মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

গণহত্যার দায় এড়াতে পারে না মিয়ানমার: আইসিজে

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) গণহত্যা কনভেশনের অধীনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলায় আদালত বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) আদেশ ঘোষণা করেছেন। লিখিত আদেশ পাঠ করার সময় আইসিজে বিচারকদের প্রধান বলেছেন, মিয়ানমারের উত্তর রাখাইনে গণহত্যার দায় এড়াতে পারেনা মিয়ানমার।

একইসাথে, ওই গণহত্যার প্রেক্ষিতে গাম্বিয়ার পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পরামর্শ আমলে নিয়ে, মিয়ানমারকে তার প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে অধিকার সংরক্ষণ নিশ্চিত করার আদেশ দিয়েছেন। এছাড়াও, মিয়ানমারকে আদেশ ঘোষণার তারিখ থেকে চারমাসের মধ্যে কার্যক্রমের অগ্রগতি রিপোর্ট আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আদালত বলেছে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে কি না— সেই বিচারের এখতিয়ার জাতিসংঘের এই আদালতের রয়েছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গণহত্যা কনভেনশনের ভিত্তিতে এই মামলা করার মত প্রাথমিক অধিকারও গাম্বিয়ার আছে।

আদালত বলেছেন, গাম্বিয়া স্বনামে এই আবেদন করেছে। এরপর তারা ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থাসহ(ওআইসি) যেকোনো সংস্থা ও দেশের সহযোগিতা চাইতে পারে। তাতে তাদের মামলা করার অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে না বলেও তিনি মনে করেন।

আদালত বলেছে, জাতিসংঘ তথ্য অনুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনে যেসব বিবরণ উঠে এসেছে; তার আলোকে গাম্বিয়া মিয়ানমারকে যে নোট ভারবাল দিয়েছিল তা বিরোধের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

এ বিষয়ে আদালতের এখতিয়ার নেই বলে মিয়ানমার যে দাবি তুলেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এই বিচারপতি। সনদের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোর আওতায় ( ধারা ৮ ও ৯) এই মামলা দায়েরের গাম্বিয়ার প্রাইমা ফেসি অধিকার রয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালত।

আদালত মনে করেন, গণহত্যা সনদের ধারা ২ এর আলোকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী একটি বিশেষ সুরক্ষার অধিকারী (প্রোটেক্টেড) গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচ্য।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের পিস প্যালেসে গত ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর ওই মামলার ওপর শুনানি হয়। তাতে গাম্বিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির বিচার বিষয়ক মন্ত্রী আবুবকর তামবাদু। অন্যদিকে মিয়ানমারের নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সুচি।

আবুবকর তামবাদু শুনানিতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরতার চিত্র তুলে ধরেন। এসময় গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

নৃশংসতার জন্য দায়ী সেনা সদস্যদের বিচার ও সহিংসতা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে মিয়ানমারের উপর আস্থা রাখা যায় না বলে মন্তব্য করে মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানির আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীবালীন নির্দেশনা চান গাম্বিয়ার প্রধান কৌঁসুলি পল রিখলার।

অন্যদিকে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে সুচি দাবি করেন, রাখাইনের পরিস্থিতি সম্পর্কে গাম্বিয়া যে চিত্র আদালতে উপস্থাপন করেছে তা অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর।

এর আগে, নভেম্বরের ১১ তারিখে গাম্বিয়া ইসলামী সহযোগীতা সংগঠনের (ওআইসি) পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আদালতের গণহত্যা কনভেনশনের অধীনে একটি মামলা দায়ের করে। ডিসেম্বরের ১১ ও ১২ তারিখে ওই মামলায় দুই পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই শুনানির প্রেক্ষিতে আদালত আজ (২৩ জানুয়ারি) তার আদেশ ঘোষণা করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর জাতিগত নিধনের উদ্দেশ্যে সেনা অভিযান চালায় মিয়ানমার সরকার। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের হত্যা, নারী ও শিশুদেরদের ধর্ষণ, সম্পদ লুন্ঠন এবং তাদের জমি দখল করে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন। সেনা অভিযানের মুখে ১১ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় স্থাপিত অস্থায়ী ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এছাড়াও, ছয় লাখ পঞ্চাশ হাজার রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখনও রাখাইনে অবস্থান করছে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত