংযোগ করেন আতিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, ‘উত্তর সিটি করপোরেশন হবে আধুনিক, সচল ও মানবিক। আমি চাই আমাদের আগামী প্রজন্ম বেড়ে উঠুক সুস্থতায়।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত